Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

❒পানির বদলে দেয়া হয় প্রস্রাব

স্ত্রীকে বেঁধে রেখে হাত-পায়ের রগ কেটে স্বামীকে হত্যা

এখন সময়: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন , ২০২৬, ১১:৩৭:০১ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক : দোকানের খুঁটিতে পিলারে বেঁধে রাখা মায়া বেগম স্বামীর জীবন বাঁচানোর জন্য কাকুতি মিনতি করছিলেন। কিন্তু হামলাকারীদের মন গলেনি। নির্মম নির্যাতনের শিকার জুয়েল রানা (৪০) পানি চেয়েছিলেন। এ সময় পানির বদলে মুখে প্রস্রাব দেয়া হয়। এরপর হাত-পায়ের রগ কেটে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয় তাকে। স্থানীয়রা নির্মম নির্যাতনের ঘটনা দাঁড়িয়ে দেখলেও ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাননি। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে চৌগাছা উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের মুক্তদাহ মোড়ে এ ঘটনাটি ঘটে। রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জের ধরে ইউপি সদস্য নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে এই হত্যা মিশন সফল করা হয়। নিহত জুয়েল রানা মুক্তদাহ গ্রামের ওয়াদুদ খন্দকারের ছেলে।
নিহতের স্ত্রী মায়া বেগম জানান, জুয়েল রানা সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে মুক্তদাহ মোড়ে বসে চা খাওয়ার জন্য যান। এ সময় রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জের ধরে মুক্তদাহ গ্রামের ইউপি সদস্য নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে বাবু, সুমন, ইদ্রিস আলী, ইদ্রিস আলীর ছেলে নাহিদসহ ৮/১০ জন তার ওপর হামলা চালায়। খবর পেয়ে তিনি (মায়া বেগম) ঘটনাস্থলে গেলে তাকে দোকানের খুঁটির সাথে বেঁধে রেখে দুর্বৃত্তরা নির্মম নির্যাতন চালিয়ে তার স্বামী জুয়েল রানাকে হত্যা করা হয়েছে। মায়া বেগম আরও জানান, হামলাকারীরা নানা অপরাধের সাথে জড়িত। তার স্বামী জুয়েল রানা অপরাধ কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করায় জীবন দিতে হলো। তিনি স্বামী হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার দাবি করেছেন।
মায়া বেগম আহাজারি করার সময় বলেন-নির্যাতনের পর পানি খাওয়ার জন্য ছটফট করছিলেন জুয়েল রানা। কিন্তু তাকে পানির বদলে প্রস্রাব দেয়া হয়। তাকে একটি দোকানের পিলারের সাথে বেঁধে রেখে চোখের সামনে জুয়েলের হাত-পায়ের রগ কেটে হত্যা করা হয়েছে। স্বামীর জীবন বাঁচানোর জন্য কাকুতি মিনতি করলেও হামলাকারীদের মন গলেনি। দুর্বৃত্তদের ভয়ে তার স্বামীকে কেউ বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি। নির্যাতন করে ফেলে রেখে যাওয়ার দুই ঘণ্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
স্থানীয়রা জানান, হামলাকারীরা পিটিয়ে জুয়েল রানার দুই পায়ের রগ কাটার আগে হাঁটুর নিচ থেকে ভেঙে দেয়। এছাড়া তার দুই হাতের রগও কেটে দেয় দুর্বৃত্তরা। আত্মীয় স্বজনদের সহায়তায় মায়া বেগম জুয়েলকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন। জুয়েল রানাকে দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে জেনারেল হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মোবাশ্বের হোসেন জানান, জুয়েল রানাকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়। তার দুই হাত, পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন রয়েছে।
এদিন দুপুরে জুয়েলের লাশের ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন হাসপাতালে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য মনির হোসেন।
এলাকাবাসী জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে জুয়েল রানা পাতিবিলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা আতাউর রহমান লালের সমর্থক। গেলো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে নির্বাচন করেছিলেন। হামলাকারীরাও বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জের ধরে প্রতিপক্ষ জুয়েল রানাকে প্রকাশ্যে হত্যা করেছে।
চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুনুর রশিদ জানান, স্থানীয় মেম্বার নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে জুয়েল রানাকে হত্যা করা হয়েছে বলে শুনেছি। তাদের আটকে অভিযান চলছে। ওসি আরও জানান, খবর পাওয়ার দুই ঘন্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে এমন অভিযোগ সঠিক নয়। ৯৯৯ এর কলের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম সেখানে যায়। তিনি নিজেও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

Ad for sale 100 x 870 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 225 x 270 Position (4)
Position (4)