বিল্লাল হোসেন : গত ২৪ ঘন্টায় যশোরে নানা রোগে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে শীতে কারও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও সিভিল সার্জন বলেছেন- শীতজনিত রোগে ১০ জনের মৃত্যুর বিষয়টি সঠিক নয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘন্টায় (৮ ও ৯ জানুয়ারি) ১০ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। তারা হলেন যশোর নতুন উপশহর এলাকার হাসিবুর রহমানের স্ত্রী মনিরা খাতুন (৬৪), খালধার রোড এলাকার মোর্শেদ আলীর ছেলে জুলফিকার আলী (৪৫), চাঁচড়া এলাকার আব্দুল জব্বার গাজীর স্ত্রী সাবিরননেছা (৬৫), মুড়লী মোড়ের জয়নাল আবেদীনের ছেলে সদরুল আলম (৬৩), শার্শা উপজেলার গোগা গ্রামের মৃত গয়রাতুল্লাহর ছেলে শাহাজাহান কবীর (৭০), ঝিকরগাছা উপজেলার কালিতলা এলাকার মোশারফ হোসেনের স্ত্রী সুফিয়া বেগম (৫৫), ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার দুলাল মুন্দিয়া গ্রামের আইনাল হকের স্ত্রী সুখজান নেছা (৬৫), বারবাজারের মান্দার লসকারের ছেলে নজরুল ইসলাম (৫৫), মহেশপুর উপজেলার পান্তাপাড়া আব্দুল করিমের স্ত্রী মাজেদা (৭৫) ও নড়াইল সদর উপজেলার দলজিতপুর গ্রামের মৃত ইউসুফ মুন্সীর ছেলে মহিউদ্দিন মুন্সী (৭৭)। এদের মধ্যে ১ জনের অস্বাভাবিক ও ৯ জনের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএরও) ডা. বজলুর রশিদ টুলু জানান, হাসপাতালের সকল ওয়ার্ডে খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছেন শীতে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন কোন রোগীর মৃত্যু হয়নি। জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার জোবায়ের আহমেদ তাকে নিশ্চিত করেছেন-২৪ ঘন্টায় নানা রোগে আক্রান্ত ১০ জনকে হাসপাতালে (জরুরি বিভাগ) মৃত অবস্থায় আনা হয়। তাদের মধ্যে শীতজনিত রোগে কেউ মারা যাননি। হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. গৌতম কুমার আচার্য্য জানান, হাসপাতালে শীতে কিছু রোগী বেড়েছে। তবে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে এখনো কারো মৃত্যু হয়নি। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত জানান, গত ২৪ ঘন্টায় ১০ জন নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তাদের প্রত্যেককে মৃত অবস্থায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়েছিল। শীতজনিত রোগে ১০ জনের মৃত্যুর বিষয়টি সঠিক নয়। তাদের মৃত্যুর বিষয়টি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। মানুষ মারা যাওয়ার মতো শীত এখনো যশোরে শুরু হয়নি। ফলে মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। তবে শীতে বয়স্ক ও শিশুদের বিশেষ যত্ন নেয়ার পরামর্শ তার। যশোরের সিভিল সার্জন মাসুদ রানা জানান, শীতজনিত রোগীর বিষয়ে প্রতিদিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। শুক্রবার রাত পর্যন্ত যশোর জেলায় শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে কোন রোগীর মৃত্যুর হয়েছে বলে তাকে সরকারিভাবে জানানো হয়নি। যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ২৪ ঘন্টায় শীতে ১০ জনের মৃত্যুর বিষয়ে তার কাছে কোন তথ্য নেই। এমন কিছু হলে হাসপাতাল থেকে তাকে অবগত করা হতো। একজন মেডিকেল অফিসারের রেফারেন্সে এমন খবর প্রচার করা যুক্তিযুক্ত নয়। উল্লেখ্য, টানা ১৫ দিন ধরে যশোরে শীতের দাপট চলছে। হিমেল বাতাস ও ঘন কুয়াশায় জবুথবু অবস্থা। এমন পরিস্থিতির মধ্যে টানা তিনদিন মৃদু শৈত্যপ্রবাহের পর বুধবার প্রথম দেখা মেলে সূর্যের। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ঝলমলে রোদ ছিল। শুক্রবার ভোরে যশোরে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের ১১ দিনের মধ্যে ৫ দিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় যশোরে।