মাগুরায় তীব্র গরমে হাসপাতালে বাড়ছে শিশু রোগী

এখন সময়: মঙ্গলবার, ২১ মে , ২০২৪, ০৭:৪১:০২ এম

 

মাগুরা প্রতিনিধি : প্রতি দিনই বাড়ছে তাপদাহ। এ তাপদাহের ফলে পুড়ছে মাঠ-প্রকৃতিসহ প্রাণিকুল। কোথাও কোনো স্বস্তি নেই গরমে। তাপদাহ বেশি বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা।

সরেজমিন মাগুরা সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, শিশু ওয়ার্ডে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। অনেকে সিট না পেয়ে অবস্থান নিয়েছেন মেঝেতে। শ্বাসকষ্টজনিত কারণে পাশাপাশি বেড়েছে বয়স্ক বৃদ্ধ রোগীর সংখ্যা। শিশু ওয়ার্ডে ঠিকমতো বিদ্যুৎ না থাকায় হাতপাখা দিয়ে চলছে বাতাসের কাজ। শনিবার সকাল থেকে মাগুরা ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে শিশু ও অন্যান্য ওয়ার্ড গুলোতে অতিরিক্ত গরমে আক্রান্ত রোগীদের ভিড় বাড়ছে। গত এক সপ্তাহের মধ্যে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া রোগীর সংখ্যা বেশি মাত্রায় বাড়তে শুরু করছে সদর হাসপাতালে। এরই মধ্যে রোগীর চাপ সামলাতে হাসপাতালের ওয়ার্ডে ডায়রিয়ার রোগীর জন্য শয্যার ব্যবস্থা করতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। ফলে অনেকে বাধ্য হয়ে ওয়ার্ড এর বাইরে মানুষের চলাচলরত রাস্তার মেঝেতে থাকছেন রোগীরা।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য মতে, মাগুরা ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে বর্তমানে ভর্তি আছে ৪৩৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ৪১ জন শিশু ভর্তি রয়েছে। যাদের অধিকাংশ গরম জনিত কারণে ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট ও জ্বরে শহরের খাঁ পাড়া থেকে আসা অনন্যা রহমান কন্যা সন্তান নিয়ে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করেছেন। তিনি জানান, গত পাঁচ দিন ধরে তার দুই মাসের শিশু পাতলা পায়খানা ও জ্বর। পরে হাসপাতালে এসে জানতে পারে শিশুটির নিউমোনিয়া হয়েছে। পৌরসভার কাদিরাবাদ গ্রামের আবু মিয়া তার নাতনি ৩ দিন ধরে পাতলা পায়খানা ও বমি এবং জ্বর রয়েছে। কিন্তু শয্যা না থাকায় হাসপাতালের বারান্দার মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছে। তিনি জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় বাতাসের জন্য ওয়ার্ডের কোনো একটা জানালা খুলতে না পারায় প্রচণ্ড গরমে শিশুসহ আমরা ছটফট করছি। হাতপাখা চালিয়ে গরম নিবারণ করা যাচ্ছে না। যদি এই জানালাগুলো খোলা যেতা তাহলে কিছুটা স্বস্তি হত। হাসপাতালের শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সাজিয়া আক্তার বলেন, ডায়রিয়া পানিবাহিত রোগ। দূষিত পানি পান করার মাধ্যমে এ রোগ হয়। সাধারণত দিনে ৩ বা এর চেয়ে বেশিবার পাতলা পায়খানা হতে শুরু করলে তার ডায়রিয়া হয়েছে বলে ধরে নেয়া যায়। গরম এলে ডায়রিয়ার সমস্যা মারাত্মক আকার ধারণ করে। বিশেষ করে শিশু-কিশোররা এই রোগে বেশি ভুক্তভোগী হয়।

এ বিষয়ে ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. মোহসিন উদ্দিন জানান, অতি গরমে হাসপাতালে দিন দিন শিশুসহ অন্যান্য রোগী বাড়ছে। এক্ষেত্রে পানি ও তরল জাতীয় খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন এই চিকিৎসক। হাসপাতালে গরমে শিশু রোগীর সংখ্যা বেশি বেড়ে যাওয়ায় আমরা খুব চিন্তিত। এ বিষয়ে শিশু রোগীর প্রতি বিশেষ নজর দেয়া হচ্ছে।