Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

❒১১ জনের নামে মামলা, আটক হুসাইনের আদালতে স্বীকারোক্তি

নাতনীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় নানাকে হত্যা

এখন সময়: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন , ২০২৬, ১১:১৮:১৭ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক, মণিরামপুর : যশোরের মণিরামপুরে নাতনীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় বখাটেরা নানা ইনামুল হোসেন (৫০) কে কুপিয়ে হত্যা করেছে। সোমবার রাত ১০ টার দিকে উপজেলার স্মরণপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের স্ত্রী রেশমা খাতুন বাদী হয়ে ১১ জনের নামে মণিরামপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। হত্যাকান্ডে জড়িত অভিযোগে আবু হুসাইন নামের একজনকে আটক করেছে পুলিশ। সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
নিহত ইনামুল হোসেন ঝিকরগাছা উপজেলার ফারাসাতপুর গ্রামের মৃত রহিম সরদারের ছেলে। তার ময়না তদন্ত জন্য যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল মর্গে সম্পন্ন শেষে দাফন হয়েছে।
নিহতের ভাতিজা সাদ্দাম হোসেন জানান, নিহত ইনামুল হোসেনের নাতনী (বোনের মেয়ের মেয়ে) ঝিকরগাছা উপজেলার একটি বালিকা বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণিতে পড়ে। বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার পথে প্রায় ফারাসাত গ্রামের রাব্বি, রাকিব, হুমায়ন, সাকিব, সিয়াম, মেহেদি, চঞ্চল, মিটু, ইউনুস, আরিফ ও রবিউল নামের বখাটেরা উত্ত্যক্ত করতো। শনিবার তিনিসহ নিহত ইনামুল হোসেন তার নাতনীকে উত্ত্যক্ত করার জন্য ওই বখাটেদের বকাঝকা করে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ করতে নিষেধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয় তারা। ঝিকরগাছা উপজেলার ফারাসাত গ্রামটি মণিরামপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী হওয়ায় ওই গ্রামের লোকজন মণিরামপুর উপজেলার স্মরণপুর বাজারে প্রয়োজনীয় কাজ সারেন। ঘটনার দিন রোববার স্মরণপুর বাজার হতে চা পান শেষে বাড়ি ফেরার পথে আগে থেকেই ওঁৎ পেতে থাকা হামলাকারিরা ইনামুল হোসেনের উপর অতর্কিত ঝাপিয়ে পড়ে। তাকে মারধরের এক পর্যায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুত্বর জখম করে ফেলে রাখে। স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথ্যে ইনামুল হোসেন মারা যান।
মণিরামপুর থানার ওসি আবু সাঈদ জানান, নিহত ও ঘটনার সাথে জড়িতদের সবার বাড়ি ঝিকরগাছা উপজেলার ফারাসাতপুর গ্রামে। কিন্তু হত্যাকাণ্ডটি মণিরামপুর উপজেলায় ঘটেছে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
এদিকে, মণিরামপুরে ইনামুল হোসেন হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত অভিযোগে আটক হুসাইন আদালতে স্বীকারোক্তি জবানবন্দি দিয়েছে। নাতনীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ ও জমি নিয়ে বিরোধের জের ধারে ইমামুলকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় সাথে তারা ১০/১২ জন জড়িত বলে জানিয়েছে হুসাইন। মঙ্গলবার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবা শারমিন আসামির এ জবানবন্দি গ্রহণ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
হুসাইন জানিয়েছে, ইমামুলের নাতনির প্রেমের সম্পর্ক ছিল একই গ্রামের বাপ্পীর সাথে। এ সময় তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এছাড়া নিহত ইনামুলের সাথে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল হুসাইনদের। সোমবার রাতে ইনামুল বাড়ি ফিলছিল। পাশের গ্রাম মণিরামপুরের স্মরণপুর তিন রাস্তার বাঁশতলা মোড়ের মতিনের দোকানের সামনে পৌঁছালে তারা ইমামুলের গতিরোধ করে। এসময় পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী হুসাইন প্রথমে তাকে চাপাতি দিয়ে কোপ দিয়ে জখম করে। ইমামুল মাটিতে পড়ে গেলে অন্যরা তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে ফেলে রেখে চলে যায় বলে জানিয়েছে হুসাইন।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, ইনামুল হোসেন রাজমিস্ত্রীর কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তার নাতনী সুমাইয়াকে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছিল ফারাসাতপুর গ্রামের মফিজুল ইসলামের ছেলে রাব্বি। বিষয়টি জানাজানির পর ইমামুল প্রতিবাদ করায় রাব্বি তাকে খুন-জখমের হুমকি দেয়। সোমবার রাতে ইমামুলকে রোহিতার স্মরণপুর গ্রামের আব্দুল মতিনের দোকানের সামনে একা পেয়ে হুসাইন, রাব্বি ও তার লোকজন তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে ফেলে রেখে যায়। গুরুতর আহত ইমামুলকে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আনলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ওই মঙ্গলবার নিহতের স্ত্রী রেশমা বেগম বাদী হয়ে ১১ জনের নামউল্লেখসহ অপরিচিত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
পুলিশ হত্যার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে সোমবার রাতেই হুসাইনকে আটক করে। মঙ্গলবার আটক হুসাইনকে আদালতে সোপর্দ করা হলে হত্যার সাথে নিজে জড়িত ও অপর জড়িতদের নাম উল্লেখ করে আদালতে স্বীকারোক্তি জবানবন্দি দিয়েছে।

Ad for sale 100 x 870 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 225 x 270 Position (4)
Position (4)