নিজস্ব প্রতিবেদক,মহেশপুর : ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় এক গৃহবধূর ঘর থেকে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় নানা গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের পর থানায় প্রতিকার না পেয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী নারী নাজমা খাতুন।
নাজমা খাতুন মহেশপুর উপজেলার মান্দারবাড়ীয়া ইউনিয়নের বাথানগাছি গ্রামের মফিজুর রহমানের স্ত্রী। পারিবারিক টানাপোড়েনের মধ্যেও স্বামী-সন্তান নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন তিনি। তার স্বামী মফিজুর রহমান পেশায় একজন ট্রাক চালক। কাজের প্রয়োজনে অধিকাংশ সময় ঢাকায় অবস্থান করেন এবং মাঝে মধ্যে বাড়িতে আসেন।
নাজমা খাতুন জানান, যাতায়াতের সুবিধার্থে তারা মহেশপুর উপজেলার খালিশপুর তেলপাম্প সংলগ্ন হঠাৎপাড়া গ্রামে জহিরুল ইসলামের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। গত ২৬ ডিসেম্বর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান। তাড়াহুড়ার কারণে ঘরের তালা লাগাতে ভুলে যান বলে জানান তিনি।
ডাক্তারের কাছ থেকে ফিরে এসে তিনি দেখতে পান, বাড়ির মালিক জহিরুল ইসলামের ছেলে জসীম উদ্দিন তার ঘর থেকে বের হয়ে আসছে। এতে সন্দেহ হলে তিনি মেয়েকে ঘরের ভেতরে রাখা চালের ড্রামের মধ্যে সংরক্ষিত স্বর্ণালঙ্কার দেখতে বলেন। পরে দেখা যায়, সেখানে রাখা ১০ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন, ৮ আনা ওজনের স্বর্ণের আংটি, এক জোড়া বালা ও নগদ অর্থ কিছুই নেই।
এ বিষয়ে নাজমা খাতুন বাড়ীর মালিকের ছেলের কাছে জানতে গেলে বিষয়টি অস্বীকার করেন।
পরে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা করেও কোনো সুরাহা না হওয়ায় গত ১ জানুয়ারি তিনি মহেশপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু সেখানে দীর্ঘদিনেও কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় পুলিশের পরামর্শে পরবর্তীতে গত ৭ জানুয়ারি মহেশপুর আদালতে মামলা দায়ের করেন তিনি।
আদালতে দায়ের করা মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, অভিযোগ তুলে নিতে তাকে ও তার পরিবারকে বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি ও চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। এতে পরিবারটি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও মানবেতর জীবনযাপন করছে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে নাজমা খাতুন বলেন, একদিকে স্বামীর চাপ, অন্যদিকে নিজের গহনা চুরি হয়ে গেছে। থানায় গিয়েও সুরাহা পাইনি। এখন আদালতে ঘুরছি। আমি শুধু ন্যায়বিচার চাই।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত জসীম উদ্দিনের পরিবার। এ বিষয়ে জসীম উদ্দিনের বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে তার মা সাংবাদিকদের জানান, ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তারা দীর্ঘদিন আমাদের বাড়িতে ভাড়া থাকলেও নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করতেন না। পরে তারা নিজেরাই চুরি করে অন্যত্র চলে গেছে এবং এখন আমার ছেলের নামে মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে।