খাজুরা (যশোর) প্রতিনিধি: ঘটির কাটায় তখন সকাল ১০টা বেজে ১৪ মিনিট। প্রত্যাহিক সমাবেশ প্রায় শেষের দিকে। এমন সময় একটি প্রাইভেটকার নিয়ে বিদ্যালয় চত্বরে প্রবেশ করলেন তিনি। নিজের পরিচয় দিলেন। শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে। এরপর প্রত্যেক শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দিলেন ক্যালেন্ডার (বর্ষপঞ্জি) আর চকলেট। তাও একটি নয়, দুটি করে চকলেট। আর শিক্ষকদের করালেন মিষ্টিমুখ। এমন চিত্র দেখা গেছে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার সেকেন্দারপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগ নিয়েছেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক ও চিত্রা মডেল কলেজের সভাপতি শামীম আকতার। তার দেয়া বর্ষপঞ্জি ও চকলেট উপহার পেয়ে শিক্ষার্থীরা যেমন খুশি হয়, তেমন আনন্দ-উল্লাসও করে। শামীমের এই ইতিবাচক কাজের কথা এখন সবার মুখে মুখে। কর্মসূচির প্রথমদিনে বন্দবিলা ইউনিয়নের ৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় আড়াই হাজার শিক্ষার্থীর মাঝে উপহার বিতরণ করেন তিনি। চকলেট পেয়ে চিৎকার করে ওঠা শিশু শিক্ষার্থীদের একজন বন্দবিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির মিম খাতুন। সে বলে, ‘আজগে আমি দুখোন চক্কেট (চকলেট) পাইছি। কেন্ডার (ক্যালেন্ডার) পাইছি।’ মির্জাপুর আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘এই ধরনের উদ্যোগ শিক্ষাব্যবস্থার একটি অংশ হয়ে উঠেছে। যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভালোবাসা ও সহযোগিতার মনোভাব বাড়াতে সাহায্য করে।’ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক ও চিত্রা মডেল কলেজের সভাপতি শামীম আকতার বলেন, ‘শিশুদের মুখে হাসি ফুটাতে এবং একে অন্যের প্রতি ভালোবাসা ও সহমর্মিতা ছড়িয়ে দিতে এমন উদ্যোগ হাতে নিয়েছি। এটি বৈষম্যহীনতার বার্তা দেয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আনন্দময় জাগয়া হিসেবে গড়ে তোলে। যা তাদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করে তোলে।’ বৃহস্পতিবার দিনভর চলা কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বন্দবিলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান ও সিনিয়র সহসভাপতি আনোয়ার হোসেন ভূট্টো।