বিল্লাল হোসেন : যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল নিউরোমেডিসিন (ব্রেন, স্টোক ও স্নায়ু রোগ) বিশেষজ্ঞ ডা. আবু হায়দার মনিরুজ্জামানের চিকিৎসায় নতুন জীবন পেয়েছে শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার (১৫)। টানা ১১ দিনের চিকিৎসাসেবায় ওই শিক্ষার্থী এখন সুস্থ। এতে রোগীর স্বজনেরা চিকিৎসকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। সাদিয়া ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার রুদ্রপুর গ্রামের মৃত রবিউল আউয়াল ওরফে রুবেলের মেয়ে। সে কোটচাঁদপুর গালর্স স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থী। রোগীর স্বজনরা জানান, গত ১৮ জুন শারীরিকভাবে প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে পড়ে সাদিয়া আক্তার। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাসেবায় তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পরিবারের লোকজন চিন্তিত হয়ে পড়েন। পরে তারা রোগীকে নিয়ে ডা. আবু হায়দার মনিরুজ্জামানের শরণাপন্ন হন। চিকিৎসক পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হন সাদিয়া মেনিনগোএনসেফালাইটিসে (ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া দ্বারা ব্রেইন ইনফেকশন) আক্রান্ত। ২০ জুন থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত আন্তরিক চিকিৎসাসেবায় সাদিয়া সুস্থ জীবন ফিরে পেয়েছে। রোগীর খালা কাকলী আক্তার জানান, প্রথমে শারীরিক দুর্বলতার পাশাপাশি সাদিয়ার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুটি গুটি বের হয়। হঠাৎ করে একপাশ হয়ে যায়। তারপর অচেতন হয়ে পড়ে। তারা ভেবেই নিয়েছিলেন হয়তো সাদিয়া আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে পাবেনা। কিন্তু ‘আল্লাহর রহমত আর ডা. আবু হায়দার মনিরুজ্জামানের চিকিৎসায়’ সাদিয়া নতুন জীবন পেয়েছে। ভুক্তভোগী সাদিয়া আক্তার জানান, শারীরিক অসুস্থতার কারণে কোনো কিছুতেই শান্তি খুঁজে পাচ্ছিলাম না। ডা. আবু হায়দার মনিরুজ্জামানের উসিলায় যেন সত্যি নতুন জীবন ফিরে পেয়েছি। অসহনীয় যন্ত্রণা থেকে আল্লাহ আমাকে রেহাই দিয়েছেন। ক্লিনিক্যাল নিউরোমেডিসিন (ব্রেন,স্টোক ও স্নায়ু রোগ) বিশেষজ্ঞ ডা. আবু হায়দার মনিরুজ্জামান জানান, সাদিয়া আক্তার মেনিনগোএনসেফালাইটিসে আক্রান্ত হয়েছিল। তার মস্তিষ্কের ক্ষতিসহ গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি হয়। অচেতন অবস্থায় তার শরীরে জ্বর ওঠানামা করছিলো ১০৫ থেকে ১০৬ ডিগ্রিসেলসিয়াস। রোগীর অবস্থা গুরুতর বুঝতে পেরে একটি বেসরকারি কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। টানা ১১ দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে তাকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়েছে। আল্লাহর রহমতে সাদিয়া এখন সুস্থ। চিকিৎসা সফলতায় তিনি নিজেও অনেক খুশি।