মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত হলে প্রভাব পড়বে বাংলাদেশে : সংসদে প্রধানমন্ত্রী

এখন সময়: বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন , ২০২৪, ০৭:১১:২০ এম

স্পন্দন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত হলে বাংলাদেশে তার প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টির যে আভাস দেখা যাচ্ছে, তা বিশ্বের পাশাপাশি বাংলাদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা যায়। দেশের অর্থনীতিতে এই সংঘাতের কিছুটা প্রভাব আসতে পারে। তবে সরকার এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে আওয়ামী লীগের সদস্য সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুলের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আশঙ্কার বিষয়ে দেশের সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেকে যেন মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ঘটনাপ্রবাহের ওপর নজর রাখে এবং এ বিষয়ে নিজ নিজ করণীয় নির্ধারণ করে। সংঘাত দীর্ঘ হলে কোন কোন সেক্টরে প্রভাব পড়তে পারে তা বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছি।
দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে সীমিত আয়ের মানুষের কষ্ট হলেও এই কষ্ট লাঘবে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, টিসিবির বর্তমান লোকবল দিয়েই সরকার এখন মানুষের সেবা করে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের যাতে কষ্ট না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্রব্যমূল্য বেড়েছে। যার প্রভাব আছে, বিশেষ করে যারা সীমিত আয়ের, তাদের কষ্ট হচ্ছে। তবে গ্রামে যারা নিজেরা উৎপাদন করতে পারেন বা করছেন, তাদের জন্য খুব একটা কষ্ট নেই, হাহাকারও নেই। তবে আমাদের সবসময় প্রচেষ্টা, দ্রব্যমূল্য যেন নিয়ন্ত্রণে থাকে। যে পণ্যের প্রয়োজন, আমরা দেশে যেমন উৎপাদন বাড়ানোর পদক্ষেপ নিয়েছি, তেমনি আমদানিও করে যাচ্ছি, যত টাকাই লাগুক। আমরা কিন্তু খরচ করে যাচ্ছি। যার জন্য আমাদের রিজার্ভেও চাপ পড়ছে। রিজার্ভে চাপ পড়লেও মানুষের কল্যাণই হলো সবচেয়ে বড় কথা।
তিনি বলেন, সরকারের দেওয়া পারিবারিক কার্ডের মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে চালসহ অন্যান্য পণ্য কেনার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। আবার যারা আরও দরিদ্র, তাদের জন্য আরও কমমূল্যে চাল বিক্রির ব্যবস্থা করেছি। যারা হতদরিদ্র, তাদের বিনামূল্যে চাল দিচ্ছি। টিসিবির বর্তমান জনশক্তি দিয়েই কিন্তু আমরা যথাযথভাবে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হচ্ছি।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য আবুল কালামের লিখিত প্রশ্নের জবাবে সরকারপ্রধান বলেন, জনগণের কষ্ট লাঘবে সরকার সবসময় সচেষ্ট। সরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের মূল্য স্বাভাবিক রাখতে সব ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। ভোগ্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি অনেকাংশে সংযত করতে পেরেছি। মূল্যস্ফীতির ওপর বাহ্যিক প্রভাব কমিয়ে আনতে বিলাসদ্রব্য বা অপেক্ষাকৃত কম প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের আমদানি নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।
সরকারদলীয় এমপি মাহফুজুর রহমানের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টায় সারাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। জনসাধারণ উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার সুফল ভোগ করতে পারছেন।
সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধে পদক্ষেপ সংক্রান্ত জাতীয় পার্টির এমপি মুজিবুল হকের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের ট্রাফিক পুলিশ দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। তাদের ঈদ বা ঝড়বৃষ্টি, রোদ বলে কিছু নেই। তারা তাদের কর্তব্য পালন করে যান। কিন্তু মানুষের মধ্যে সচেতনতা না এলে কী করবেন? হেলপার যদি গাড়ি চালায় বা যার লাইসেন্স নেই, সে যে কখন কোন গাড়িতে বসে চালাতে শুরু করে– এটা তো বোঝাও দুষ্কর। আর এভাবে গাড়ি চালাতে গিয়েই দুর্ঘটনা ঘটে। এরা নিজেও মরে, যাত্রীদেরও মারে।
দেশে ব্যক্তিগত গাড়ি বেড়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের মাথাপিছু আয় ও ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে। আমরাও গাড়ি কেনার সুযোগ দিয়েছি মানুষকে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও সুযোগ দিয়েছি। এখন আমাদের গাড়ির সংখ্যা এত বেশি, কিন্তু সেই তুলনায় ড্রাইভারের সংখ্যা খুব কম। আমরা চালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও নিচ্ছি। যাদের ভারী গাড়ি চালানোর কোনো লাইসেন্স নেই তারা যেন সেটা চালাতে না যান। এটা করতে গেলে তা হবে আত্মঘাতী। এই আত্মঘাতী ব্যবস্থা থেকে মানুষকে বিরত রাখতে হবে। এ ব্যাপারে সবাই সচেতন ও সোচ্চার হলে দুর্ঘটনা অনেকটা কমবে। তিনি বলেন, চালকদের দীর্ঘ সময় যাতে একটানা গাড়ি চালাতে না হয়, এ জন্য আমরা তাদের বিশ্রাম নেওয়ার ব্যবস্থা নিচ্ছি। এ জন্য অনেক বিশ্রামাগার তৈরি করা হচ্ছে। এটা হলে চালকরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন।