Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

ইউটিউব দেখে আঙ্গুর চাষ, বদলে গেছে মহেশপুরের কৃষক রশিদের জীবন

এখন সময়: শনিবার, ১৬ মে , ২০২৬, ০৯:৪২:০৪ এম

অসীম মোদক,মহেশপুর : ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার যুগীহুদা গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদ কয়েক বছর আগেও ছিলেন প্রচলিত ফসলের চাষি। ধান, পাট কিংবা সবজির বাইরে অন্য কোনো ফসল নিয়ে খুব একটা ভাবেননি কখনো। তবে মোবাইল ফোনে ইউটিউব ঘেটে বিদেশি ফল আঙ্গুর চাষের ভিডিও দেখতে দেখতে তার মনে জন্ম নেয় নতুন স্বপ্ন। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে শুরু করেন পরীক্ষামূলক আঙ্গুর চাষ। শুরুতে পরিবার ও আশপাশের মানুষের অনেকেই বিষয়টিকে অবিশ্বাসের চোখে দেখেছিলেন। কিন্তু চার বছরের ব্যবধানে সেই ছোট উদ্যোগই এখন পরিণত হয়েছে সফল বাণিজ্যিক খামারে।
বর্তমানে তার প্রায় পাঁচ বিঘা জমিজুড়ে গড়ে উঠেছে আঙ্গুর বাগান। সেখানে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে রয়েছে প্রায় ২২ জাতের আঙ্গুর। বাগানের প্রতিটি গাছে ঝুলছে থোকায় থোকায় পাকা ফল। দূর থেকে দেখলে যেন বিদেশি কোনো ফলের খামারের দৃশ্য। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি আশপাশের জেলা থেকেও ক্রেতারা আসছেন সরাসরি বাগানে। প্রতিকেজি আঙ্গুর বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা দরে।
সফল চাষি আব্দুর রশিদ জানান-শুরুতে দশ কাঠা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে আঙ্গুর চাষ করেন তিনি। ইউটিউব ভিডিও দেখে চারা রোপণ, মাচা তৈরি, ছাঁটাই, রোগবালাই দমনসহ বিভিন্ন বিষয়ে ধারণা নেন। পরে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরামর্শ নেন। প্রথম বছরেই ভালো ফলন পাওয়ার পর তার আগ্রহ আরও বেড়ে যায়।
তিনি আরো বলেন-শুরুতে প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ হয়েছিল। তখন অনেকেই বলেছিল দেশে আঙ্গুর হবে না। কিন্তু এখন প্রতি মৌসুমে কয়েক লাখ টাকার আঙ্গুর বিক্রি করছি। বিদেশি ফল হলেও এখন স্থানীয় পরিবেশেই ভালো ফলন হচ্ছে।
বাগান ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন সারিতে সাজানো আঙ্গুর গাছের ওপর তৈরি করা হয়েছে মাচা। সেখান থেকে ঝুলছে কালো, সবুজ, লাল ও বেগুনি রঙের বিভিন্ন জাতের আঙ্গুর। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সেখানে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। কেউ পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসছেন, কেউ ছবি তুলছেন, আবার কেউ আগ্রহ নিয়ে জেনে নিচ্ছেন আঙ্গুর চাষের পদ্ধতি।
যশোর থেকে আসা এক দর্শনার্থী সাইদুর রহমান জানান, বাংলাদেশে এভাবে আঙ্গুর চাষ হতে পারে, আগে ভাবিনি। নিজের চোখে দেখে খুব ভালো লাগছে। এখন আমরাও ছোট পরিসরে চাষ করার কথা ভাবছি।
স্থানীয় কয়েকজন নতুন কৃষক জানান, আব্দুর রশিদের সাফল্য দেখে তারাও আঙ্গুর চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। কেউ কেউ ইতোমধ্যে চারা সংগ্রহ করে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ শুরু করেছেন।মহেশপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন সুলতানা বলেন, আঙ্গুর চাষে এখন কৃষকদের আনেক গুনে আগ্রহ বাড়ছে। ফলন বৃদ্ধি, রোগবালাই দমন এবং বাজারজাতকরণ বিষয়ে কৃষি বিভাগ থেকে নিয়মিত পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। নতুন উদ্যোক্তাদেরও প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।
এদিকে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর মহেশপুর উপজেলায় প্রায় ৭.০৯ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে আঙ্গুর চাষ হচ্ছে। কয়েক বছর আগেও যা ছিল একেবারেই বিরল। কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, উচ্চমূল্যের এই ফলের চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে স্থানীয় কৃষকদের আয় বাড়ার পাশাপাশি তৈরি হবে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ুর পরিবর্তন ও প্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে এখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদেশি ফল চাষে আগ্রহ বাড়ছে। সেই ধারাবাহিকতায় ঝিনাইদহে আঙ্গুর চাষও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। আর সেই পরিবর্তনের অন্যতম উদাহরণ হয়ে উঠেছেন কৃষক আব্দুর রশিদ।

Ad for sale 100 x 870 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 225 x 270 Position (4)
Position (4)