নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্ইুদিনের ব্যবধানে যশোরের বাজারে কাঁচামরিচে ‘আগুন’ লেগেছে। বাজারে মানভেদে কাঁচামরিচের দাম কেজিপ্রতি ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। কেজিতে বেড়েছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। গত বৃহস্পতিবার বাজারে কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছে ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা টাকা দরে। রোববার যশোরের বড়বাজার, চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড বাজার, রেলগেট বাজার ঘুরে এই তথ্য জানা গেছে। এছাড়া একইসঙ্গে বেগুনসহ বিভিন্ন সবজিতে অব্যাহত রয়েছে বাড়তি মূল্যও। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার লাগাতার বৃষ্টি, বাজারে দেশি কাঁচামরিচের ঘাটতিতে মূলত এই দাম বৃদ্ধি হয়েছে। রেলগেট বাজারে বাজার করতে আসা নুরুজ্জামান নামে এক ক্রেতা বলেন, বৃহস্পতিবার ২৪০ টাকা দরে কাঁচামরিচ কিনেছি। আজ রোববার ৩০০ টাকা কেজি দরে কিনেছি। হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে এই ক্রেতা বলেন, দুই দিনের মধ্যে দাম কীভাবে এতো দ্বিগুণ হয়ে যায়? এতো টাকা দরে কাঁচামরিচ কেনা আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য অসম্ভব।’ রহমান নামে এক সবজি বিক্রেতা বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে মরিচের ক্ষেত নষ্ট হওয়ায় সরবরাহ নেই। যশোরের বাজার এখন পুরোপুরি আমদানি নির্ভর হয়ে পড়েছে। বর্ষাকাল না যাওয়া পর্যন্ত মরিচের দাম উর্ধ্বগতি থাকবে।’ এদিকে এদিন প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হয় ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজিতে। উচ্ছে ১২০ টাকা, বরবটি ১০০, কাঁকরোল, ওল, করলা, কচুরলতি, শসা ৮০ টাকা কেজি। পটল, চিচিঙ্গা, ঢেড়স, কচুরমুখি, লাউ বিক্রি হয় ৬০ টাকা কেজিতে। মিষ্টি কুমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কাঁচকলা ৫০ এবং পেঁপে ৩০ টাকা। বিটকপি ৮০ টাকা, টমেটো, গাজর ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়। দোকানভেদে আলু বিক্রি হয় ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজিতে। একাধিক বিক্রেতা জানান, গত কয়েক সপ্তাহ বৃষ্টিতে যশোর ও এর বিভিন্ন উপজেলার সবজির ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে, অনেক সবজির ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। বাইরের জেলা শহরগুলো থেকেও সবজির আমদানি কমেছে। এতে দাম বেড়েছে। অন্যদিকে সবজির বাড়তি দামের কারণে সাধারণ ক্রেতারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। সবজির বাড়তি দামে ক্রেতাদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিক্রেতাদের দেখানো নানা কারণকে অজুহাত বলছেন তারা, দায়ী করছেন সিন্ডিকেটকে। প্রশাসন কর্তৃক নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও বাজার সিন্ডিকেট ভাঙার দাবি ক্রেতাদের। # ৬০০ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হলেও উৎপাদন নেই যশোরে এ বছর প্রায় ৬০০ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হলেও উৎপাদন নেই। যশোরের স্থানীয় কৃষকদের খেতের মরিচ বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে দাম বাড়ছে হু হু করে। যশোরের বাজারের চাহিদা মেটানো হচ্ছে ফরিদপুরের মরিচ দিয়ে। কৃষকেরা বলছেন, অতিবর্ষাতে উৎপাদন নেই বললেই চলে। এ কারণেই সরবরাহ নেই। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়েছে দুই থেকে তিন গুণ। যশোরসহ দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বৃহৎ সবজির হাট যশোরের সাতমাইল বারিনগর। এসব হাট থেকে ব্যাপারীরা পাইকারি দামে সবজি কিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়ে বিক্রি করেন। যশোর শহরের বড় বাজার, চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড, রেল বাজারসহ বিভিন্ন বাজারের বেশির ভাগ সবজি আসে এ হাট থেকে। হাটের ইজারাদার আব্দুস সুবহান বলেন, ‘মাস দু-এক আগে বাজারে দৈনিক এক থেকে দেড় হাজার কেজি পর্যন্ত মরিচ উঠত। এখন সেই মরিচ উঠছে তিন- চার শ’ কেজি। বর্ষাতে মরিচ ক্ষেতে পানি জমে গাছ নস্ট হয়েছে। গাছে পছন ধরেছে। একসময় যশোরের মরিচ সারা দেশে সরবরাহ করা হতো। আর এখন ফরিদপুরের মধুখালী এলাকার মরিচ দিয়ে যশোরে বাজারের চাহিদা পূরণের চেষ্টা করছেন ব্যবসায়ীরা।’ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপপরিচালক মোশারফ হোসেন বলেন, ‘এ বছর যশোর জেলায় প্রায় ৬০০ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষ হয়েছে। গত বছর ছিল সাড়ে ৫ শ’ হেক্টর। এ বছর প্রায় ৫০ হেক্টর বেশি জমিতে আবাদ হলেও খরার পরে অতি বর্ষাতে মরিচক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে উৎপাদন এমনিতেই কম হয়। তার আগে ছিলো খরা। দুই মিলে উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। আশা করছি, মাসখানেক সময়ের মধ্যে উৎপাদন স্বাভাবিক হয়ে যাবে।