নিজস্ব প্রতিবেদক : মণিরামপুর উপজেলায় বালিধা গ্রামের যুবক আরিফ হোসেন হত্যা মামলায় সৎ পিতাসহ তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। মামলার তদন্ত শেষে আদালতে এ চার্জশিট জমা দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই তারামিয়া। অভিযুক্ত আসামিরা হলো-মণিরামপুর উপজেলার বালিধা গ্রামের জালাল উদ্দিন গাজীর ছেলে নিহতের সৎ পিতা সোহেল মাহমুদ, খুলনা ডুমুরিয়ার রুদাগড়া গ্রামের আরশাদ সরদারের ছেলে ও বালিধা গ্রামের বাসিন্দা ফুয়াদ হাসান সৌরভ এবং একই গ্রামের খাঁজা ফকিরের ছেলে মামুন হোসেন। মামলার অভিযোগে জানা গেছে, আরিফ হোসেনের পিতা আতিয়ার রহমান গরুর ব্যবসা করেন। তার মা কাতার প্রবাসী। আতিয়ার রহমান তার স্ত্রীকে তালাক দেয়ার পর ছেলে আরিফ ও মেয়ে জুনিয়া আক্তার তার পিতার বাড়ি থাকত। চলতি বছরের ১ মার্চ রাতে আরিফ ও তার পিতা একসাথে খাওয়া-দাওয়া করে। আরিফ স্কুল মাঠে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। ভোরে সেহরি খাওয়ার সময় আরিফকে ঘরে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি করে উদ্ধারে ব্যর্থ হয়। সকালে স্থানীয়দের সংবাদের ভিত্তিতে বালিধা গ্রামের বৈরাগী মোড়ের উত্তর বিলে জনৈক আনোয়ারের মাছের ঘেড়ে গিয়ে আরিফের মৃতদেহ ভাসতে দেখে। পুলিশকে সংবাদ দিলে লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় নিহতের বোন জুনিয়া আক্তার বাদী হয়ে অপরিচিত ব্যক্তিদের আসামি করে মণিরামপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্তকালে যশোর ডিবি পুলিশ হত্যার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে সোহেল মাহমুদ ও সৌরভকে আটক করে। পরে অপর আসামি মামুনকে আটক করা হয়। মামলার তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, আতিয়ার রহমান তার স্ত্রীকে তালাক দেয়ার পর আসামি সোহেল মাহমুদ তাকে বিয়ে করে। প্রবাসী স্ত্রী তাকে একটি মোটরসাইকেল কিনে দেয় এবং প্রতি মাসে টাকা দেয়। হঠাৎ সোহেল মাহমুদকে তার প্রবাসী স্ত্রী তালাক দেয়। এ ঘটনায় আরিফকে সন্দেহ করে সোহেল মাহমুদ তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার রাতে আরিফকে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যার পর লাশ ঘের ফেলে দেয় তারা। এ মামলার দীর্ঘ তদন্তকালে আসামিদের আদালতে দেওয়া জবানবন্দি ও সাক্ষীদের বক্তব্যে হত্যার সাথে জড়িত থাকায় ওই তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে এ চার্জশিট জমা দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।