স্পন্দন ডেস্ক : রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে বাস তলিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও অনেকে। নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছে কুষ্টিয়ার শৈলকুপা উপজেলার বাসিন্দা নুরুজ্জামানের স্ত্রী ও এক সন্তান। নুরুজ্জামান বুধবার রাত ১০টার দিকে বলছিলেন, ঈদের ছুটি শেষে ঢাকার ফেরার জন্য তিনি, তার স্ত্রী ও দুই সন্তান কুষ্টিয়া থেকে সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটিতে চড়েছিলেন। পথে বেশ কয়েকটি জায়গায় আরও যাত্রী ওঠেন। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে আসার পর নুরুজ্জামান তার ছোট সন্তানকে নিয়ে বাস থেকে নেমে যান। স্ত্রী বড় সন্তানকে নিয়ে গাড়িতেই ছিলেন। গাড়িটি তখন ফেরিতে উঠার জন্য পন্টুনে আসে। নুরুজ্জামান বলেন, “তখনি বাসটি পন্টুন থেকে চলন্ত অবস্থায় নদীতে পড়ে যায়। ভাই, বাসে আমার স্ত্রী-সন্তান ছিল। তারা বের হতে পারেনি।” নুরুজ্জামান স্ত্রী ও সন্তানের খোঁজে দৌলতদিয়া ঘাটেই অবস্থান করছেন। কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা বাসটি দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার অপেক্ষায় ছিল। বুধবার বিকাল সোয়া ৫টার দিকে পন্টুন থেকে বাসটি নদীতে পড়ে তলিয়ে যায়। বুধবার রাতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদরদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীর আনুমানিক ৩০ ফুট গভীরে তলিয়ে যায়। গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের একটি ইউনিট এবং আরিচা স্টেশনের একটি ডুবুরি ইউনিট উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে। ঢাকা ও ফরিদপুর থেকে আরো দুটি ডুবুরি ইউনিট ঘটনাস্থলে যাচ্ছে। উদ্ধার তৎপরতার বিষয়ে জানতে চাইলে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি প্রাণবন্ধু চন্দ্র বিশ্বাস রাতে বলেন, “এখানে প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে। পদ্মা নদী কিছুটা উত্তাল। বাসটি নদীর অনেক গভীরে। ফায়ার সার্ভিস, ডুবুরি দল, উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ সবই আছে। তবে কাজ চালাতে বেগ পেতে হচ্ছে। “এখানে পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌ পুলিশ, ডিসি, এসপি, প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা রয়েছে। মানুষ কিছুটা উত্তেজিত। কারণ, মানুষজন এখনও তাদের স্বজনদের ব্যাপারে কোনো হদিশ পাচ্ছে না।” বাসটি নদীতে পড়ে যাওয়ার বেশ কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে। এর মধ্যে একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে- বাসটি ফেরিতে ওঠার অপেক্ষায় পন্টুনে ছিল। ফেরিটি পন্টুনে যুক্ত ছিল। ফেরিতে যাত্রী ও যানবাহন ছিল। চলন্ত বাসটি মুহূর্তের মধ্যে পন্টুন থেকে নদীতে পড়ে যায়। আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, বাসটি পড়ার মুহূর্তে পন্টুন ও ফেরিতে থাকা লোকজন সেদিকে দৌড়ে যান। বাসটি ডুবে যাওয়ার পর সেখান থেকে কয়েকজন ভেসে ওঠেন। তখন পন্টুন ও ফেরিতে থাকা লোকজন তাদের দিকে রশি ও লাইফবয় ফেলেন। তারা সেটি দিয়ে ধরে ওঠে আসেন।