Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

❒রোগীর টিকিট নিয়ে যেতে হয় ডাক্তারের ৪ তলার এসি কক্ষে

যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় রোগী মরছে, চলছে অনিয়ম অবহেলা

এখন সময়: শনিবার, ৩০ আগস্ট , ২০২৫, ০৫:০১:৩৫ এম

বিল্লাল হোসেন: যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাসেবায় অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। রাতে ভর্তির পর দায়িত্বরত ইন্টার্নরা রোগীকে ব্যবস্থাপত্র দিতে আসেন না। তারা ৪ তলার এসি কক্ষে সময় কাটান। ৩ তলা থেকে রোগীর টিকিট নিয়ে ব্যবস্থাপত্রের জন্য স্বজনদের তাদের কাছে যেতে হয়। তারা রোগী না দেখে শুধুমাত্র ব্যাখ্যা শুনে দেন চিকিৎসা। ইন্টার্নদের ভুল চিকিৎসা ও অবহেলায় রোগীর মৃত্যু বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ৬ মাসের জন্য প্রশিক্ষণে আসা প্রাইভেট মেডিকেল অ্যাসিস্টেন্টরা বছর পার হলেও হাসপাতাল ছাড়ছেন না। তারাও আউটডোরে রোগীদের ব্যবস্থাপত্র লিখছেন। এছাড়া সিনিয়র কনসালটেন্টের কক্ষে বসে রোগী দেখছেন  মেডিকেল অফিসার। এখানে চিকিৎসাসেবার জন্য আসা রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগের শেষ নেই। 

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের কতিপয় চিকিৎসক সেবিকা, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নানা প্রকার অনিয়মের সাথে জড়িত। তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যে অবহেলার কারণে রোগী ও স্বজনদের মারাত্মক দুর্ভোগে পড়তে হয়। চাহিদামত অর্থ না পেলে কোন কাজই করতে চান না  কর্মচারীরা। বিগতদিনে এসব অনিয়মের ঘটনায় একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন হলেও পরবর্তীতে আর কোন ব্যবস্হা গ্রহন করেননি কর্তৃপক্ষ। ফলে  চিকিৎসক, সেবিকা ও কর্মকর্তা- কর্মচারীরা ফ্রি-স্টাইলে দায়িত্বে অবহেলা করে চলেছেন। সঠিকভাবে কর্তৃপক্ষের তদারকি ব্যবস্থা ও জবাবদিহিতা না থাকায় এমন অবস্থার অবসান হচ্ছে না। অনেকেই ক্ষোভের সাথে বলেছেন, চিকিৎসক মানেই জনগণের সেবক। কিন্তু এ হাসপাতালে হচ্ছে উল্টোটা। সরকারি এ হাসপাতালে অনেক মুমূর্ষু রোগীকে সঠিক সময়ে দেখতে যান না। ভুল চিকিৎসা ও অবহেলায় মারা যাচ্ছেন অনেক রোগী।

গত ৮ আগস্ট মহিলা সার্জারী ওয়ার্ডে ইন্টার্ন ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় আয়েশা বেগম (৪০) নামে এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় মৃতের স্বজনরা ক্ষুব্ধ হয়ে হট্টগোল করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আয়েশা যশোর শহরের আশ্রম রোডের বাবর আলীর স্ত্রী। তার স্বামী জানান, আয়েশা পেটে ও বুকে ব্যথায় আক্রান্ত হলে ৭ আগস্ট  তাকে মহিলা সার্জারী ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছিল।  

গত ২৪ জুন চুড়ামনকাটি গ্রামের মৃত আব্দুল হাই তরফদারের স্ত্রী জাহানারা বেগমকে জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট দেখে মেডিসিন চিকিৎসক রোগীকে করোনারি কেয়ার ইউনিট রেফার্ড করেন। সেখানে ভর্তির পর তার মা বিনা চিকিৎসায় মারা যান। তার ছেলে ওয়াহিদুজ্জামান মিলনের অভিযোগ, করোনারিতে নেয়ার পর তার মার প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট হলেও অক্সিজেন দেয়ার জন্য কোন কর্মচারী পাওয়া যায়নি।  চিকিৎসা অবহেলায় তার মা জাহানারা বেগমের মৃত্যু হয়। এছাড়া বিগত দিনে চিকিৎসকের অবহেলায় মারা যান নড়াইলের নড়াগাতি থানার সাবেক ওসি রোকসানা খাতুনের স্বামী আহসানুল ইসলাম।  এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কিন্তৃ আজ অবধি তদন্ত প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখেনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাসপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ডে জরুরি চিকিৎসা না পেয়ে  সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে চৌগাছা উপজেলার বেড় গোবিন্দপুর গ্রামের অন্তঃসত্ত্বা পলি খাতুনের (২০)  জীবন। সারারাত খোঁজ করেও বিশেষজ্ঞ  চিকিৎসকের দেখা পাননি তার স্বজনেরা। একপর্যায়ে যন্ত্রনায় কাতর হয়ে পড়েন তিনি। পরের দিন পলির সিজার করা হয়। বিভিন্ন ওয়ার্ডে এমন অসংখ্য রোগী  চিকিৎসা অবহেলায় ছটফট করছেন। তারা সরকারি হাসপাতালে রোগীকে ঠিকমত চিকিৎসাসেবা না দিয়ে  ব্যক্তিগত বাণিজ্যকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা আউটেডোরেও (বর্হিঃবিভাগ) ঠিকমত দায়িত্ব পালন করেন না।  তাদের অনুপস্হিতিতে মেডিকেল অফিসার, ইন্টার্ন  নতুবা মেডিকেল অ্যাসিস্টেন্ট রোগীর চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকেন।

অভিযোগ উঠেছে, গত ১০ আগস্ট হাসপাতালের বর্হিঃবিভাগের ১২২ নম্বর কক্ষে  বসে রোগীর ব্যবস্থাপত্র লিখছিলেন রফিকুল ইসলাম নামে একজন মেডিকেল অ্যাসিসটেন্ট। অথচ তিনি চিকিৎসক নন। রফিকুল  ৬ মাসের জন্য সরকারি এ হাসপাতালে মাঠ প্রশিক্ষণে (ফিল্ড ট্রেনিং) এসেছিলেন। ট্রেনিংয়ের নির্দিষ্ট সময় শেষ হলেও তিনি হাসপাতাল ছাড়েননি। তিনি প্রতিনিয়ত অবৈধভাবে চিকিৎসকের কক্ষে বসে রোগীদের ব্যবস্থাপত্র লিখে থাকেন। একই দিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে রোগী দেখছিলেন মেডিকেল অফিসার হৃদয় বাবু। একই দিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে রোগী দেখছিলেন মেডিকেল অফিসার হৃদয় বাবু।

হাসপাতালের প্রশাসনিক বিভাগে মেডিকেল অ্যাসিসটেন্টদের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খাতা-কলমে আনতারা সামিয়া নামে একজন ছাড়া আর কোন মেডিকেল অ্যাসিসটেন্টের হাসপাতালে দায়িত্ব পালনে অনুমতি নেই। অথচ রফিকুল ইসলাম, কবির হোসেন, কাজী শারজিউর রহমান, তহমিনা খাতুন, শোয়েব আক্তার, হাবিবুর রহমান, সাকিব নামের এসব মেডিকেল অ্যাসিসটেন্টরা হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে চিকিৎসকের ভূমিকা পালন করে চলেছেন।

গত কয়েকদিন হাসপাতালে অবস্থান করে দেখা গেছে, ইন্টার্ণ চিকিৎসকরা রয়েছেন মূল চিকিৎসকের ভূমিকায়। তারা ব্যবস্থাপত্রের পাশাপাশি রোগীদের অন্যত্র রেফার্ড করছেন। আবার মৃত্যু সনদও দিচ্ছেন। এছাড়া রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার নির্দেশনা দেন ইন্টার্ন। অনকলে সহকারি রেজিস্ট্রার ও কনসালটেন্টকে না ডেকে তারা রোগীর সব দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। মনে হয় তারাই সব জান্তা।

চুড়ামনকাটির সাবেক ইউপি সদস্য আনিসুর রহমান জানান, তার ছোট ভাইয়ের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে প্রসূতি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থা গুরুতর হলেও কোন চিকিৎসককে ওয়ার্ডে পাওয়া যায়নি। দীর্ঘসময় পর একজন ইন্টার্ন এসে রোগীকে খুলনায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। স্বজনদের বলা হয় জরুরিভাবে সিজার করার ব্যবস্থা এ হাসপাতালে নেই। আনিসুর রহমান আরো জানান, ওই ইন্টার্ন চিকিৎসকের কথার গুরুত্ব না দিয়ে তিনি রোগীকে এখানে রাখেন চিকিৎসাসেবার জন্য। সারারাত প্রসব যন্ত্রণাভোগ করলেও কোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে পাওয়া যায়নি। পরেরদিন সকালে রোগী স্বাভাবিকভাবে সন্তান প্রসব করেন।  আনিসুর রহমান আরও জানান, বিগত দিনে চিকিৎসা অবহেলায় তার একমাত্র ছেলে হারিয়েছে।

গত ২৯ এপ্রিল যশোর-চৌগাছা সড়কের দোগাছিয়ায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হন ছাতিয়ান গ্রামের উজ্জল হোসেন (২৮)। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হলেও কোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আসেননি। ওয়ার্ডে দায়িত্বরত একজন ইন্টার্ন চিকিৎসক উজ্জলকে ঢাকায় রেফার্ড করেন। ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

গত ২০ জুন যশোর-চৌগাছা সড়কের চান্দা-আফরা এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হন দোগাছিয়া গ্রামের হারুন গাজীর ছেলে হৃদয় হোসেন (২৫) ও ইব্রাহিমের ছেলে আবির হোসেন (২০)। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চৌগাছা মডেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।সেখানকার ডাক্তার উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের পাঠিয়ে দেন যশোর জেনারেল হাসপাতালে। এখানে আনার পর রোগীর ব্যবস্থাপত্র দিতে আসেননি কোন সহকারি রেজিস্ট্রার বা কনসালটেন্টের। ওয়ার্ডে দায়িত্বরত ইন্টার্ন দুই রোগীকে সিটিস্ক্যানের নির্দেশনা দেন। পরে তিনি হৃদয়কে ঢাকা মেডিকেলে রেফার্ড করেন।

হাসপাতালের একটি সূত্র জানিয়েছে, কোন শুক্রবার হাসপাতালে ওয়ার্ড রাউন্ডে আসেন না বিশেষজ্ঞরা। অথচ রোস্ট্রারে তাদের ডিউটি উল্লেখ থাকে। কিন্তু তারা সরকারি হাসপাতালের দায়িত্ব পালন করেন না। ফলে রোগীরা ফলোআপ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরের পর ভর্তি হওয়া রোগীদের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা মেলে শনিবার। সরকারি হাসপাতালে রোগীরা সেবা বঞ্চিত হলেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা ক্লিনিক অথবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ব্যক্তিগত বাণিজ্যে ব্যস্ত থাকেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাতের বেলা দায়িত্বরত ইন্টার্নরা ৪ তলায় এসি কক্ষে আরাম করেন। আর মেডিসিন বিভাগে ভর্তি হওয়া রোগীদের টিকিট নিয়ে স্বজনদের ছুটতে হয় চিকিৎসকের কাছে। তারা রোগীর কাছে না গিয়ে রোগের বর্ণনা শুনেই দিয়ে দেন চিকিৎসা। চুড়ামনকাটি গ্রামের মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী এএসএম আব্দুল্লাহ জানান, কিছু দিন আগে তাকে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করা হয়।  রোগীকে ওয়ার্ডে নেওয়ার পর দায়িত্বরত সেবিকা হাতে টিকিট ধরিয়ে বলেন  ৪ তলায় ডাক্তার রয়েছে যান। সেখানে যাওয়ার পর ডাক্তার রোগীকে না দেখে তার কাছ থেকে বর্ণনা শুনে টিকিটে ব্যবস্থাপত্র লিখে দিলেন। তার মা ছাড়া আরও অনেক রোগীকে একইভাবে চিকিৎসা প্রদান করা হয়।

এদিকে বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগীর স্বজনরা জানান, হাসপাতালের কিছু নার্সের ব্যবহার খুব খারাপ। চিকিৎসাসেবার বিষয়ে নার্সের কাছে ২/৩ বার জিজ্ঞাসা করা হলেই তারা দুর্ব্যবহার করে থাকেন। তাদের কর্কট ব্যবহারের কারণে সকল নার্সের দুর্নাম হচ্ছে। রোগীর স্বজন আতিয়ার রহমান, মিজানুর, রোজিনা খাতুন, সুমাইয়া আক্তার, ইসমাইল হোসেনসহ অনেকেই জানান, টাকা ছাড়া কোন কাজ করতে চাননা ওয়ার্ডে দায়িত্বরত ওয়ার্ড বয় ও আয়া। কাজের কথা বলার আগে তাদের হাতে টাকা গুজে দিতে হয়। এমনকি ছাড়পত্র নেওয়ার সময়ও টাকা দেয়া লাগে।

পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগীর স্বজন রহিমা খাতুন জানান, তার রোগীর নাকে নল লাগাতে ১০০ টাকা দিতে হয়েছিল। খোলার সময় আবার টাকা দাবি করা হয়। আরেক রোগীর স্বজন বরকত আলী জানান, ১শ টাকা দেয়ার পর তার রোগীর ক্যাথেটার লাগানো হয়েছে। টাকা দেয়ার আগে ক্যাথেটার লাগাতে তারা গড়িমশি করেন। প্রতিটি ওয়ার্ডে কর্মচারীদের বাণিজ্য আর বাণিজ্য। রোগী ভর্তি থেকে ছাড়পত্র নেয়ার আগ পর্যন্ত নানা অজুহাতে স্বজনদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয়।

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার সুবিতপুর গ্রামের আনিকা জানান, তার মাকে মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তির পর অধিকাংশ ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে। হাসপাতালে সরকারের সরবরহ বিনামূল্যের ওষুধ পাননি। নরমাল সেলাইন পর্যন্ত  বাইরে থেকে কিনে এনেছেন।

আরেক রোগীর স্বজন ওহিদুল ইসলাম জানান, শুনেছি এখানে সরকারিভাবে রোগীদের চিকিৎসার জন্য বিনামূল্যে ওষুধ দেয়। কিন্তু হাসপাতাল থেকে তার রোগীর গ্যাসের ইনজেকশনও দেয়া হয়নি। তার শ্বশুরকে এখানে ভর্তির পর চিকিৎসার জন্য সকল ওষুধ বাইরের ফার্মেসি থেকে কিনে আনতে হয়েছে।

এদিকে আউটডোরে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের ভাষ্যমতে, সরকারি এ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবার জন্য আসা মানুষের দুর্ভোগ ও হয়রানির শেষ নেই।  হাসপাতালে প্রবেশ করা থেকে বের হওয়ার আগ পর্যন্ত এ পরিস্থিতির মধ্যেই তাদের চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে হয়। টিকিট কাউন্টারে দুর্ভোগ, চিকিৎসকের কক্ষে প্রবেশ করতে দুর্ভোগ, ক্যাশ কাউন্টারে দুর্ভোগ, প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে গিয়ে দুর্ভোগ, পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার সময়ও পেতে হচ্ছে দুর্ভোগ। আবার সঠিক সময়ে রিপোর্ট না পাওয়ার কারণে অনেকে চিকিৎসক না দেখিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের দীর্ঘ লাইন পড়ে টিকিট কাউন্টারে। অথচ মাত্র দুটি কাউন্টার থেকে টিকিট বিতরণ করা হয়। যে কারেণ টিকিট পেতে রোগীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষা করতে হয়। টিকিট নিয়ে চিকিৎসকের কক্ষের সামনে গিয়ে আবার দুর্ভোগের মুখে পড়ে রোগীরা। শ’শ’ রোগী সিরিয়ালে থাকলেও দেখা যাচ্ছে চেম্বারে চিকিৎসক নেই। নাস্তার জন্য বের হয়ে আধা ঘন্টায়ও চেম্বারে ফেরেননা চিকিৎসক। আবার চেম্বারে থাকলেও রোগীর চিকিৎসা প্রদানে রয়েছে গাফিলতি। যে কারণে দীর্ঘ সময় লাইনে থেকে রোগীদের দুর্ভোগের কবলে পড়তে হচ্ছে। আবার চিকিৎসক যদি ব্যবস্থাপত্রে পরীক্ষা নিরীক্ষার নির্দেশনা দেন তাহলে ক্যাশ কাউন্টারে টাকা জমা দিতে গিয়ে রোগীদের লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। বেলা ১১ টার পর ক্যাশ কাউন্টারে টাকা জমা নেয়া বন্ধ রাখা হচ্ছে। যে কারণে অনেকেই পরীক্ষা নিরীক্ষার টাকা দিতে ব্যর্থ হন। এজন্য রোগীদের অপেক্ষা করতে হয় পরের দিন পর্যন্ত। আবার টাকার রশিদ কেটে প্যাথলজি বিভাগে রক্ত প্রস্রাব দেওয়ার একদিন পর দেয়া হয় পরীক্ষার রিপোর্ট। রোগীর প্রকৃত চিকিৎসাসেবার আগে এভাবেই কেটে যায় কয়েক দিন। এতে সরকারি হাসপাতালের প্রতি মানুষ আস্থা হারাচ্ছে।

সূত্র জানায়,  বিগত দিনের কর্মকর্তারা হাসপাতালে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে নানা পদক্ষেপ নিলেও তারা বিভিন্ন কারণে সফল হতে  পারেননি। কেননা তাদের পরিকল্পনা পরিকল্পনা সফল ও বাস্তবায়ন হলে অবৈধ উপায়ে অর্থ আদায়ের অনেক পথ বন্ধ হয়ে যাবে। অসাধুদের কারণে সরকারি এ হাসপাতালে অনিয়ম অব্যবস্থাপনা জেকে বসেছে। একের পর এক কলঙ্ক লেগেই আছে।

এ ব্যাপারে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত জানান, তিনি দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকে  হাসপাতালের অনিয়ম বন্ধে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইন্টার্নের ভুল চিকিৎসা ও ডাক্তারের অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর ঘটনা সত্যিই দুঃখজনক। রোগীর স্বজনদের জিম্মি করে ওয়ার্ডবয়-আয়াদের বাণিজ্যের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। শিগগিরই এ অবস্থার পরিবর্তন হবে। রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত ও বিনামূল্যের ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য  চিকিৎসক সেবিকাদের বিভিন্ন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। না মানলে রীতিমতো জবাবদিহিতাও করতে হয়। অনিয়মের শিকার হয়ে কেউ কারো বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Ad for sale 100 x 870 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 225 x 270 Position (4)
Position (4)