রুনু খন্দকার, আলমডাঙ্গা অফিস : প্রতিটি মানুষের জীবনেই কোন না কোন গল্প থাকে, কারো হতাশার আবার কারো সফলতার। জীবন মানেই উত্থান পতন, আনন্দ, বেদনা। তেমনি এক স্বপ্নবাজ তরুণীর গল্প রয়েছে। এ গল্প সমাজ উন্নয়নের গল্প। একটি মেয়ে হাজারো প্রতিকূলতা পাড়ি দিয়ে আশাহত না হয়ে মানুষের জন্য কাজ করে চলেছে। জান্নাতুল ফেরদৌস ঊষা তার শৈশব কেটেছে চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছি ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামে। যখন সে ক্লাস এইটে পড়ে তখন হঠাৎ করে তার বাবা মারা যায়। আর একটা পরিবারে বাবা না থাকলে যে কি কষ্ট সেটা জীবন দিয়ে উপলব্ধি করেন তিনি। অসহায়ত্ব জীবন যাপন করার সময়ই তিনি বুঝতে পারতেন তার মত মানুষদের কেমন পরিস্থিতি হয়। তখন থেকেই তার মানুষের প্রতি মায়া তৈরি হয়। নিজ গ্রামের ফরিদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে প্রাথমিক শেষ করে এম সবেদ আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। দশম শ্রেণিতে উঠার পর বিয়ে হয়ে যায়। বিয়ের পর মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন তিনি। একই গ্রামে বিয়ে হয়। ভালোই চলছিল দাম্পত্য জীবন। শ্বশুর বাড়িতে এসেও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান। কারো চাল নেই,তরকারি নেই তার কাছে আসে। তিনিও খালি হাতে তাদের ফিরিয়ে দেননা। মানুষের জন্য কাজ করা দেখেই গ্রামের মানুষ সবাই এক প্রকার জোর করেই ইউনিয়নের সংরক্ষিত আসনে নির্বাচনে দাঁড় করিয়ে দেয় তাকে। সব চেয়ে ভালোলাগার বিষয় ছিলো নির্বাচনে তার তেমন কোন খরচই হয়নি,সমাজের মানুষই সব খরচ বহন করে এবং বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়। নির্বাচিত হয়ে মানুষের সেবায় কাজ করে গেছেন তিনি। এরপর থেকেই সমাজের জন্য কাজ করা শুরু। ২০১২ সালে সুফিয়া কামাল ফেলো সংগঠনের অধীনে অপরাজিতা নারী নেতৃত্ব প্রদান করেন জান্নাতুল।
একটা এনজিওর মাধম্যে বিনা পারিশ্রমিকে কৃষকের উন্নয়নে কৃষকজোট সংগঠন তৈরি করে সেখানে কৃষকের উন্নয়নে কাজ করেছেন জান্নাতুল । তাদের নায্যমূল্যে সার সরবরাহ, বীজ সরবরাহ, জিকে ক্যানেলে পানির জন মানববন্ধন করেন। এতে করে কৃষক যথেষ্ট উপকার পেয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্পে নাম মাত্র সম্মানী নিয়ে ৬ মাস ক্লাস করান। ৬ মাস হওয়ার পরেও মহিলারা আরও শিখতে চাই। পরবর্তীতে আরও তিন মাস ফ্রিতে তাদের ক্লাস করান। এতে তারা অনেক উপকৃত হয়েছে। এছাড়াও লোকমর্চা একটি সামাজিক সংগঠন। এই সংগঠনের মাধ্যমে, বাল্য বিয়ে,যৌতুক,নারী নির্যাতন, মাদক বিভিন্ন সচেতনতামূলক কাজ করেছে জান্নাতুল। বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন এই সংস্থার মাধ্যমে বিভিন্নভাবে সমাজের মানুষের সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন তিনি। অসহায় মানুষের কথা শুনতে ছুটে গেছেন সমাজের বিভিন্ন জায়গায়। বিশেষ অবদান রাখায় পুরষ্কারও পেয়েছেন। তিনি একজন উদ্যোক্তা। কাজ করেন কুশিকাটার পণ্য নিয়ে। নিজ হাতে তৈরি করেন। এগুলো এলাকার মেয়েদের শিখাচ্ছেন তিনি সম্পূর্ণ ফ্রিতে। তার মত তারাও একদিন সাবলম্বী হয়ে পরিবার ও সমাজের উপকার করবে। এজন্য জাহানারা যুব মহিলা সংস্থা থেকে অদ্বিতীয়া নারী হিসেবে অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন জান্নাতুল। করোনাকালীন সময়ে সাধারণ মানুষের মাঝে মাস্ক বিতরণ করেছেন। তাদের খাবারের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। সচেতনতামূলক বার্তা দিয়েছেন। বিভিন্ন সংগঠনের সহযোগিতা ও নিজ উদ্যোগে অসহায় মানুষের মাঝে শীতে কম্বল বিতরণ করেন তিনি।
এছাড়াও বিভিন্ন সচেতনতামূলক কাজ করে যাচ্ছেন সচেতনতামূলক উঠোন বৈঠক করেছেন। তার ইচ্ছে আছে সমাজের অসহায় মহিলাদের নিয়ে একটা উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার। যেখানে মেয়েরা হাতের কাজ করবে। সমাজ ও পরিবারকে অর্থনৈতিকভাবে সহযোগিতা করতে পারে। নারীরা যেনো সমাজের বোঝা না হয়।