Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

❒মৃত্যু নিয়ে রহস্য, তদন্তের অপেক্ষা

অবশেষে দেশে আসলো পর্তুগাল প্রবাসী জিহাদের মরদেহ, দাফন সম্পন্ন

এখন সময়: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট , ২০২৬, ১১:১৫:০১ পিএম

মাসুম বিল্লাহ : নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে পর্তুগালে মারা যাওয়া যশোরের ইছালীর তরুণ আব্দুল্লাহ আল জিহাদের (২৫) মরদেহ দেশে ফিরেছে। দীর্ঘ ১৩ দিন পর মঙ্গলবার সকালে তার মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায়। পরে স্বজনরা মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ি যশোর সদর উপজেলার ইছালী ইউনিয়নে পৌঁছান। বাদ জোহর ইছালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে জিহাদের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, মুক্তিযোদ্ধা, ব্যবসায়ী, স্বজন ও বিপুলসংখ্যক এলাকাবাসী অংশ নেন। পরে পারিবারিক গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জিহাদের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর একমাত্র সন্তানকে শেষবারের মতো দেখতে স্বজন ও এলাকাবাসীর ঢল নামে। কান্না ও আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। খবর পেয়ে ছুটে আসেন, উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপিকা নার্গিস বেগম, যশোর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আঞ্জুরুল হক খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক ও আসাদুজ্জামান মিঠু, সহসাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান কামরুল, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রেজাউল ইসলাম, জেলা বিএনপির সদস্য গোলাম রেজা দুলু ও কাজী আজম। এছাড়া ইছালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাহমুদ আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক ইকরামুল ইসলাম, ইউনিয়ন কৃষক দলের আহ্বায়ক হারুন অর রশিদ, সহসভাপতি আশরাফ আলী, মহিলা দলের আহ্বায়ক জেসমিন নাহার বর্ষাসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আরও উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের, ইছালী মডেল কলেজের অধ্যক্ষ নূরে আলম সিদ্দিকী, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাফিজ শরীফ, ইছালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আখতারউজ্মাজান এবং মনোহরপুর দাখিল মাদ্রাসা সুপার আব্দুস সাত্তার, রহেলাপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. কোরবান আলী। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের ইউনিয়ন আমির মাওলানা মিজানুর রহমান, ইউনিয়ন জামাতের সমাজ কল্যাণ সম্পাদক কবীর হোসেন। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইছালী ইউনিয়নের সভাপতি আলহাজ আব্দুল কাদের, ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সভাপতি প্রভাষক মনায়েম হোসেন, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান প্রার্থী তবিবার রহমান, অ্যাডভোকেট জুয়েল পরভেজসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও জানাজায় অংশ নেন। মৃত্যু নিয়ে রহস্য, তদন্তের অপেক্ষা আব্দুল্লাহ আল জিহাদ দীর্ঘদিন ধরে পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে বসবাস করছিলেন। সেখানেই তার মৃত্যু হয়। প্রথমদিকে ঘুমের মধ্যে স্ট্রোক করে তার মৃত্যু হয়েছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়লেও পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত্যুর ঘটনায় সন্দেহ প্রকাশ করা হয়। পরিবারের দাবি, জিহাদের মাথা ও কপালে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। ময়নাতদন্ত-পরবর্তী একটি ভিডিওতেও আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে বলে পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন। ঘটনাস্থলে তার চশমা পড়ে থাকা, মোবাইলফোন চার্জে থাকা এবং কাপড়ের সঙ্গে মোবাইল মোড়ানো অবস্থায় পাওয়ার বিষয়টিও পরিবারের সন্দেহের কারণ বলে তারা জানিয়েছেন। তবে জিহাদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। তিনি হত্যা, দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণে মারা গেছেন-এ বিষয়ে পর্তুগালের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। পরিবারের অভিযোগও বর্তমানে তদন্তের বিষয়। জিহাদের স্বজনদের দাবি, তার ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়েও কোনো বিরোধ ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ দ্রুত উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকে পরিবার জিহাদ যশোর সদর উপজেলার ইছালী ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি ইছালী ইউনিয়নের ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা রেজাউল হকের একমাত্র ছেলে। তার দাদা ছিলেন সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জুলফিকার আলী। জিহাদের মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে তার বাবা-মা ও দুই বোন শোকে মুহ্যমান। স্থানীয়রা জানান, প্রবাসে থেকেও এলাকার মানুষের সঙ্গে জিহাদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। অসুস্থ ও অসচ্ছল মানুষের চিকিৎসা ও ওষুধের জন্য আর্থিক সহায়তা, চিকিৎসা সরঞ্জাম পৌঁছে দেয়া, অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণসহ বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ডে তিনি যুক্ত ছিলেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতার কারণে অল্প বয়সেই তিনি এলাকায় পরিচিতি লাভ করেছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে ইছালী ইউনিয়নের মানুষের মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে। জিহাদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তাঁর বাড়িতে স্বজন, প্রতিবেশী, রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ভিড় ছিল। মরদেহ দেশে ফেরার পর সেই ভিড় আরও বেড়ে যায়। এখন স্বজন ও এলাকাবাসীর একটাই দাবি-জিহাদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ দ্রুত উদঘাটন করা হোক। তদন্তে হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক।

উল্লেখ্য ২৪ আগস্ট তার মারদেহ বাংলাদেশে আসার কথা থাকলেও বিমান বুকিং জনিত কারণে সেটি ব্যর্থ হয় এবং ২৬ অথবা ২৭ তারিখে দেশে আসার কথা ছিল। হাই কমিউনিকেশনের কারণে আজই পৌঁছেছে তার লাশ।

Ad for sale 100 x 870 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 225 x 270 Position (4)
Position (4)