রুনু খন্দকার, আলমডাঙ্গা : আলমডাঙ্গা উপজেলায় প্রায় ১৯ হাজার শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক শুভেচ্ছাপত্র বিতরণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোমিন মালিতার উদ্যোগে রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে উপজেলার ৬৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। সকাল সাড়ে ৭টায় উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মুন্সিগঞ্জ একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের হাতে শুভেচ্ছাপত্রের খাম তুলে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের ওই চিঠি নিরাপদে বাড়িতে নিয়ে অভিভাবকদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান আয়োজকরা। শুভেচ্ছাপত্রে সন্তানদের প্রতি অভিভাবকদের আরও দায়িত্বশীল ও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। মাদকের সংস্পর্শ, খারাপ সঙ্গ, অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে সময় কাটানো, অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহার এবং অপরিণত বয়সে অনাকাক্সিক্ষত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার মতো বিষয়গুলো থেকে সন্তানদের দূরে রাখতে অভিভাবকদের নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে মোমিন মালিতা বলেন, “তোমরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। এই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক পথে রাখতে হলে মাদক নির্মূল করতে হবে। পরিবার থেকেই সন্তানদের প্রতি সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতা বাড়াতে হবে।” তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, শুভেচ্ছাপত্রটি মূলত তাদের জন্য নয়; তারা এর বাহক মাত্র। শিক্ষার্থীরা যেন কার্ডটি যত্নসহকারে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে অভিভাবকদের হাতে তুলে দেয়, সে আহ্বান জানান তিনি। মোমিন মালিতা বলেন, মাদক একটি পরিবার ও সমাজকে ধ্বংস করে দিতে পারে। ভালো শিক্ষার্থীও মাদকের কারণে বিপথে চলে যেতে পারে। তাই শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তিনি আরও বলেন, “জীবনকে ভালোবাসুন, মাদককে না বলুনÑএই বার্তাটি প্রতিটি পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। মুন্সিগঞ্জ একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সঙ্গে নিজের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা তুলে ধরে মোমিন মালিতা বলেন, ২০০০ সালে এই বিদ্যালয়েই তাঁর এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র ছিল এবং ওই কেন্দ্রে তিনি ভালো ফল করে পুরস্কৃত হয়েছিলেন। ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বহু জ্ঞানী-গুণী মানুষ বের হয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করে তিনি প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগে তাঁর পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি। মোমিন মালিতা আরও বলেন, যে কোনো প্রয়োজনে তোমাদের পাশে আছি, পাশে থাকব। তোমরা আলোকিত মানুষ হয়ে পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য কাজ করবেÑএটাই প্রত্যাশা। কর্মসূচির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আলমডাঙ্গা উপজেলায় মোট ৬৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একই দিনে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৫৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং অন্যান্য কলেজ ও মাদ্রাসা রয়েছে। ছাত্রদলের উপজেলা ও পৌর শাখার নেতাকর্মীদের বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে প্রায় ১৯ হাজার অভিভাবকের কাছে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, পরিবারের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে ইতিবাচক ভূমিকা তৈরি হবে। অনুষ্ঠানে আলমডাঙ্গা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জাহিদ হাসান শুভ, আল ইমরান, আলমডাঙ্গা পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক লিংকন হোসেন, সদস্যসচিব তনময়সহ ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া মুন্সিগঞ্জ একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষক-শিক্ষিকারা উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় মুন্সিগঞ্জ একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে উত্তীর্ণ কৃতি শিক্ষার্থীদের পুরস্কার ও সম্মাননা দেওয়া হয়। মোমিন মালিতা বলেন, আলমডাঙ্গাকে ঘিরে তাঁর আলাদা দায়বদ্ধতা রয়েছে। ভবিষ্যতে দলীয় সিদ্ধান্ত ও সুযোগ পেলে তিনি বৃহত্তর পরিসরে উপজেলার মানুষের জন্য কাজ করতে চান। এদিকে মাদকবিরোধী এ কর্মসূচিকে স্বাগত জানিয়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। তাদের মতে, মাদকের ভয়াবহতা থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান নয়, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত সচেতনতাও জরুরি। শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে অভিভাবকদের কাছে সরাসরি সচেতনতামূলক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগটি এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।