Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

রবিউল আসলে আওয়ামী লীগ না বিএনপি ?

এখন সময়: সোমবার, ১২ অক্টোবর , ২০২৬, ১২:২৭:১১ এম
রবিউল আসলে আওয়ামী লীগ না বিএনপি ?

বিল্লাল হোসেন : যশোরের চৌগাছা উপজেলার নারায়ণপুর বিএনপির সক্রিয় কর্মী দাবি করা রবিউল ইসলামকে আওয়ামী লীগের সদস্য পরিচয়ে নাশকতা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর অভিযোগকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ রবিউলের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে সামনে এসেছে দুই ধরনের নথি। ২০১৩ সালের একটি তালিকায় তিনি নারায়ণপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৪৬ নম্বর সদস্য। আবার ২০২৬ সালের ৩ অক্টোবর বিএনপির প্রত্যয়নপত্রে তাকে ‘জন্মগতভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যেই ৫ লাখ টাকা ঘুষ না পেয়ে রবিউলকে নাশকতা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর অভিযোগ উঠেছে চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রহমানের বিরুদ্ধে। রবিউল নারায়নপুর ইউনিয়নের গুয়াতলী গ্রামের মৃত কেরামত আলীর ছেলে। রবিউলের ছেলে আলামিনের অভিযোগ, গত ১ অক্টোবর রাত সোয়া ১১টার দিকে চৌগাছা থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য তার বাবা রবিউল ইসলামকে বাড়ি থেকে ডেকে থানায় নিয়ে যান। সেখানে ওসি মামুনুর রহমান তার বাবাকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ৫ লাখ টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে রবিউলকে থানায় আটকে রাখা হয় এবং পরে একটি নাশকতা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

আলামিনের দাবি, ওসির নির্দেশে এএসআই কাজল, এসআই বিল্লাল, এএসআই মিকাইল ও এএসআই জাকির তার বাবাকে বাড়ি থেকে থানায় নিয়ে যান। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে রবিউলকে ছাড়িয়ে নিতে থানায় যোগাযোগ করা হলে পুলিশের পক্ষ থেকে ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় ওসিসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজির কাছে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন আলামিন। তবে ৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রহমান।

তার দাবি, রবিউলকে আটকের পর তার পরিবারের কেউ তার কাছে আসেননি। কেউ তার কাছে না এলে তিনি ঘুষ দাবি করবেন কার কাছে—এমন প্রশ্নও তুলেছেন ওসি। তার ভাষ্য, রবিউলকে আটকের পর নিয়ম অনুযায়ী নাশকতা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। রবিউলকে কোন রাজনৈতিক দলের কর্মী হিসেবে চিহ্নিত করা হবে, সেটিই এখন আলোচনার বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, ২০১৩ সালের ১৫ নভেম্বর যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিন চাকলাদার ও চৌগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম হাবিবুর রহমান স্বাক্ষরিত নারায়ণপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটির তালিকায় ৪৬ নম্বর সদস্য হিসেবে রবিউল ইসলামের নাম রয়েছে। এই তালিকাকে সামনে রেখে ওসি মামুনুর রহমান বলছেন, রবিউল নারায়ণপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য।

কিন্তু প্রায় ১৩ বছর পর ২০২৬ সালের ৩ অক্টোবর চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম ও নারায়ণপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তরিকুল ইসলাম ডাবলুর স্বাক্ষরিত প্রত্যয়নপত্রে বলা হয়েছে, রবিউল ইসলাম জন্মগতভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং তিনি বিএনপির সক্রিয় সদস্য। রবিউলের পরিবারও একই দাবি করছে। তাদের বক্তব্য, রবিউল দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে অতীতেও তার পরিবার হয়রানির শিকার হয়েছে। নারায়ণপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তরিকুল ইসলাম ডাবলু রবিউলকে বিএনপির সক্রিয় সদস্য বলে দাবি করেছেন।

চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালামও বলেছেন, রবিউল বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তার দাবি, ২০১৩ সালের একটি ‘ভুয়া কমিটির তালিকায়’ রবিউলকে আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে দেখানো হয়েছে। স্থানীয় কিছু মানুষ নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে পুলিশকে ব্যবহার করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে একইসঙ্গে ৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগের বিষয়েও নিশ্চিত কোনো মন্তব্য করেননি এম এ সালাম।

তিনি বলেন, ওসি কোনো আসামিকে ধরলে ছেড়ে দেওয়ার রেকর্ড তার জানা নেই। তাই ওসি ঘুষবাণিজ্য করেন—এমনটা মনে করার কারণ নেই। তার মতে, ৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবির লিখিত অভিযোগটি ষড়যন্ত্রমূলকও হতে পারে।

অন্যদিকে ওসি মামুনুর রহমানের বক্তব্য, রবিউল আওয়ামী লীগের কর্মী। তার কাছে থাকা ২০১৩ সালের কমিটির তালিকায় ৪৬ নম্বর সদস্য হিসেবে রবিউলের নাম রয়েছে। সেই নথির ভিত্তিতেই রবিউলকে আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের। এখন প্রশ্ন উঠেছে, ২০১৩ সালের আওয়ামী লীগের কমিটিতে থাকা রবিউল পরবর্তী সময়ে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছিলেন কি না। যদি হয়ে থাকেন, তাহলে কখন এবং কীভাবে তার রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন হয়েছে, তার কোনো দলীয় নথি বা প্রমাণ রয়েছে কি না সেটিও সামনে আসছে। আবার বিএনপি নেতাদের দাবি অনুযায়ী তিনি যদি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তাহলে ২০১৩ সালের আওয়ামী লীগের কমিটিতে তার নাম কীভাবে এলো, সেটিও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠছে রবিউলকে নাশকতা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়া নিয়েও। পরিবারের অভিযোগ, বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে তাকে আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে পরিচয় করিয়ে মামলায় জড়ানো হয়েছে।

অন্যদিকে পুলিশের বক্তব্য, রবিউল আওয়ামী লীগের সদস্য এবং তার নাম আওয়ামী লীগের কমিটির তালিকায় রয়েছে। ফলে রাজনৈতিক পরিচয় এবং মামলায় গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয়েছে দুই পক্ষের সম্পূর্ণ বিপরীত বক্তব্য। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ। পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ফলে ঘুষ দাবির অভিযোগটি সত্য কি না, তা এখন তদন্তের বিষয়। একই ব্যক্তির নামে ২০১৩ সালের আওয়ামী লীগের কমিটির তালিকা এবং ২০২৬ সালের বিএনপির প্রত্যয়নপত্র—দুই নথি সামনে আসায় রবিউল ইসলামের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। তিনি বর্তমানে কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন, ২০১৩ সালের তালিকায় তার নাম কীভাবে এলো, পরবর্তীতে তার রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন হয়ে থাকলে তার প্রমাণ কী এবং নাশকতা মামলায় তাকে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়ের কোনো ভূমিকা ছিল কিনা এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়। আর রবিউলকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে সত্যিই ৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হয়েছিল কি না, সেটিও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়া প্রয়োজন। কারণ একদিকে পরিবারের গুরুতর অভিযোগ, অন্যদিকে পুলিশের সরাসরি অস্বীকার-দুই বক্তব্যের কোনটি সত্য, তা নিশ্চিত না হয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। ফলে চৌগাছায় এখন আলোচনার কেন্দ্রে এক রবিউল ইসলাম তিনি আসলে আওয়ামী লীগের, নাকি বিএনপির? আর নাশকতা মামলায় তার গ্রেপ্তারের পেছনে রাজনৈতিক পরিচয়ের কোনো প্রভাব ছিল কি না? একইসঙ্গে ওসির বিরুদ্ধে ওঠা ৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগই বা কতটা সত্য?

Ad for sale 100 x 870 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 225 x 270 Position (4)
Position (4)