স্পন্দন ডেস্ক : রাঙামাটির বন্যাকবলিত এলাকার অতিদরিদ্র ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে চলতি মাসের ঋণের কিস্তি আদায় না করার অনুরোধ জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। কিস্তি পরিশোধে বিলম্বের কারণে কোনো ধরনের অতিরিক্ত সুদ বা জরিমানা না নিতে সংশ্লিষ্ট এনজিওগুলোকে অনুরোধ করার জন্য রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মিজ নাজমা আশরাফীকে নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী। রোববার রাঙামাটি পার্বত্য জেলার দপ্তর প্রধানদের সাথে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে রাঙামাটি এলাকার এনজিওদের প্রতি তিনি তার অনুরোধের কথা তুলে ধরেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, অত্র এলাকার অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এদের অনেকেই বিভিন্ন কারণে এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছেন। বন্যাকবলিত এইসব ঋণগ্রস্থ মানুষের পক্ষে এই মাসের কিস্তি প্রদান করা দূরহ। যে কারণে কিস্তির টাকা পরবর্তীতে গ্?হণ করা এবং এই বিলম্বের জন্য কোন প্রকার জরিমানা বা সুদ আরোপ না করার বিষয়টি তিনি বৈঠকে উল্লেখ করেন বলে সাংবাদিকদের জানান। জেলা প্রশাসক রাঙামাটি এলাকার এনজিও কর্মকর্তাদের কাছে আমার অনুরোধ পৌঁছে দেবেন বলে তিনি প্রেস ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করেন। রাঙামাটির বিভিন্ন দপ্তর প্রধানদের সাথে বৈঠকের সময় উপস্থিত ছিলেন জনাব অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান এম পি, জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য যুগ্মসচিব সুমন বড়ুয়া, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মোহাম্মদ রিজাউল করিম, সিভিল সার্জন ডা: নূয়েন খীসা, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জালাল উদ্দীন প্রমুখ। এর আগে ওমদামিয়া হিল পৌর জুনিয়র হাই স্কুলে আশ্রয় নেয়া বন্যার্তদের খাদ্য, চিকিৎসা সহ সার্বিক বিষয়ে খোঁজ খবর নেন এবং অভাব অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে তিনি বলেন, আপনাদের পুনর্বাসনের দায়িত্ব সরকারের। বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসলে আপনাদের পুনর্বাসনের জন্য সরকার পরিকল্পনা মাফিক কাজ করবে। এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বাস্তহারাদের বিকল্প জমিতে ঘর করে দিতে চান প্রধানমন্ত্রী। এর আগে প্রতিমন্ত্রী জনাব অনিন্দ্য ইসলাম অমিত চট্রগ্রামের সিএন্ডবি টেকবাজারপোল এলাকার বন্যার্তদের মাঝে শুকনা খাবার ও চাল বিতরণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র ডা.শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম ০৮ আসনের সংসদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন সহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এরপর তিনি নগরীর ১১নং ওয়ার্ড কালীমন্দির এলাকার জেলাপাড়ায় ত্রান বিতরণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। বাজার সংলগ্ন লাকী স্কয়ার কমিউনিটি সেন্টারে ৫০০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন। পরে নগরীর ফইল্লাতলী বাজার সংলগ্ন মহেষ খাল ও বারনীঘাট খাল পরিদর্শন করেন। এ সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের (৩৪ ইসিবি) ডিরেক্টর জেনারেল ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামস সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য ১০ জুলাই রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে চট্রগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সকল সরকারি সংস্থার কার্যক্রমের মধ্যে সুষম সমন্বয় ও নিবিড় তদারকি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে বিশেষ দায়িত্ব অর্পণ করে সরকার।