মিরাজুল কবীর টিটো: আগামী ১৬ অক্টোবর শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপনের লক্ষ্যে যশোরে প্রায় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবারের মধ্যে জেলার সকল মণ্ডপে প্রতিমা স্থাপন কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার ঘোষ। নিবিঘ্ন পূজা উদযাপনের লক্ষ্যে অধিকাংশ মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং জেনারেটরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শুক্রবার ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবারের মধ্যে সকল মণ্ডপে প্রতিমা স্থাপন ছাড়াও সাজসজ্জা ও লাইটিংয়ের কাজ শেষ করা হবে। এছাড়া যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রতিটি মণ্ডপে সম্প্রীতি কমিটি গঠন করা হবে। পূজার সার্বিক নিরাপত্তায় আনসার সদস্যের পাশাপাশি প্রতিটি মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যারা বিশৃঙ্খলা রোধে কাজ করবেন। এদিকে, উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপনের লক্ষ্যে পুলিশের পক্ষ থেকেও ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল পুলিশ, স্ট্রাইকিং ফোর্স, সাদা পোশাকের পুলিশ ও ডিএসবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া পূজা মণ্ডপের আশপাশে যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করবে, যাতে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের কোনো ভোগান্তি পোহাতে না হয়। জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপনের লক্ষ্যে বিএনপির নেতাকর্মীরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে না পারে। চলতি বছর যশোর জেলার মোট ৭৪৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১৭০টি, অভয়নগরে ১৩৩টি, কেশবপুরে ১০২টি, মণিরামপুরে ১০৩টি, বাঘারপাড়ায় ৯২টি, ঝিকরগাছায় ৬১টি, চৌগাছায় ৫৩টি এবং শার্শায় ৩২টি মণ্ডপ রয়েছে। সকলের সম্মিলিত সহযোগিতায় আনন্দঘন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপিত হবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।