মারুফ কবীর : ঈদ কিংবা,যে কেনো সামাজিক অনুষ্ঠান; পুরুষদের কাছে পাঞ্জাবিই সেরা। বছর জুড়েই নানা উৎসবে পুরুষের পোশাকে পাঞ্জাবির কদর সবার আগে। ঈদের নামাজ ছাড়াও দাওয়াত কিংবা ঘুরাঘুরিতে স্বাচ্ছন্দের পোশাকের তালিকায় এখন পাঞ্জাবি। ব্যবসায়ীরা জানান, এক সময় ঈদে সাদা কিংবা অফ-হোয়াইট পাঞ্জাবির চলন ছিলো। এখন ফ্যাশন ট্রেন্ডে এসেছে পরিবর্তন। ভারি নকশার তুলনায় হালকা কাজ করা পাঞ্জাবির জনপ্রিয়তা বেড়েছে। ফ্যাশন হাউসগুলো তাই হালকা কাজের পাঞ্জাবি কালেকশনে রেখেছে। ভারি কাজ করা পাঞ্জাবি তাই কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে। কোনো পাঞ্জাবি হাঁটু ছাড়িয়ে গেছে, কোনটা আবার হাঁটু পর্যন্ত পৌঁছাতে পৌঁছাতেই শেষ হয়ে গেছে। ব্যবসায়ীরা আরও বলেন, রেডিমেটের পাশাপাশি অনেকে পাঞ্জাবি তৈরি করে পরেন। তাই টেইলার্স কারিগরদের পাঞ্জাবি তৈরি করতে ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গেছে। এছাড়া অনেকে অনলাইনে অর্ডার করে কিনছেন পাঞ্জাবি। নেটে বিভিন্ন সাইড স্ক্রল করে, ছবি দেখে পছন্দ করে সিলেক্ট করছেন পছন্দের পাঞ্জাবি। ঈদে শুধু পাঞ্জাবি কিনলেই হয় না,পাঞ্জাবির সঙ্গে চাই মানানসই আনুষঙ্গিক জিনিস। ঈদে পাঞ্জাবির সঙ্গে ট্র্যাডিশনাল পায়জামা অথবা সেমি-ফিটেড ট্রাউজারই বেশ জনপ্রিয়। অনেকেই আবার পাঞ্জাবির সঙ্গে বেছে নিচ্ছেন জিন্স। কালেক্টরেট মসজিদ মার্কেটের পাঞ্জাবি হাউজের প্রোপাইটর আতাউর রহমান বলেন, এবারের ঈদে হালকা কাজের সুতি পাঞ্জাবির চাহিদা বেশি। আরামদায়ক বলে ক্রেতারা এটাই বেছে নিচ্ছেন বলে জানান এ ব্যবসায়ী। জেলা পরিষদ মার্কেটের পোশাক ব্যবসায়ী শেখ ফিরোজ বলেন, রমজান মাসের শুরুতে শীতের একটা আবহ থাকলেও যত দিন গড়াচ্ছে, বাড়ছে তাপমাত্রা। ধারণা করা যাচ্ছে, ঈদের সময়টাতেও রোদ থাকবে চড়া। ফলে ঈদের পাঞ্জাবি হিসেবে সবার পছন্দের তালিকায় থাকছে হালকা রঙের সুতির পাঞ্জাবি। সুতির পাশাপাশি সিল্ক, লিনেন, রেমি কটনের চাহিদাও আছে। পাঞ্জাবি কর্ণারের বিক্রয় কর্মী আরমান বলেন,পবিত্র রমজানের আগে থেকেই ঈদের নতুন পাঞ্জাবি কেনার হিড়িক পড়ে যায়। ফ্যাশন হাউসগুলোর মতে, দুই ঈদেই বিক্রি হয় বছরের প্রায় ৮০ ভাগ পাঞ্জাবি। মুজিব সড়ক ভিআইপি মার্কেটের রুপকথা শোরুমের বিক্রয়কর্মী রুহুল আমিন বলেন, পুরুষদের পাশাপাশি তরুণী ও গৃহিনীরাও পাঞ্জাবি কিনতে আসছেন। আবিদ হাসান নামে এক ক্রেতা বলেন, অন্যান্য পোশাকেরর সাথে ঈদে পুরুষদের কাছে পাঞ্জাবির কদর বেশি। তিনি আরর বলেন, ঈদ,পহেলা বৈশাখসহ বভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে পাঞ্জাবি চল বেড়েছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, ৫শ’ থেকে ১০ হাজার টাকা দামের পাঞ্জাবি রয়েছে ঈদ বাজারে। এবারের ঈদে ২ থেকে ৪ হাজার টাকা দামের পাঞ্জাবির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তবে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা মূল্যের পাঞ্জাবিও উল্লেখযোগ্য হারে বিক্রি হচ্ছে। কারুকাজ করা শর্ট পাঞ্জাবি ও লং পাঞ্জাবি ৯শ’ থেকে ২ হাজার , মটকা ও সিল্কের পাঞ্জাবি ২ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি পাঞ্জাবির সঙ্গে মানানসই পায়জামা বিক্রি হচ্ছে ৩শ’ থেকে ১৫শ’ টাকার মধ্যে। দাম নিয়ে রয়েছে ক্রেতাদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া।