‘সেই’ শরিফুলসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে অপহরণ ও মারপিট মামলা

এখন সময়: বুধবার, ১ ফেব্রুয়ারি , ২০২৩ ০৩:১৮:৫০ am

নিজস্ব প্রতিবেদক: মণিরামপুরের শ্রমিক থেকে মন্ত্রণালয়ের পিয়ন আলোচিত শরিফুল ইসলামসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে অপহরণ, মারপিট ও ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়ার অভিযোগে যশোর আদালতে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার মণিরামপুরের নেহালপুর গ্রামের মৃত কেরামত আলীর মোল্যার ছেলে আজহার আলী মোল্যা বাদী হয়ে এ মামলা করেছেন। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শম্পা বসু অভিযোগের তদন্ত করে সিআইডি পুলিশকে প্রতিবেদন জমা দেয়ার আদেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনজীবী শেখ তাজ হোসেন তাজু।

আসামিরা হলো, মণিরমাপুরের নেহালপুর গ্রামের সাহেব আলী মোল্যার ছেলে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের পিয়ন (আউট সোর্সিং) শরিফুল ইসলাম, দুর্গাপুর গ্রামের লুৎফর রহমান ও তার ছেলে হাসান, খানপুর সানতলা গ্রামের শফি স¤্রাট এবং সদরের সিঙ্গে কুয়াদা গ্রামের লুৎফর রহমান রাজুর ছেলে রিয়াদ।

মামলার অভিযোগে জানা গেছে, শরিফুল ইসলাম নওয়াপাড়া ঘাটে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। কয়েক বছর আগে তিনি মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে পিয়ন পদে (আউট সোর্সিং) চাকরি পান। এর মধ্যে তিনি দুর্নীতির মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকা রোজগার করেন। যার মধ্যে তিনি নিজ এলাকায় ১ কোটি ৬ লাখ ৪০ হাজার টাকার সম্পত্তি ক্রয় করেছেন। এ বিষয়টি জানার পর মামলার বাদী আজহার আলী মোল্যা গত ১৯ জানুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশন, সিআইডি ও কর কমিশনারের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। যশোরের বিভিন্ন পত্রিকায়  অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে প্রকাশিত হয়। এ সংবাদ প্রকাশের পর শরিফুল ইসলাম বিষয়টি জনতে পেরে আজহার আলী মোল্যার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে আসামিরা ক্ষতি করার ষড়যন্ত্র শুরু করেন। আসামি লুৎফর রহমান ২০ জানুয়ারি রাতে আজহার আলীকে ফোন করে পরদিন বিকেলে উপজেলা প্রেসক্লাবে দেখা করতে বলেন। আজহার আলী বিকেলে প্রেসক্লাবে যাওয়ার সময় এসিল্যান্ড অফিসের সামনে পৌঁছালে লুৎফর, হাসান, শফি ও রিয়াদ তাকে প্রেসক্লাবে নিয়ে যান। প্রেসক্লাবে যেয়ে দেখেন আসামি শরিফুল ইসলাম সেখানে বসে আছেন। শরিফুল ইসলাম অভিযোগকারী আজহার আলীকে দেখে খুন জখমের হুমকি দেন। আজহার আলী তখন প্রেসক্লাব থেকে বেরিয়ে আসতে চাইলে আসামিরা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আটকে রাখেন। একপর্যায়ে তিনটি ফাঁকা স্ট্যাম্প দিয়ে স্বাক্ষর করে দিতে বলেন। আজহার আলী রাজি না হওয়ায় তাকে মারপিট করে জখম ও মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে স্বাক্ষর করে নেন আসামিরা। চিৎকার শুনে আশেপাশের রুমের লোকজন এগিয়ে আসলে আসামিরা দরোজা খুলে খুন-জখমের হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেন। এ ব্যাপারে মণিরমাপুর থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ তা গ্রহণ না করায় তিনি আদালতে এ মামলা করেছেন।