কেশবপুর প্রতিনিধি: বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, শুধুমাত্র রাজনীতির সংকীর্ণতার কারণে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি থেকে বাংলাদেশের মানুষ বঞ্চিত হয়েছে। খাল খননে জিয়াউর রহমানের নাম সামনে চলে আসবে তাই বিগত সরকার খাল খননের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। কিন্তু আমরা এই অঞ্চলের মানুষের দুঃখ-কষ্টের একটি স্থায়ী সমাধান সূত্র খুঁজে বের করতে চাই। শনিবার বেলা ১০টার দিকে যশোরের কেশবপুর উপজেলার বুরুলি খাল পুনঃখননের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এদিন তিনি বুরুলি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন অংশে খনন কাজের উদ্বোধন করেন তিনি। কপোতাক্ষ নদ সংলগ্ন এলাকায় বছরের পর বছর ধরে জলাবদ্ধতার শিকার মানুষ। এই সংকট থেকে মুক্তি দিতে কপোতাক্ষ নদ ও তৎসংলগ্ন এলাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণ প্রকল্পের আওতায় শুরু হয়েছে বুরুলি খালের তিন কিলোমিটার খনন কাজ। শনিবার বুরুলি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে এ খনন কাজের উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। খনন কাজ উদ্বোধন শেষে তিনি চারাগাছ রোপণ করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, তারেক রহমানের সরকার মানুষের দুঃখ কষ্টের সমব্যাথী। এজন্য এ অঞ্চলের মানুষের সমস্যার সমাধান করতে চায়। বিগত সরকার উন্নয়নের নামে পকেট ভারি না করলে ভবদহের সমস্যার সমাধান এতদিনে হয়ে যেতো। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার এই অঞ্চলের মানুষের দুঃখ, কষ্টের স্থায়ী সমাধান সূত্র খুঁজে বের করতে চাই। এই অঞ্চলের জলাবদ্ধতা দূর করতে ৮১ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদ-নদী পুনঃখনন কাজ চলমান রয়েছে। একইসাথে ভবদহ এলাকায় বিদ্যমান ২১টি অভ্যন্তরীণ খাল পুনঃখননের কার্যক্রম চলমান। প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বর্ষার আগে বাঁধ অপসারণ ও স্লুইচ গেট সচল করার ওপর জোর দেন। যাতে বর্ষার আগে গত বছরের জলাবদ্ধতার কষ্ট অন্তত এবার ৫০ শতাংশ লাঘব করা যায়। একইসাথে সেনাবাহিনী পরিচালিত এই কাজে তরুণ সমাজকে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। যশোরের জেলা প্রশাসক আশেক হাসানের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মামুনুর রশিদ, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন আজাদ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ ব্যানার্জী প্রমুখ। স্থানীয়রা জানান, বুরুলি খালটি পুনঃখনন কাজ সম্পন্ন হলে উপজেলার বুরুলি, পাথরা, পাঁজিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও কৃষ্ণনগর বিলের পানি সহজে আপারভদ্রা নদীতে নিষ্কাশিত হতে পারবে। খালটি পলিতে ভরাট হওয়ায় ওই এলাকার পানি নিষ্কাশিত হতে না পেরে জলাবদ্ধতা হওয়ায় কৃষকরা ফসল উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হতেন। তাদের প্রত্যাশা, এবার হয়তো সত্যিই মুক্তি মিলবে পানিবন্দী জীবন থেকে।