স্পন্দন ডেস্ক : জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘নিজের ছেলে-মেয়েদের বিদেশের মাটিতে লেখাপড়া করাবেন। নিজে দেশ প্রেমিকের অভিনয় করবেন। সেটি আমরা আর দেখতে চাই না। দেশ প্রেমিক হলে সব কাজে দেশপ্রেমিকের পরিচয় বাস্তবে দিতে হবে, মুখে নয়। মুখের কথা জনগণ এখন আর বিশ্বাস করে না।’ শুক্রবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় লাকসাম স্টেডিয়ামে উপজেলা জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনি জনসভা তিনি এসব কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘ঘরে ঘরে কার্ড বিতরণ হচ্ছে। নাম তার ফ্যামেলি কার্ড। কোনো জায়গায় বলা হচ্ছে দুই হাজার, কোন জায়গায় ৭ হাজার। আবার কোনো জায়গায় ২০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। এ ফ্যামেলি কার্ড দেওয়া হবে মায়ের হাতে, বাবার হাতে না কী চমৎকার? এক হাতে ফ্যামেলি কার্ড, আরেক হাতে মায়ের গায়ে হাত। আহ, বাংলাদেশের মানুষকে এতো বোকা মনে করছেন? সবায় নিজের বুঝটা ভাল করেই বুঝে। আমরা এ অনিরাপদ বাংলাদেশ আর দেখতে চায় না।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘৫ তারিখে পটপরিবর্তনের পর যারা জুলাই মানেন না, যারা সংস্কার মানেন না, যাদের চরিত্র পাল্টায়নি তাদেরকে দিয়ে কী নতুন বাংলাদেশ গড়া সম্ভব? ১৩ তারিখ নতুন বাংলাদেশ পাওয়ার জন্য ১৮ কোটি মানুষ মুখিয়ে আছে। যারা এখনই ফ্যাসিবাদের আচরণ করেছে জাতীর সঙ্গে তাদের দিয়ে কী ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশ গড়া যাবে? যাবে না। ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশ গড়াতে হলে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার সাহস যাদের আছে তাদেরকে বেঁচে নিতে হবে। এ সাহস আল্লাহর মেহেরবানি জামায়াত ইসলামীর আছে।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘দফায় দফায় জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দকে মিথ্যা অভিযোগে সাজানো সাক্ষী, পাতানো আদালত দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। জামায়াত কারো কাছে মাথা নতো করে নাই। কারো দয়া অনুকম্পা কামনা করে নাই। হাজার কর্মী সহকর্মীকে হারিয়েছে, মাথা নত করে নাই। কোনো চোখ রাঙানিকে পরোয়া করে নাই। দেশ ছেড়েও পালাযনি।’
তিনি বলেন, এদেশ আমাদের ঠিকানা। আমাদের কোনো মামা-খালুর দেশ নাই, বেগম পাড়া নাই। আমাদের পাড়া একটাই, এটি আমার গর্বর বাংলাদেশ। শুধুকি তাই, হাঁসি কাশি হলেই ওই নেতারা দেশে ছেড়ে অন্যদেশে চলে যায়, চিকিৎসার জন্য। দেশ প্রতি কোনো আস্থা নাই। অথচ তারাই কেউ না কেউ বাংলাদেশ শাসন করেছেন।’
এ সময় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাছুম, জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণের মুখ্য সমন্বয়ক ও কুমিল্লা-৪ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি সাদিক কাউয়ুম, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির মুহাম্মদ শাহজাহান অ্যাডভোকেট, কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনে জামায়াতের প্রার্থী ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ড. ছৈয়দ এ কে এম সরওয়ার উদ্দীন ছিদ্দিদ্দি, কুমিল্লা-১০ আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা ইয়াছিন আরাফাত, লাকসাম পৌরসভা জামায়াতে ইসলামীর আমির জয়নাল আবেদীন পাটোয়ারীসহ জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের উপস্থিত ছিলেন।