ইবনে সিনার সিরাপে তেলাপোকা সদৃশ্য পোকা !

এখন সময়: শুক্রবার, ২ ডিসেম্বর , ২০২২ ২৩:৩৬:৪২ pm

আব্দুল মতিন, মণিরামপুর : শ্বাসকষ্ট ও জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিল তিন বছরের ছেলে আসিফুজ্জামান। চিকিৎসার জন্য তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন পরিবারের লোকজন। চিকিৎসক ইবনেসিনা ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটিডে এর Ventisal-L (ভেন্টিসল) নামের সিরাপসহ কয়েকটি ওষুধ প্রেসক্রিপশন করেন। বাজারের একটি ফার্মেসী থেকে সিরাপ কিনে বাড়ি গিয়ে প্যাকেট খুলে ঝাঁকি দিতেই আসিফুজ্জামনের পিতা আসাদুজ্জামানের চোখ কপালে উঠে। পরদিন ফার্মেসীতে এসে বোতল দেখাতেই পৌরশহরের ড্রাগ মালিকদের মধ্যে তোড়পাড় সৃষ্টি হয়।
শিশুটির পিতা আসাদুজ্জামান জানান, তার তিন বছরের ছেলে আসিফুজ্জামান শ্বাসকষ্ট ও জ¦রে আক্রান্ত হয়। গত বুধবার চিকিৎসার জন্য তাকে যশোরশহরস্থ একটি বেসরকারি হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ড. মাহফুজুর রহমানের কাছে নিয়ে যান। চিকিৎসক ছেলের রোগ নিরাময়ে Ventisal-L (ভেন্টিসল) নামের সিরাপসহ কয়েকটি ওষুধ লিখে দেন। তিনি ওই রাতে মণিরামপুর পৌরশহরের একটি ফার্মেসী থেকে সিরাপসহ ওষুধ কেনেন। বাড়ি গিয়ে রাতের খাবার খাওয়ার পর ছেলের ওষুধ খাওয়াতে সিরাপের প্যাকেট খুলে ঝাকি দিতেই তেলাপোকা সদৃশ্য পোকা দেখতে পান। বোতলের মুখটি না খুলেই সাথে সাথে ফার্মেসী মালিককে বিষয়টি অবগত করতে ফোন করেন। পরদিন বৃহস্পতিবার অক্ষত সিরাপের বোতলটি ফার্মেসীর দোকানে নিয়ে আসেন। এ সময় ফার্মেসী মালিক বিষয়টি স্থানীয় ড্রাগ সমিতির নেতৃবৃন্দসহ কোম্পানির স্থানীয় প্রতিনিধিদের অবগত করেন।
ফার্মেসী মালিক মাহিনুল ইসলাম মাহিন জানান, এ ধরনের ঘটনা দেখে ড্রাগ সমিতির নেতৃবৃন্দসহ উপস্থিত অনেকেই হতবাক হন। কোম্পানির স্থানীয় প্রতিনিধিকে অবহিত করা হলে তিনি সিরাপের বোতলটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন।
ইবনেসিনা ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটিডে এর স্থানীয় এমপিও (মেডিকেল প্রমোশন অফিসার) আব্দুল মতিন জানান, বিষয়টি তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
ইবনেসিনা ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটিডে এর যশোর জোনাল অফিসার মোঃ তরিকুল ইসলাম জানান, এই সিরাপটি সারাদেশে ব্যাপক চলে। প্রতি মাসে কয়েক কোটি সিরাপ উৎপাদন হয়। বোতল বাইরে থেকে কেনা হয়। সেখান থেকে এমনটি হতে পারে বলে তিনি প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন। তারপরও সংশ্লিষ্ট ম্যানেজমেন্টকে অবহিত করা হয়েছে। দুই/এক দিনের মধ্যে পুরো বিষয়টি জানা যাবে বলে তিনি দাবি করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ তন্ময় বিশ্বাস বলেন, বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর।