প্রেসবিজ্ঞপ্তি: তেভাগা আন্দোলনের প্রাণপুরুষ ও উপমহাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ কমরেড অমল সেনের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে অমল সেন স্মৃতি রক্ষা কমিটির উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়। শনিবার স্মরণ সভার দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি বাঁকড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে সকাল ১১টায় বালক-বালিকাদের সাইকেল রেস ও দৌড় প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে শুরু হয়। বিকাল ৪টায় সম্প্রীতির র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র্যালিটি গ্রাম প্রদক্ষিণ করে। র্যালি শেষে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন অমল সেন স্মৃতি রক্ষা কমিটির সভাপতি কমরেড ইকবাল কবির জাহিদ, সহ-সভাপতি কমরেড কঙ্কন পাঠক, মিজানুর রহমান, শিক্ষক মিহির ঘোষ, বিথিকা বিশ্বাস, মলয় লস্করসহ আরও অনেকে। এসময় বক্তারা বলেন-কমরেড অমল সেন সারাজীবন এ দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এবং গভীর দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ একজন মানুষ। বর্তমান সময়ে এমন দেশপ্রেম ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা ক্রমেই বিরল হয়ে উঠছে। আলোচনায় বক্তারা অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর যে সরকার দেশের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, তারা নিরপেক্ষ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে কাজ করছে না। বর্তমান সরকারের আমলে সাম্প্রদায়িক হামলা ও মবসন্ত্রাস বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তারা দাবি করেন। বক্তারা বলেন- উগ্র মৌলবাদীরা মৃত মানুষের লাশ কবর থেকে তুলে পুড়িয়ে দিয়েছে এবং দীপু দাস নামে এক ব্যক্তিকে হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়ার মতো নৃশংস ঘটনাও ঘটেছে। বক্তারা আরও বলেন- অন্তর্বর্তী সরকার কখনো কোনো পক্ষ নিতে পারে না, কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য-এই সরকার প্রহসনের গণভোট চালু করেছে। অভিযোগ করা হয়, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে বিজয়ী করতে সরকার রাষ্ট্রযন্ত্র ও বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করছে। সভা থেকে কমরেড অমল সেনের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।