Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

চিকিৎসকের অবহেলায় ডাক্তার ডোরার মৃত্যু, বিচার ও তদন্ত দাবি স্বজনদের

এখন সময়: রবিবার, ২৯ মার্চ , ২০২৬, ১২:৩৪:০৯ এম

নিজস্ব প্রতিবেদক : চিকিৎসকের চরম অবহেলায় ডাক্তার চাঁদ সুলতানা ডোরার মৃত্যুর অভিযোগ তুলে সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে তার পরিবার। শনিবার দুপুরে যশোর প্রেসক্লাবের আরএম সাইফুল আলম মুকুল মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়। উচ্চ জ্বর, বমি, ডায়াবেটিস ও শ্বাসকষ্ট থাকার পরও (পোস্টোপারেটিভ) অস্ত্রোপচার পরবর্তী কেয়ার না পাওয়ার কারণে ডাক্তার চাঁদ সুলতানা ডোরার মৃত্যু হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে পরিবার অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে ডোরার মা শিরিন সৈয়দা বেগম অভিযোগ করেন, গত ২৯ জানুয়ারি রাত ১২টা ৩০ মিনিটে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। তখন তার উচ্চ জ্বর, বমি, ডায়াবেটিস ও শ্বাসকষ্ট ছিল এবং গর্ভের সন্তানের নড়াচড়া কমে গিয়েছিল। তবে প্রথমে চিকিৎসকরা সন্তানের হার্টবিট স্বাভাবিক বলে আশ্বস্ত করলেও পরবর্তীতে আল্ট্রাসনোগ্রামে শিশুটি মৃত বলে জানা যায়। তিনি অভিযোগ করেন, দায়িত্বরত সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডাঃ রেহনুমা জাহান জরুরি অবস্থার পরও রাতে রোগীকে দেখতে আসেননি এবং প্রায় ৯ ঘণ্টা পর সকালে স্বল্প সময়ের জন্য রোগী পরিদর্শন করেন। এ সময় রোগীর পূর্ণাঙ্গ শারীরিক পরীক্ষা বা ঝুঁকি মূল্যায়ন না করেই চিকিৎসা প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, রোগীকে দীর্ঘ সময় স্বজনদের থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা হয় এবং তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে যথাযথ তথ্য দেয়া হয়নি। অভিযোগ অনুযায়ী, রোগীর অবস্থা ধীরে ধীরে অবনতি হলেও তা গোপন রাখা হয় এবং দুপুরে হঠাৎ করে তাকে সংকটাপন্ন অবস্থার কথা জানানো হয়। ডোরার স্বামী ডাঃ মোঃ নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সময়মতো আইসিইউ বা এইচডিইউ সাপোর্ট দেয়া হয়নি এবং প্রয়োজনীয় মনিটরিং ও চিকিৎসায় অবহেলা করা হয়েছে। এমনকি রোগীর গুরুতর সংক্রমণের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও সময়মতো অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া হয়নি বলেও দাবি করা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় একাধিক গুরুতর ত্রুটি, বিলম্ব এবং দায়িত্বহীনতার কারণে ডাঃ ডোরার মৃত্যু হয়েছে। তারা বলেন, একজন চিকিৎসক নিজেই চিকিৎসা নিতে এসে এ ধরনের অবহেলার শিকার হলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়...? এ প্রশ্নও তোলেন তারা। সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো, দায়ী চিকিৎসক ডাঃ রেহনুমা জাহানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা দলের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা এবং তার চিকিৎসা লাইসেন্স বাতিল। সংবাদ সম্মেলনে স্বজনরা আরো বলেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আরও ঘটতে পারে। তারা স্বাস্থ্যখাতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহত ডাক্তার চাঁদ সুলতানা ডোরার মা। অশ্রুসিক্ত নয়নে তিনি বলেন, যশোরের কৃতি সন্তান ডা. ডোরা এই অঞ্চলের মানুষের গর্ব হওয়ার কথা ছিল। তার মেধা ও সেবা দিয়ে সে যশোরের মুখ উজ্জ্বল করত। কিন্তু চিকিৎসা অবহেলার কারণে সে আমাদের মাঝে নেই। এক উজ্জ্বল নক্ষত্রকে অকালেই নিভিয়ে দেয়া হলো। ডাক্তার ডোরার স্বামী নজরুল ইসলাম এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ডাক্তার হয়েও ডাক্তারের বিরুদ্ধে কথা বলছি এটা অপমানজনক। একজন চিকিৎসক নিজেই চিকিৎসা নিতে এসে এ ধরনের অবহেলার শিকার হলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায় ? তিনি আরও বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য বিভাগে অভিযোগ করেছি। তার তদন্ত চলছে। এজন্য আমরা এখনো মামলা করিনি। ডোরার মা শিরিন সৈয়দা বেগম, স্বামী ডাক্তার নজরুল ইসলাম ছাড়াও বাবা শেখ মনসুর উদ্দিন, চাচা শেখ নিজাম উদ্দিনসহ পরিবারের অন্যান্যরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

Ad for sale 100 x 870 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 225 x 270 Position (4)
Position (4)