নিজস্ব প্রতিবেদক : ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে আসনের দুটি সংসদীয় আসনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হয়েছে। এতে যশোর-২ আসনে জামায়াত ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদসহ সাত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। একইসাথে চার প্রার্থীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। তাদেরকে মনোনয়নপত্রের তথ্য হালনাগাদের জন্য সময় দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের প্রথম দিন শেষে এ সিদ্ধান্ত দেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশেক হাসান।
বৃহস্পতিবার সকালে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যশোর-১ ও যশোর-২ আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। যাচাই বাছাইয়ে যশোর-১ (শার্শা) আসনে সাত প্রার্থীর মধ্যে তিনজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। বিএনপির দলীয় মনোনয়নপত্র জমা না দেয়া মফিকুল হাসান তৃপ্তি, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে ত্রুটি থাকায় শার্শা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান জহির ও আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহজাহান আলী গোলদারের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এই আসনে দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে তথ্যের ঘাটতি থাকায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান লিটন ও জাতীয় পার্টি মনোনীত জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। তাদেরকে হালনাগাদ তথ্য সরবরাহের জন্য সময় দেয়া হয়েছে। যশোর-১ আসনে মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত মুহাম্মদ আজীজুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বক্তিয়ার রহমান।
যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে ১০ প্রার্থীর মধ্যে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে চার প্রার্থীর। ব্যাংক ঋণ (ক্রেডিট কার্ড) সংক্রান্ত জটিলতায় জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ডা. মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, দলীয় মনোনয়নপত্র জমা দিতে না পারায় বিএনপির মোহাম্মদ ইসহাক ও জহুরুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী মেহেদী হাসানের মনোনয়নপত্রে এক শতাংশ ভোটারের তথ্যে ত্রুটি থাকায় বাতিল হয়েছে। এই আসনে বিএনএফ মনোনীত প্রার্থী শামসুল হকের মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর ও টিআইএন তথ্য ও জাতীয় পার্টি মনোনীত ফিরোজ শাহ’র টিআইএন ও ব্যাংক ঋণ সংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদের জন্য সময় দেয়া হয়েছে।
যশোর-২ আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন-বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবিরা সুলতানা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইদ্রিস আলী, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ’র ইমরান খান, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) রিপন মাহমুদ।
এ ব্যাপারে যশোর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন- বৃহস্পতিবার দুটি আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকী আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। ৪ জানুয়ারির মধ্যে ৬টি আসনের যাচাই বাছাই সম্পন্ন হবে।
তিনি আরও বলেন, যশোর-২ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের ব্যাংক ঋণ সংক্রান্ত (ক্রেডিট কার্ড) জটিলতায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তিনি প্রার্থিতা ফিরে পেতে নিয়মানুযায়ী আপিলের সুযোগ পাবেন।
মনোনয়নপত্র বাতিল প্রসঙ্গে যশোর-২ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ জানিয়েছেন- ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত বিষয়টি অনেক আগের। তবে ইতোমধ্যে এর সমাধান হয়েছে। তাই প্রাথমিক বাছাইয়ে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হলেও তিনি আপিল করবেন। এবং যেহেতু সমস্যার সমাধান হয়েছে তিনি মনোনয়ন ফিরে পাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
যশোর জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলায় ৬টি সংসদীয় আসনে ৪৬ জন মনোনয়ন দাখিল করেছেন। এর মধ্যে বিএনপি থেকে ১০জন, জামায়াতে ইসলামীর ৬জন, স্বতন্ত্র ১০জন, ইসলামী আন্দোলনের ৬জন, জাতীয় পার্টি ৬জন, বিএনএফ, বাসদ, জাগপা, সিপিবি, খেলাফত মজলিস ও মাইনরিটি জনতা পার্টি থেকে একজন, এবি পার্টির ২ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এর আগে ৬টি আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন ৭১ জন প্রার্থী।