মোরেলগঞ্জে ঘের দখলকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ২৫

এখন সময়: মঙ্গলবার, ২৫ জুন , ২০২৪, ১২:৪০:৫৩ এম

 

মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধি: বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ১৫ বিঘা জমির একটি মৎস্য ঘের দখলকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলা ও মারপিটে নারী ও শিশুসহ কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছে। মারপিটের এ ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার বেলা ১১ টার দিকে উপজেলার জিউধরা ইউনিয়নের বাইনতলা গ্রামে।

হামলায় আহতরা হলো, আব্দুল খালেক হাওলাদার, শহিদুল ইসলাম, আব্দুল হালিম হাওলাদার, আবু হানিফ হাওলাদার, আব্দুল কাদের হাওলাদার, মো. মানিক হাওলাদার, শাহিনুর বেগম, মিরাজ মল্লিক, মুরাদ হাওলাদার, রবিউল ইসলাম, আব্বাস ফরাজী, আক্কাস ফরাজী, আব্দুল সালাম হাওলাদার, নুর মোহাম্মদ শেখ, হাফিজা বেগম, রুবি বেগম, সেলিনা বেগম, চয়ন হাওলার, জাকির শেখ, রাজু খান, রাকিব শেখ, রুম্মান ও ইমরাজ।

এদের মধ্যে গুরুতর আহত হাত পা ভাঙা অবস্থায় আব্দুল খালেক হাওলাদার, আব্দুল হালিম হাওলাদার, আবু হানিফ হাওলাদার, আব্দুল কাদের হাওলাদার, মানিক হাওলাদার, মুরাদ হাওলাদারকে, আক্কাস ফরাজী, মিরাজ মল্লিক, শাহিনুর বেগমকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। অন্যদেরকে মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। থানা পুলিশ ও এমপির নিকট লিখিত অভিযোগ দেয়ার পরও ঘেরটি নিয়ে বড় ধরণের মারপিটের ঘটনা ঘটনায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, বাইনতলা গ্রামের ১৫ বিঘা জমির মৎস্যঘেরটির মধ্যে ওই গ্রামের আ. হালিম হাওলাদার ও তৈয়ব আলী হাওলাদারের নিজস্ব জমি রয়েছে। তৈয়ব আলী, আব্দুল হালিম হাওলাদারের জমির হারির টাকা না দিয়ে সেখানে কয়েক বছর ধরে ঘের করে আসছে। এ নিয়ে আব্দুল হালিম থানা পুলিশ ও সংসদ সদস্যের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। থানা পুলিশ ও এমপির মনোনীত ব্যক্তিরা সালিশে ঘটনাটি নিষ্পত্তির জন্য ৮-১০ বার সালিশ বৈঠক করে মীমাংসায় ব্যর্থ হয়।

সোমবার তৈয়ব আলীর পক্ষ হয়ে শতাধিক লোক ওই ঘেরে ভেকু মেশিন দিয়ে ভেড়ি বাধ দিতে যায়। এ সময় আবদুল হালিম ও তার লোকজন বাধা দিলে তাদের ওপর হামলা করে তৈয়ব আলীর লোকজন। এক পর্যায়ে আবদুল হালিমের লোকজন ঘের সংলগ্ন নুর মোহাম্মদ শেখের বাড়ির মধ্যে আশ্রয় নিলে তৈয়ব আলীর লোকজন ওই বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাদের এলোপাতাড়ি মারপিট করে গুরুতর জখম করে। এ হামলায় আব্দুল হালিম হাওলাদের পক্ষের নারী শিশুসহ ২৫ জন আহত হয়।

এ ঘটনার জন্য ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান ও জিউধরা ফাঁড়ি পুলিশের আইসি এসআই সুফলকে দায়ী করছেন অনেকে। গুরুতর আহত আব্দুল হালিম হাওলাদার ও তার স্বজনরা জানান, মিজান হাওলাদারের নেতৃত্বে মারপিট করা হয়েছে। এ সময় জিউধরা ফাঁড়ি পুলিশ উপস্থিত থাকলেও কোন ভূমিকা নেয়নি। অপরদিকে আওয়ামী লীগ নেতা মিজানুর রহমান নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, অনাকাঙ্খিত এ ঘটনার জন্য থানা পুলিশের এসআই জহির দায়ী। তার উস্কানিতে মারপিটের ঘটনা ঘটেছে। এস আই জহিরুল ইসলাম বলেন এ ঘের নিয়ে তার কাছে কোন অভিযোগ দেয়নি এবং তিনি কিছু জানেন না।

এ বিষয়ে থানার ওসি মো. সাইদুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে পাঠাতে পুলিশ সহযোগিতা করেছে। এখন পরিস্থিতি শান্ত আছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।