অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি : দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প, বাণিজ্য ও নদীবন্দর কেন্দ্র যশোরের নওয়াপাড়ায় ড্রেজিং কার্যক্রম নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম অসংগতি। নদের তলদেশ থেকে উত্তোলিত মাটি আবারও ভৈরব নদেই ফেলে দেয়া হচ্ছে এমন অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ ও উদ্বেগ। সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর এই পরিকল্পনাহীন খনন কার্যক্রমে নাব্যতা বাড়ার পরিবর্তে উল্টো নদী ভরাটের ঝুঁকি আরও বেড়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই ভৈরব নদ নাব্য সংকটে ভুগছে। এ সংকট নিরসনে বিআইডব্লিউটিএ নিজস্ব ড্রেজার দিয়ে নিয়মিত খনন চালিয়ে এলেও কার্যকর ফল মিলছে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উত্তোলিত পলি ও বালু পাড়ে ফেলার জন্য নির্দিষ্ট কোনো ডাম্পিং ইয়ার্ড না থাকায় পাইপের মাধ্যমে তা পুনরায় নদীর স্রোতে ফেলা হচ্ছে। ফলে স্রোতের টানে সেই মাটি আবার নদীর তলদেশে জমা হয়ে নদের গভীরতা বৃদ্ধির বদলে ভরাটের প্রক্রিয়াই ত্বরান্বিত করছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে নওয়াপাড়া নদীবন্দরের ওপর। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম ব্যস্ত এই নদীবন্দরটি ধীরে ধীরে তার স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হারাতে বসেছে। বন্দরকে ঘিরে গড়ে ওঠা সার, সিমেন্ট, খাদ্যশস্য ও কয়লাভিত্তিক অসংখ্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং আমদানিকারক ব্যবসায়ীরা পড়েছেন অনিশ্চয়তায়।
নওয়াপাড়া নদীবন্দর রক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে বৃহৎ আকারের ড্রেজিং ও উন্নয়ন প্রকল্পের দাবি জানানো হলেও তা বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। প্রায় ৪৫০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অতীতে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)-এর বৈঠকে উপস্থাপন করা হলেও তা অনুমোদন পায়নি। ফলে বড় প্রকল্পের অভাবে স্থানীয় বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ একটি মাত্র ড্রেজার দিয়ে দায়সারাভাবে নদী সচল রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, ড্রেজিংয়ের মাটি নদীতে বা যত্রতত্র ফেলা বন্ধ করে দ্রুত স্থায়ী ডাম্পিং ইয়ার্ড নির্ধারণ এবং বৃহৎ আকারের কার্যকর ড্রেজিং প্রকল্প বাস্তবায়ন ছাড়া এ সংকট থেকে উত্তরণের কোনো বিকল্প নেই। ড্রেজিংয়ের নামে এই ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ বন্ধ না হলে অচিরেই নওয়াপাড়া নদীবন্দর তার গুরুত্ব ও সক্ষমতা হারাবে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিতে।
এ বিষয়ে নওয়াপাড়া সার, সিমেন্ট, খাদ্যশস্য ও কয়লা ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ শাহ্ জালাল হোসেন বলেন, আমি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছি। শিগগিরই নওয়াপাড়ায় ফিরে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা করব।
এ ব্যাপারে নওয়াপাড়া নদীবন্দরের পরিচালক মাসুদ পারভেজ বলেন, মাটি বা বালু ফেলার জন্য উপযুক্ত জায়গা নির্ধারণে আমরা দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করছি, কিন্তু কোনো সমাধান মিলছে না। ব্যবসায়ীদের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া ড্রেজিংয়ের সুফল পাওয়া সম্ভব নয়। তিনি জানান, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা হলেও কেউ মাটি অপসারণে আগ্রহ দেখাননি। এতে বন্দরের ভাঙা গেট থেকে রাজঘাট পর্যন্ত ড্রেজিং কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।