সিরাজুল ইসলাম, কেশবপুর : কেশবপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের গরালিয়াবিল ও পৌর সভার বলধালিবিল পাড়ের লক্ষাধিক মানুষের মাঝে বন্যা আতংক বিরাজ করছে। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে বন্যা যেনো হাতছানি দিচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলতির কারনে এই ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে বিল এলাকার মানুষের অভিযোগ। কেশবপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের ব্যাসডাঙ্গা, মাগুরাডাঙ্গা, সুজাপুর ও পাঁজিয়া ইউনিয়ন পাঁচবাকাবর্ষি ও রাজনগর বাকাবর্ষী বিলের ভিতর দিয়ে খননকৃত খালটি মঙ্গলকোট ইউনিয়নের বড়েঙ্গা স্লুইসগেটে গিয়ে উঠেছে। ওই খালটি পলি জমে ও কচুরিপানায় সম্পূর্ণ ভরাট হয়ে গেছে। ওই খাল দিয়ে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের কোনো সুযোগ নেই। কেশবপুর পৌর শহরের উপর দিয়ে হরিহার নদীর শহরের হাবিবগঞ্জ ব্রীজের নিকট হতে বলধালিবিলের পানি নিষ্কাশনের খোঁজাখালটি গিয়ে উঠেছে ভবানীপুর স্লুইসগেট পর্যন্ত। ওই খালটি পলি জমে ও কচুরিপানায় সম্পূর্ণ ভরাট হয়ে গেছে। যার ফলে খাল দিয়ে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের কোনো সুযোগ নেই। যার কারণে দুই বিল এলাকার মানুষের মাঝে বছর বর্ষা মৌসুমে বন্যা আতংক বিরাজ করছে। খাল-নদী পূর্ণখননের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের দ্রুত কোনো ব্যবস্থা যদি না নেওয়া হয় তাহলে উপজেলার সদর ইউনিয়নের ব্যাসডাঙ্গা, মাগুরাডাঙ্গা, সুজাপুর ও পাঁজিয়া ইউনিয়ন পাঁচবাকাবর্ষি ও রাজনগর বাকাবর্ষি গ্রাম ও পৌর শহরে কেশবপু গ্রাম, হাবাসপোল ভবানীপুর গ্রাম, মূলগ্রাম মনিরামপুর উপজেলার শ্যামকুর ইউনিয়নে হাসাডাঙ্গা, দূর্বাডাঙ্গা, চালুয়াহাটি ইউনিয়নের রতনদিয়া,গৌরীপুর, আটঘরা গ্রাম এবং সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের কোমরপোল গ্রাম ও ছোট বড়ো বিলখাল বন্যায় প্লাবিত হয়ে যাবে। এবিষয়ে কেশবপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ শহীদ কামাল মিঠু বলেন ব্যাসডাঙ্গা বিলের খালটি খনন করা না হলে বর্ষা মৌসুমে ব্যাসডাঙ্গা, রামচন্দ্রপুর, ব্রক্ষ্মকাটি, বালিয়াডাঙ্গা, মাগুরাডাঙ্গা, খতিয়াখালি, পাঁজিয়া ইউনিয়নের পাঁচবাকাবর্ষি ও রাজনগর বাকাবর্ষি গ্রাম প্লাবিত হয়ে যাবে। কেশবপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আলাউদ্দিন আলা দৈনিক স্পন্দনকে বলেন পৌর সভার খোঁজাখালটি এখন আমার নিজ এলাকার মানুষের মরণফাঁদে পরিনত হয়েছে। ওই খোঁজাখালটি পূর্ণখননের জন্য বহুবার সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষদে দৃষ্টিগোচর করেও তারা কোনো গুরুত্ব দেয়নি। যার কারণে বলধালিবিল ও গালিয়া বলি পাড়ের মানুষের মাঝে বন্যা হাতছানি দিচ্ছে। কেশবপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ফিরোজ হোসেন দৈনিক স্পন্দনকে বলেন গরালিয়া বিলের ব্যাসডাঙ্গা খাল খননের জন্য প্রকল্প অনুমোদন হয়ে গেছে এই মূহুর্তে বর্ষা মৌসুমের আগে ওই খাল খনন করা হবে। আর পৌর সভার খোঁজাখালটি খনন করবে কেশবপুর পৌর সভার। কেশবপুর উপজেলার সাবেক পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী সুমন শিকদার দৈনিক স্পন্দনকে বলেন পৌর শহরে খোঁজা খালটি বহুবার খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু খালটি পৌর শহরের ভিতরে লোকালয়ে কেশবপুর-যশোর মেইন সড়কের পাশদিয়ে গিয়েছে ও খালটি অত্যান্ত শরু হওয়ার কারণে খালকাটা মেশিন ঢোকানোর সুযোগ নেই। তাছাড়া খাল খননের মাটি ফেলার কোনো ব্যাবস্থা না থাকায় খনন করা সম্ভব হয়নি।