মিরাজুল কবীর টিটো : ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে মৎস্য উৎপাদনে সারাদেশের মধ্যে তৃতীয় ও খুলনা বিভাগের মধ্যে প্রথম হয়েছে যশোর জেলা। এ জেলায় চাহিদার তুলনায় ১ লাখ ৭৮ হাজার ৩৩৭ দশমিক ৬৫ মেট্রিকটন মাছ বেশি উৎপাদন হয়েছে। জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে শিল্পকলা একাডেমীতে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় এতথ্য জানান জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুল মামুন। ‘রুপালি মৎস্য স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উদযাপন কমিটির উদ্যোগে তিনদিন ব্যাপী জাতীয় মৎস্য পক্ষ শুরু করা হয়েছে। জেলা মৎস্য অফিসের দেয়া তথ্যানুযায়ী দেয়া তথ্যানুযায়ী, যশোর জেলায় মাছের চাহিদা ৭০ হাজার ২৮০ মেট্রিকটন। উৎপাদন হয়েছে ২ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৭ দশমিক ৬৫ মেট্রিকটন। উদ্বৃত্ত মাছের পরিমান ১ লাখ ৭৮ হাজার ৩৩৭ দশমিক ৬৫ মেট্রিকটন। একই অর্থ বছরে ১৫ হাজার ৮৩৩ দশমিক ৬৭ মেট্রিকটন বিভিন্নমাছ বিদেশে রপ্তানি করে আয় হয়েছে ৪ কোটি ৬ লাখ ৫০ হাজার ৫২৫ মার্কিন ডলার। এছাড়া ২ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৭ দশমিক ৬৫ মেট্রিকটন বিভিন্ন মাছ উৎপাদন করা হয়েছে। এর মধ্যে রুই পোনা উৎপাদন হয়েছে ১ লাখ ৩২ হাজার ৬৪৫ দশমিক ৪৮ মেট্রিকটন, পাঙ্গাস উৎপাদন ৯১২ মেট্রিকটন, তেলাপিয়া উৎপাদন ১৩ হাজার ১৫৯ দশমিক ৭০ মেট্রিকটন, কৈ মাছ উৎপাদন ৩ হাজার ৪৭০ দশমিক ৪৪ মেট্রিকটন, মাগুর উৎপাদন ১৭ হাজার ৮২২ দশমিক ৬৫ মেট্রিকটন, গলদা চিংড়ি উৎপাদন ১২ হাজার ৪৭৭ দশমিক ৩০ মেট্রিকটন, পাবদা উৎপাদন ১৮ হাজার ৭১৩ মেট্রিকটন, বাগদা চিংড়ি উৎপাদন ৩২৭ মেট্রিকটন, অন্যান্য মাছ উৎপাদন হয়েছে ৪০ হাজার ৭৯৪ মেট্রিকটন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (সাধু পানি উপকেন্দ্রের) প্রধান ডাঃ এ এস এম তানভীরুল হক, জেলা জামায়াত ইসলামের সেক্রেটারী আবু জাফর। এ সময় বক্তব্য রাখেন সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুল মামুন, বুক ভরা বাওড়ের কোষাধ্যক্ষ অশোক রায়, জেলা হ্যাচারী মালিক সমিতির সভাপতি জাহিদুর রহমান গোলজার, সাধারণ সম্পাদক সামসুূদ্দিন চৌধুরী সুমন, মৎস্য চাষী মহিরুল ইসলাম, মৎস্য ব্যবসায়ী আলামিন মৃধা প্রমুখ। পরিচালনা করেন সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক আহসান হাবীব পারভেজ। আলোচনা সভা শেষে জেলা পর্যায়ে জাতীয় মৎস্য পদক প্রাপ্ত চাষি ও উদ্যোক্তাদের মাঝে ক্রেস্ট ও সনদপত্র বিতরণ করা। ক্রেস্ট প্রাপ্তরা হলেন-সদর উপজেলায় গুনগত মানের রেনু পোনা উৎপাদনে চৌধুরী মৎস্য হ্যাচারীর প্রোপাইটর ও জেলা হ্যাচারী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সামসুূদ্দিন চৌধুরী সুমন, কার্প জাতীয় মাছ উৎপাদনে অভয়নগরের ফারাজী ফিশ ফার্মের প্রোপাইটর রবিউল আলম, রায় মৎস্য খামারের প্রোপাইটর অভিজিৎ রায়, দেশীয় জাতীয় ছোট মাছ উৎপাদনে মণিরামপুরের মেসার্স সরদার মৎস্য খামারের প্রোপাইটর মহিরুল ইসলাম, পাবদা মাছ উৎপাদনে মেসার্স ফাতেমা মৎস্য খামারের প্রোপাইটর ইসমাইল হোসেন, কার্প জাতীয় মাছ উৎপাদনে কেশবপুরের পদ্মা ফিস প্রকল্পের প্রোপাইটর সাধন কুমার পাল, গুনগত মানের মাছের পোনা উৎপাদনে ঝিকরগাছার মেসার্স মৎস্য নার্সারি এন্ড পোনা সাপ্লাইয়ার্সের প্রোপাইটর রেজউল ইসলাম, কার্প জাতীয় মাঝ উৎপাদনে শার্শার মেসার্স সুমি এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটর শহিদুল ইসলাম, চৌগাছার মৎস্য সম্পদ উন্নয়নের যুব উদ্যোক্তা বিএম নেওয়াজ শরীফ, কার্প জাতীয় মাছ উৎপাদনে আব্দুল আহাদ ও বাঘারপাড়ার মালিহা মৎস্য খামারের প্রোপাইটর আবু বক্কর সিদ্দিকী। এর আগে কালেক্টরেট চত্বর থেকে র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি পৌরপার্কে এসে শেষ হয়। পৌর পার্ক পুকুরে মৎস্য পোনা অবমুক্ত করা হয়।