বাঘারপাড়া (যশোর) প্রতিনিধি : যশোরের বাঘারপাড়ায় গভীর রাতে এক হিন্দু পরিবারের বাড়িতে ঢুকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে যুবদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। টাকা দিতে না চাইলে বিভিন্ন মিথ্যা মামলা ও পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তারের হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ভয় পেয়ে পরিবারটির কাছে থাকা ১৩ হাজার ৫০০ টাকা দিতে বাধ্য হয় ভুক্তভোগীরা। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে উপজেলার দোহাকুলা ইউনিয়নের গলগলিয়া গ্রামের সুকুমার গাইনের বাড়িতে এ চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী সুকুমার গাইন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে দোহাকুলা ইউনিয়নের কথিত যুবদল সভাপতি আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে ৬-৭ জনের একটি দল সুকুমারের বাড়িতে গিয়ে ডাকাডাকি করে। ভীতি সৃষ্টি করে ঘরের দরজা খুলতে বাধ্য করার পর তারা ঘরে প্রবেশ করে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। সুকুমারের স্ত্রী শিখা গাইন অভিযোগ করে বলেন, “তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বলতে থাকে-‘তোরা ভারতে চলে যাচ্ছিস, আমাদের ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে। না দিলে পুলিশে দেব।’ আমার স্বামী জটিল রোগে আক্রান্ত, তাকে চিকিৎসার জন্য ভারতে নেওয়ার উদ্দেশ্যে সম্প্রতি জমি বিক্রির কিছু টাকা ঘরে রাখা ছিল। আমরা আতঙ্কে ঘরে থাকা ১৩,৫০০ টাকা এনে তাদের হাতে তুলে দিই।” টাকা নেওয়ার পরও আসামিরা প্রায় এক ঘণ্টা ধরে হুমকিধামকি প্রদান করে বলে ভুক্তভোগী পরিবার জানায়। এদিকে, প্রতিবেশী গোলাম মোস্তফা জানান, খবর পেয়ে সুকুমারের বাড়ির দিকে যাওয়ার পথে কুঠিবাড়ি বাজার এলাকায় আনিসুর রহমান, রবি ও বিল্লালসহ কয়েকজনকে দ্রুত সটে পড়তে দেখা যায়। পরদিন সোমবার সকালে উপজেলা মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা চলাকালে ভুক্তভোগী পরিবার সেখানে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি তুলে ধরে। সভায় উপস্থিত স্থানীয় সংসদ সদস্য গোলাম রসুল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ভুপালী সরকার এবং বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাজালাল আলম ঘটনাটি শুনে ভুক্তভোগীদের থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন। এর প্রেক্ষিতে সুকুমার গাইন বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে বাঘারপাড়া থানায় একটি এজাহার জমা দিয়েছেন। এ ঘটনার পর দোহাকুলা ইউনিয়নে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাজালাল আলম জানান, “অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং মামলা রেকর্ডের প্রস্তুতি চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”