মিরাজুল কবীর টিটো : এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট পরিস্থিতি নিয়ে যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেছেন- যশোরের ৬টি আসনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। বিচ্ছিন্নভাবে কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলেও বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
এছাড়া ভোটেরদিন সারাদিন যশোরে ছিল অন্যরকম পরিবেশ। ভোটাররা আনন্দ ও উৎসবের সাথে কেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোট দিয়েছেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোট কেন্দ্রগুলোর গুলোর আশপাশে যেন ভোটারদের মধ্যে ছিল অন্যতম উদ্দীপনা। ভোটারদের দাবি প্রত্যেক ভোটে এমন পরিবেশ বজায় থাকুক।
উপশহর ইউনিয়নের ৭ নম্বর সেক্টরের ভোটার কাজী জয়নাল আবেদীন বলেন- এর আগে ১৫ বছর আমি ভোট দিতে পারেনি। এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজের ভোট দিতে পেরে আনন্দ লাগছে। সদর উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের বাসিন্দা সহিদ হোসেন জানান, এর আগে এর আগে ভোট দেয়ার পরিবেশ ছিল না। আমি ভোট দিতে কেন্দ্রে যেতে পারেনি। এক যুগ পর এবার আমি ভোট দিতে পেরে আনন্দ লাগছে। একই কথা বলেন একই গ্রামের বাসিন্দা ফয়সল হোসেন। কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে প্রথম ভোট দেন সিয়াম নামে এক ভোটার। তিনি আনন্দের সাথে নিজের ভোট দিয়ে কেন্দ্র থেকে বের হন।
ইছালী ইউনিয়নের বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক মনিরুল ইসলাম বলেন, ১৫ বছর পর আমি নিজের ভোট দিতে পেরেছি। এ ধরনের সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে অনেক আন্দোলন সংগ্রাম করতে হয়েছে। তারই ফল আজকের এ নির্বাচন। নির্বাচনের ভোটাররা পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরেছে।
সদরের বিরামপুর শিলারায় চৌধুরী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার ফুয়দ হোসেন বলেন, এর আগের নির্বাচনের চেয়ে এবারের এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি ভাল। তারা উৎসব মুখর পরিবেশের নিজেদের ভোট দিয়েছে। কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। একই কথা বলেন কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রের সহপ্রিজাইডিং অফিসার আয়েশা সুলতানা।
বিরামপুর শিলারায় চৌধুরী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে পরিদর্শনে আছেন ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিমের সদস্য সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ মাহাবুবুর রহমান, প্রফেসর ড. মুস্তাফিজুর রহমান। তারা ভোট কেন্দ্রগুলে ঘুরে ঘুরে দেখেন। টিমের সদস্য প্রফেসর ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, সুন্দরভাবে ভোট হয়েছে। ভোটাররা স্বতস্ফুর্তভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সেনাবাহিনীর টহল ছিল অব্যাহত ছিল।