অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি : যশোরের অভয়নগরে সদ্য চালু হওয়া স্বপ্ন ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সিজারিয়ান অপারেশনের পর মরিয়ম খাতুন (১৮) নামের এক প্রসূতির মৃত্যু হওয়ায় ভুল চিকিৎসার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনা অভয়নগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মাত্র পাঁচশ গজ দূরে ঘটে। অপারেশনটি মঙ্গলবার (৯ জুন) দিবাগত রাত পৌনে তিনটায় সম্পন্ন হয়। নিহত মরিয়ম খাতুন উপজেলার বাঘুটিয়া গ্রামের হাসান আলী শেখের মেয়ে এবং বেজেরডাঙ্গা ডাকুরিয়া গ্রামের হাসানুর রহমানের স্ত্রী।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে সন্তান প্রসবের জন্য মরিয়মকে ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে ডা. শামীম তাকে অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর সুস্থ একটি পুত্রসন্তানের জন্ম হলেও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও প্রসূতিকে ওটি থেকে বের করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে স্বজনরা উদ্বেগ প্রকাশ করলে কর্তব্যরত নার্সরা তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে। পরিবারের দাবি, ভুল অপারেশনের কারণে ওটির ভেতরেই মরিয়মের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি ধামাচাপা দিতে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ রাত ৩টার দিকে মরিয়মকে খুলনা গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। ডা. শামীম নিজে উপস্থিত থেকে তাকে খুলনায় পাঠানো হলেও গাজী মেডিকেলে পৌঁছানোর পর হাসপাতালের চিকিৎসকরা গাড়ি থেকে নামাতেই অস্বীকৃতি জানায়। পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মরিয়মকে মৃত ঘোষণা করেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে মরিয়মের বাবা হাসান আলী বলেন, আমার এক ছেলে মৃত্যুশয্যায়, আর মেয়েকেও হারালাম। এখন আমার বলার শক্তি নেই।
মরিয়মের নানি অভিযোগ করে বলেন, আমার নাতনির মৃত্যু ওটির ভিতরেই হয়েছে। নিজেদের দায় এড়াতে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ গভীর রাতে নাটক সাজিয়েছে। আমরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
অভিযোগের বিষয়ে ক্লিনিকের চিকিৎসক ডা. শামিমুজ্জামান শামীম বলেন, অপারেশনের পর রোগীর রক্তচাপ হঠাৎ কমে যায়। পরে তাকে হার্ট অ্যাটাক হলে গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। শুনেছি সেখানেই তিনি মারা গেছেন।
অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলিমুর রাজিব বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ ব্যাপারে যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ মাসুদ রানা বলেন, ঘটনার বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। এখনও পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।