যশোরে সাঁড়াশি অভিযান, পুলিশ আতঙ্কে পালাচ্ছে সন্ত্রাসীরা

এখন সময়: শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল , ২০২৪, ০৩:০৪:২৬ এম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: সন্ত্রাসীদের ধরতে যশোরে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান চলছে। অভিযানে গত তিনদিনে জনপ্রতিনিধিসহ বেশ কয়েকজন আটক হয়েছেন। সন্ত্রাস বিরোধী এই অভিযানে জনপ্রতিনিধি ও দলীয় পদ-পদবীধারী কাউকে ছাড় দিচ্ছে না পুলিশ।  বেআইনি কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ও অপরাধে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে আটক করা হচ্ছে সন্ত্রাসীদের। পুলিশের এমন ‘অ্যাকশন’র মুখে আতঙ্কিত সন্ত্রাসীরা গা ঢাকা দিয়েছে। অনেকে আত্মগোপন করেছে। আবার কেউ কেউ দূরে পালিয়ে যাচ্ছে।

প্রথম তিনদিন কোতয়ালি থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা হয়। গ্রাম পর্যায়েও অভিযান চালানো হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অভিযান চলমান থাকবে। কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বরদাস্ত করা হবে না।

পুলিশের এমন অভিযানে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তির ভাব লক্ষ্য করা গেছে। সন্ত্রাস বিরোধী পুলিশি এই তৎপরতায় সাধারণ মানুষ খুশি। যশোরে সম্প্রতি পরপর কয়েকটি খুন, ছুরিকাঘাতে জখম, ছিনতাই ও চুরির ঘটনায় পুলিশের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়। এমন পরিস্থিতিতে পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদারের নির্দেশে জোরালো অভিযান চালানো হচ্ছে।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, সরকার দলীয় নেতার পরিচয়ে ও জনপ্রতিনিধির হওয়ার প্রভাব খাটিয়ে যশোরে অনেক আগে থেকে সন্ত্রাসীদের মদদ দিচ্ছেন অনেকে। ফলে প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও প্রতিপক্ষকে ছুরিকাঘাতে খুনের ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি যশোরে যে কয়েকটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে তার বেশির ভাগই ছুরিকাঘাতে। এসব হত্যায় জড়িতরা সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী। এসব সন্ত্রাসীরা কাদের শেল্টারে চলে ও আস্তানায় ওঠাবসা করে সেটি নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি শহরের রেলগেট মুজিব সড়কে সরকারি একটি অফিসে হানা দেয়ায় যুবলীগ নেতা মেহবুবুর রহমান ম্যানসেলকে একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন রাতে মদ পানের সময় শহরের পালবাড়ি এলাকার একটি বাড়ি থেকে জাহিদ হোসেন মিলন নামে পৌরসভার একজন কাউন্সিলর আটক হন।

চলতি মাসে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় যশোরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সভায় পুলিশি তৎপরতা বৃদ্ধির বিষয়ে সুপারিশ করা হয়। মিটিং যশোরের পরিস্থিতি ‘ভয়াবহ’ বলে উল্লেখ করেন কেউ কেউ। কিশোর গ্যাং এর তৎপরতা, তাদের পৃষ্ঠপোষক ও আশ্রয় দাতাদের বিরুদ্ধে ‘অ্যাকশান’ নেয়ার দাবি ওঠে ওই সভায়। এরপর নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন।

শুক্রবার সকাল থেকে যশোর শহরে পুলিশের ব্যাপক তৎপরতা ছিল। শহরের দড়াটানাসহ বিভিন্ন মোড়ে ব্যাপক সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এদিন একাধিক মোবাইল টিম ও পুলিশের ‘মোটরসাইকেল পার্টি’ সারা শহরে টহল দেয়। বসানো হয় পুলিশ চেকপোস্ট। শুক্রবার দড়াটানা থেকে চাকুসহ দুই যুবককে আটক করে পুলিশ। তাদের শরীর তল্লাশী করে এ চাকু পাওয়া যায়।

এদিন শহরের দাড়াটানায় পৌরসভার কাউন্সিলরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের একটি মানববন্ধন ও সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল। যুবলীগের দলীয় পরিচয়ে আরো কয়েকজন নেতা পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করলে পুলিশ দড়াটানা এলাকা ঘিরে রাখে। যুবলীগের একটি অংশ দড়াটানায় সন্ত্রাস বিরোধী মিছিল করে।

চলমান অভিযান নিয়ে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) বেলাল হোসাইন বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অভিযান চলছে। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি ঘটনায় যশোরের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এটি অব্যহত থাকবে।