মিরাজুল কবীর টিটো : যশোর উপশহরের ই ব্লকে পানি নিষ্কাশনের জন্য কোন পদক্ষেপ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বৃষ্টি হওয়ায় জলাদ্ধতা বেড়ে যাওয়ায় ব্লকের বাসিন্দাদের দুর্দশা বেড়েছে। অথচ হাউজিং এস্টেটের ড্রেন নির্মাণ প্রকল্প এলাকাবাসির বড় সমস্যার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে হাউজিং কর্তৃপক্ষ বলছে-জলাদ্ধতা নিরসনে প্রকল্প গ্রহণের লক্ষ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আকারে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপশহরে ২০১৯ হাউজিং এস্টেটের উদ্যোগ সাড়ে কোটি টাকা ব্যয়ে ড্রেন নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। ২০২২ সালে প্রকল্পটি শেষ হয়ে যায়। সেই কাজের অংশ হিসেবে ই ব্লকে হাউজিং এস্টেট গভীর ড্রেন নির্মাণ করে। ড্রেনটি ভৈরব নদ পর্যন্ত নির্মাণ করার হবে বলে প্রকল্পে উল্লেখ ছিল। অথচ ড্রেন নির্মাণ করা হলেও বিএডিসির অফিসে আগে পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়। এতে করে ড্রেন দিয়ে পানি নিষ্কাশন হতে পারছে না। ড্রেন নির্মাণের আগে ই ব্লকে পানি বের হতো ই ব্লকের উত্তর পূর্বের শালা ভরা বিল দিয়ে। বিলটি শেখহাটির মধ্যে পড়ে। বিলে চাষাবাদের জমি থাকায় বিল দিয়ে পানি বের হওয়া বন্ধ করে দিয়েছে শেখহাটির এলাকাবাসি।
ব্লকে পানি বের হওয়ার কোন ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতা বেড়ে যাওয়ায় ব্লকের বাসিন্দাদের দুর্দশা বেড়েছে। ই ব্লকের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বাবুল জানান, আগে থেকে ব্লকে জলাবদ্ধতা ছিল। দুই দিন বৃষ্টি হওয়ায় জলাবদ্ধতা বেড়ে যাওয়ায় অনেক বাড়ি বাথরুম ও উঠানে নোংরা পানি ঢুকেছে। নোংরা পানির দুর্গন্ধে বাড়ির বাসিন্দাদের বসবাস করতে সমস্যা হচ্ছে।
ওই ওয়ার্ডে সাবেক মেম্বার হাসান কবির তাজু জানান, জলাবদ্ধতার কারনে ই ব্লকে পূর্ব পাশের রাস্তা তলিয়ে গেছে। অনেক স্থানে ছোটবড় গর্তে সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তাটি দিয়ে ইব্লক বাসি শেখহাটি হাইকোর্টে মোড়ের বাজারে আসা যাওয়া করতো। জলাবদ্ধতার কারনে রাস্তা দিয়ে চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ব্লকের বাসিন্দাদের দুর্দশা দুর করতে জরুরী প্রয়োজন পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা করা। একই কথা জানান জাহিদ নামে আরেক এলাকাবাসী।
এ প্রসঙ্গে হাউজিং এস্টেটের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আশিক আহমেদ সাকিব জানান, ই ব্লকের জলাবদ্ধতা দুর করনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক, হাউজিং এস্টেট কর্তৃপক্ষ সম্মিলিত ভাবে একটি পদক্ষেপ নেয়া হবে। জলাবদ্ধতা দুর করনে প্রকল্প গ্রহণের লক্ষ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আকারে পাঠানো হয়েছে। অনুমতি আসলে প্রকল্প গ্রহণ করে জলাবদ্ধতা দুর করা হবে। তবে খুব শীঘ্রই প্রকল্প গ্রহণ করে জলাবদ্ধতা দুর করা হবে।
এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহরিয়ার হক জানান, ই ব্লকের জলাদ্ধতা দুরকরণে খুব শীঘ্রই পদক্ষেপ নেয়া হবে।