মাগুরা প্রতিনিধি : দীর্ঘদিন পর প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ মাগুরা সদরের টিলা গ্রামে ভাত ভিটা সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যেই টিলা গ্রামে ভাত ভিটা এলাকায় খনন কাজ শেষে তা সংরক্ষণের কাজ করছেন শ্রমিকরা।
সরজমিন মাগুরাটিলা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ভাত ভিটা এলাকায় কিছু শ্রমিক কাজ করছে। দীর্ঘদিন মাটি খননের পর সেখানে ধ্বংসাবশেষ ইটের তৈরিতে গাঁথা বিভিন্ন স্তুপের চারপাশে নতুন করে প্রাচীন নির্মাণ করে তা সংরক্ষণের চেষ্টা করছেন শ্রমিকরা।
শ্রমিক নিপেন চন্দ্র জানান , প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের উদ্যোগে আমরা এখানে দুই মাস ধরে কাজ করছি। প্রথমেই প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এই এলাকায় এসে ভাতের ভিটা পরিদর্শন করে বিভিন্ন বিষয় যাচাই-বাছাই করে যায়। এখানকার ইট, মাটি খুঁড়ে বিভিন্ন জিনিস যাচাই-বাছাই শেষ করে এটি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়। তারপর আমাদের সংরক্ষণের কাজে এ এলাকায় কাজ করতে বলে। আমরা প্রথমে ভাতের ভিটা এলাকায় এসে ধ্বংসস্তূপের চারপাশে খনন কাজ শেষ করি। এখানে পুরাতন জমিদার আমলের ইটের তৈরি একটি ধ্বংসাবশেষ কুটি বাড়ির চিহ্ন রয়েছে। এই বাড়িটি উপরের অংশ একেবারে ধ্বংস হয়ে গেছে হয়ে গেছে। প্রাচীন আমলের ইট,টালি মাটি আর চুনসুর্কি দিয়ে এটি তৈরি হয়েছিল। এখন এই বাড়িটির নিচের অংশে আমরা শুধু ইটের ধ্বংসাবশেষ কিছু চিহ্ন রয়েছে সেটি সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ। ধ্বংস স্তুপের চারপাশের খননেন কাজ শেষ। আমরা এখন ইটের উপর অংশ পরিষ্কার করে রং লাগানোর চেষ্টা করছি।
সদরের টিলা গ্রামের স্থানীয় খোকন মৃধা বলেন, প্রায় ২০০০ বছর আগে আমাদের এই গ্রামে ভীম রাজা নামে একজন বাস করত। তিনি প্রথম এই গ্রামে এ এলাকায় একটি কুঠিবাড়ি তৈরি করেন। তখন এই গ্রামের নাম ছিল ভ্রমর দা। পরবর্তীতে এই ভোমর দা থেকেই এই গ্রামের নামকরণ করা হয় টিলা। ভীম রাজা একজন পরাক্রমণশালী রাজা ছিলেন। তার রাজ্যের বিস্তৃত ছিল সুদূর পাবনা পর্যন্ত। পরবর্তীতে এখানকার নাম হয় ভাতের ভিটা। তিনি আরো জানান, অনেক আগেই প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের উচিত ছিল ঐতিহাসিক ভাতের এ ভিটাটি সংরক্ষণ করার। বর্তমানে এ ঐতিহাসিক স্থানটির গুরুত্ব সারা দেশের মধ্যে অন্যতম। এটি সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করায় আমরা এলাকাবাসী খুবই খুশি।