নিজস্ব প্রতিবেদক, মহেশপুর : লাঠিতে ভর দিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছেন সখিনা খাতুন (৭২)। বয়সের ভার, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কোনোটাই থামাতে পারেনি তার নাগরিক অধিকার প্রয়োগের অদম্য ইচ্ছাকে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর আবার নিজের ভোট নিজে দিতে পেরে চোখে মুখে ছিল তৃপ্তির ঝিলিক।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে ঝিনাইদহের মহেশপুর পৌর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে আসেন তিনি। সখিনা খাতুন মহেশপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। খুব ভোরেই বাড়ি থেকে বের হন, যাতে লাইনে দাঁড়িয়ে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন।
কেন্দ্রে প্রবেশের সময় তাকে সহযোগিতা করেন স্বজন ও দায়িত্বরত স্বেচ্ছাসেবীরা। লাঠিতে ভর দিয়ে ধীরে ধীরে লাইনে দাঁড়িয়ে নিজের পালার অপেক্ষা করেন তিনি। ভোট দেয়ার পর বেরিয়ে এসে আবেগ আপ্লুত কণ্ঠে বলেন, অনেক বছর পর ভোট দিতে পারলাম। শরীর ভালো না, হাঁটতে পারি না ঠিকমতো। তবু মনে সাহস ছিল ভোট তো আমার অধিকার। আল্লাহ সহায় হইছে, তাই আসতে পারছি।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন অসুস্থতা ও শারীরিক দুর্বলতার কারণে ভোটকেন্দ্রে আসতে পারেননি। কিন্তু এবার মন থেকে ইচ্ছা ছিল, যেভাবেই হোক ভোট দেবেন।
স্থানীয়রা জানান, সখিনা খাতুন দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। হাঁটাচলায় সমস্যা থাকায় লাঠির সাহায্য ছাড়া চলতে পারেন না। তবু ভোটের দিনে তাকে কেন্দ্রে উপস্থিত হতে দেখে অনেকেই আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন।
কেন্দ্রে দায়িত্বরত এক আনসার সদস্য বলেন, এই বয়সে ও শারীরিক অবস্থায় এসেও ভোট দিতে আসা সত্যিই অনুপ্রেণাদায়ক। তাকে সহযোগিতা করতে পেরে ভালো লেগেছে।
ভোট কেন্দ্রের পরিবেশ ছিল শান্ত ও সুশৃঙ্খল। সকাল থেকেই নারী-পুরুষের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ও বয়স্ক ভোটারদের জন্য আলাদা সহায়তার ব্যবস্থাও রাখা হয়।
সখিনা খাতুনের মতো প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী একজন নারীর এই উপস্থিতি যেন ভোটের দিনের চিত্রে যোগ করেছে আলাদা মানবিক মাত্রা। নাগরিক দায়িত্ব পালনে তার এই দৃঢ়তা অনেকের কাছেই হয়ে উঠেছে অনুপ্রেণার গল্প।