কেশবপুরে খাদ্য সংকটে কালোমুখ হনুমান ছড়িয়ে পড়ছে গ্রামে

এখন সময়: বুধবার, ৫ অক্টোবর , ২০২২ ২০:৫০:১৬ pm

সিরাজুল ইসলাম, কেশবপুর : কেশবপুরে উপজেলার ঐতিহ্য কালোমুখ হনুমানের খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। খাদ্যের সন্ধানে তারা এখন দল ভেঙে ছড়িয়ে পড়েছে গ্রাম মহল্লায়। বিভিন্ন ভাবে অত্যাচার করছে তারা গ্রামবাসীর উপর।

কালোমুখ হনুমানের জন্য খ্যাত কেশবপুর উপজেলা। জনশ্রুতিতে প্রচার রয়েছে প্রায় ৪শ’ বছর আগে মাড়োয়াড়িরা তাদের শখের বসে এই কালোমুখ হনুমানকে সাথে নিয়ে আসছিল। কালের বিবর্তনে এর সংখ্যা বিলুপ্ত হতে হতে এখন হাতে গোনার মতো হয়েছে। প্রাচীন ঐতিহ্যের ধারক এই কালোমুখ হনুমানকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি ও বেসরকারিভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও এদের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। ২১ শতকের প্রথমে এর সংখ্যা ছিল ৫৮৫। গত ২ দশক পরে এর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪শ’ এর মতো। এই কালোমুখ হনুমানকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি ভাবে প্রতিদিন তাদের মাঝে বিভিন্ন রকম খাবার বিতরণ করা হয়ে থাকে। 

সোমবার কেশবপুর উপজেলা বনবিভাগের কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল বাহরাম জানান, বর্তমানে কেশবপুরে হনুমানের সংখ্যা রয়েছে ৪শ’ এর মতো। কেশবপুরের প্রাচীন ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি ভাবে তাদের জন্য খাদ্য খাবার বিতরণ করা হয়ে থাকে। ৭ সদস্যের হনুমানের খাদ্য তদারকি কমিটির তদারকিতে যশোরের ১৮ বি কে রোডের মেসার্স আলমগীর ট্রেডাস নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তাদের খাদ্য খাবার বিতরণ করেন। তাদের খাদ্যের তালিকায় রয়েছে পাকা কলা-৫৪ কেজি, বাদাম-৮ কেজি ও পাউরুটি-৬ কেজি। কেশবপুর ৬ টি পয়েন্টে এই খাদ্য খাবার বিতরণ করে থাকে। খাদ্য খাবার বিতরণের পয়েন্টগুলো হলো কেশবপুর উপজেলা পরিষদ, হাসপাতাল চত্বর, সাহাপাড়া, বালিয়াডাঙ্গা দেবালয়ে, ব্রহ্মকাটি, রামচন্দ্রপুর ও মনিরামপুর উপজেলার দূর্গাপুর এলাকা।

প্রতিদিন খাদ্য খাবার বিতরণকারী আতিয়ার রহমান জানান, যে পরিমাণ খাবার বিতরণ করা হয় তা হনুমানের জন্য যথেষ্ট নয়। যার কারণে খাদ্যের অভাবে তারা এখন গ্রাম-মহাল্লায় ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি বিভিন্ন পরিবহনের সাহায্যে তারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। তাছাড়া তারা গ্রাম মহল্লায় গিয়ে মানুষের বসতবাড়ির আঙ্গিনায় প্রবেশ করে বহু ভাবে ক্ষতি করার কারণে মানুষ তাদেরকে অত্যাচার করে থাকে। যার কারণে তারা খাদ্য খাবার বিতরণে বাঁধা দিয়ে আসছে। বহু কারণে হনুমানের সংখ্যা এখন ৪শ’তে দাঁড়িয়েছে।

কেশবপুর উপজেলা বনবিভাগের কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল বাহরাম আরো জানান, কেশবপুর উপজেলার ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে সরকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে। তাদের খাবারের পরিমাণ আরো বাড়াতে হবে। গ্রামবাসীর উপর অত্যাচার ঠেকাতে তাদের জন্য অভয়াশ্রম গড়ে তুলতে হবে।