সাতক্ষীরা ও আশাশুনি প্রতিনিধি : সাতক্ষীরা জেলার -এর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিজয় কুমার জোয়ার্দারসহ তার পরিবারের পাঁচজনের বিরুদ্ধে স্ত্রী নির্যাতন ও যৌতুক দাবির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী স্ত্রী মুক্তি সরকার (৩৫) বাদী হয়ে গত ৪ মার্চ মামলাটি দায়ের করেন (মামলা নম্বর-২)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে আদালতের মাধ্যমে এবং পরবর্তীতে ২০২২ সালে পারিবারিকভাবে হিন্দু ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী বিজয় কুমার জোয়ার্দারের সঙ্গে মুক্তি সরকারের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর থেকে বিজয়ের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আসবাবপত্র ও স্বর্ণালঙ্কারসহ প্রায় ৬ লাখ টাকার উপঢৌকন প্রদান করে মুক্তির পরিবার। তবে সম্প্রতি নিজ গ্রামে বাড়ি নির্মাণের জন্য বিজয়ের পক্ষ থেকে নতুন করে আরও ৫০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এজাহারে বলা হয়েছে, যৌতুকের টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় মুক্তি সরকারের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু হয়। এছাড়া অতীতে তার অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাকে গর্ভপাত করতে বাধ্য করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এ নিয়ে শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে চিকিৎসার জন্য তিনি ভারতের চেন্নাইয়ে যান।
ভারত থেকে ফিরে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি তিনি আশাশুনিতে এসিল্যান্ডের সরকারি বাসভবনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় আবারও যৌতুকের দাবিতে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ২৪ ফেব্রুয়ারি সকালে তাকে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে -এ ভর্তি করা হয়।
মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন আশাশুনি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিজয় কুমার জোয়ার্দার (৩৭), ফাগুনী সুমি কাসারী (২৫), উষা রাণী জোয়ার্দার (৬৫), পরিমল কুমার জোয়ার্দার (৭০) ও পরিতোষ কুমার জোয়ার্দার (৩২)। এজাহারে দ্বিতীয় আসামির সঙ্গে বিজয় কুমার জোয়ার্দারের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ও দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগও আনা হয়েছে।
মামলাটি (সংশোধনী-৩) এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় নথিভুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।
এ বিষয়ে অভিযোগের সত্যতা জানতে বিজয় কুমার জোয়ার্দারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।