নড়াইলে পানিতে ডুবে কিশোরের মৃত্যু নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ

এখন সময়: শুক্রবার, ১২ জুলাই , ২০২৪, ০৬:১৮:৩২ পিএম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, নড়াইল: নড়াইল সদর উপজেলার মুলিয়া ইউনিয়নের বনগ্রামে শিবাজিত বিশ্বাস (১৪) নামে এক কিশোরের পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড বলে প্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে।  গত ১৩ জুন দুপুরে বনগ্রামের একটি ঘেরে গোসল করতে গিয়ে শিপন বিশ^াসের ছেলে শিবাজিতের মৃত্যু হয়।

শিবাজিতের পরিবারসহ তার সঙ্গীরা জানায়, ঘেরে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুব দিয়ে শিবাজিত আর উঠতে পারেনি। শিবাজিতের সঙ্গে একই এলাকার সজিব দাস, রহিত ও অন্তর বিশ্বাসও ওই ঘেরে গোসল করতে যায়। ঘেরে ডুবতে দেখে শিবাজিতের সঙ্গীরা তার পরিবারকে দ্রুত খবর দেয়। পরিবারের লোকজন শিবাজিতকে উদ্ধার করে নড়াইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় শিবাজিতের গোসলের সঙ্গী সজিব দাস (১২) জানায়, তারা কয়েকজন মিলে বাড়ির পাশের ঘেরে গোসল করতে গেলে শিবাজিত পানিতে লাফালাফি শুরু করে। সে পানিতে লাফালাফি করতে করতে আর ওপরে উঠতে পারেনি। বিষয়টি তার পরিবার ও স্থানীয় লোকজনকে জানালে তারা শিবাজিতকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

তবে এ মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বনগ্রামের একটি মহল প্রচার চালায় যে, শিবাজিতের বাবার সাথে রূপগঞ্জ এলাকার ব্যবসায়ী খান মোহাম্মদ কবিরের জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাকে (শিবাজিত) হত্যা করা হয়েছে। এ ধরনের প্রচারে গ্রামে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনাকে কেন হত্যাকাণ্ড বলে প্রচার করা হয়েছে, তা নিয়ে গ্রামবাসী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে।

স্থানীয় বাসিন্দা কাজল বিশ্বাস ও মমতা সরকার বলেন, প্রতিপক্ষরা কারোর ইন্ধনে খান কবিরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমাদের এলাকায় খান কবিরের ঘেরসহ জমির ব্যবসা রয়েছে। অনেকে ঘের ও জমির ব্যবসায় ভালো চোখে দেখেন না। এসব ব্যবসা থেকে অবৈধ সুযোগ-সুবিধা নিতে চায় মহলটি। এ ছাড়া খান কবিরের সঙ্গে শিবাজিতের পরিবারের ভালো সম্পর্ক থাকায় বনগ্রামের কতিপয় লোকের চক্ষুশূল হয়েছে। তার (খান কবির) বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের অপপ্রচার চালিয়ে শিবাজিতের পরিবারের সঙ্গে সুসম্পর্ক নষ্ট করতে চায়। শান্তিপ্রিয় গ্রামে অশান্তিও সৃষ্টি করতে চায় তারা। শিবাজিতের পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামে আমরা অশান্তি ও অপপ্রচার চাই না।

শিবাজিতের দাদা রণজিত বিশ্বাস (৫৭) বলেন, শিবাজিত আমাদের পরিবারের আদরের সন্তান ছিল। মৃত্যুর পর আমরা খুবই ভেঙে পড়ি। শিবাজিতের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রামের অনেকে ঘের মালিক খান মোহাম্মদ কবিরকে দোষারোপ করলেও প্রকৃতপক্ষে তিনি (কবির) আমাদের আপনজন। আমাদের খুব ভালোবাসেন। তার (কবির) বিরুদ্ধে আমরা কোনো অপপ্রচার করতে চাই না। শিবাজিত গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা গেছে।

মুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ অধিকারী বলেন, বনগ্রামের বাসিন্দারা আমাকে জানিয়েছেন, শিবাজিত পানিতে ডুবে মারা গেছে। অহেতুক কোনো লোকের নাম জড়িয়ে মিথ্যা অপপ্রচার আমি সমর্থন করি না।

এ ব্যাপারে খান মোহাম্মদ কবির বলেন, শিবাজিতের মৃত্যু নিয়ে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচার চালানো হয়েছে। বনগ্রাম এলাকায় আমার ঘের ও জমির ব্যবসা থাকায় একটি মহল হয়ত বিষয়টি ভালো চোখে দেখছেন না। তারা আমার মানসম্মান ক্ষুণ্ন করতে শিবাজিতের মৃত্যু নিয়ে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। অথচ শিবাজিতের মৃত্যু খবর শুনে আমি নিজেই ভ্যান ঠিক করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছি।

নড়াইল সদর থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি শিবাজিত পানিতে ডুবে মারা গেছে। যেহেতু শিবাজিতের মৃত্যু নিয়ে অভিযোগ উঠেছে, তাই ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে তার (শিবাজিত) মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।