নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোর সদরের হালসা গ্রামের মাঠ থেকে ৮টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি হয়ে গেছে। গত শনিবার গভীর রাতে একদল চোর সেচের কাজে ব্যবহৃত ৩টি মটরের সঙ্গে সংযুক্ত মোট ৮টি ট্রান্সফরমার চুরি করে নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় ওই মাঠের প্রায় সাড়ে ৫শ’ বিঘা জমির ইরি ধান আবাদ অনিশ্চয়তায় মধ্যে পড়েছে । এ ঘটনায় কোতয়ালি থানায় জিডি করা হয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা। কৃষি কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম ও বিল্লাল হোসেন জানান- বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে আলোচনা হয়েছে এবং সেচ সরবরাহ সচল রাখতে বিকল্প ব্যবস্থা খোঁজা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ট্রান্সফরমার চুরি হওয়াতে মাঠের ধানের জমিতে সেচ দেয়া যাচ্ছে না। ক্ষেতের ধান গাছ শুকিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক কৃষক জানান, মৌসুমের একেবারে শেষ সময়ে এসে এই বিপর্যয় তাদের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে জমিতে পানি দিতে না পারলে ধানের শীষ পূর্ণতা পাবে না এবং ফলন মারাত্মকভাবে কমে যাবে। অনেক ক্ষেত্রে ধান চিটা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। হালসা সমবায় সমিতির সদস্য কৃষক সোনা গাজী জানান- ধান চাষে তারা ঋণ ও ব্যক্তিগত ধার-দেনা করে বিনিয়োগ করেছেন। তাদের সমিতির অধীনে সেচ প্রকল্পের ৪টি বৈদ্যুতিক মিটার চুরি হয়েছে। ফলে ফসল ঘরে তুলতে না পারলে তাদের পথে বসতে হবে। কৃষক নাসির উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় অনেক কৃষক হতাশা ও দুশ্চিন্তায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। স্থানীয়দের হিসাব অনুযায়ী, এই ঘটনায় প্রায় দুই কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। অন্যদিকে জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে বিকল্প হিসেবে ইঞ্জিনচালিত শ্যালো মেশিন ব্যবহার করাও সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কৃষকদের সামনে কোন বিকল্প পথ খোলা নেই। নতুন করে সেচ পাম্প চালু করতে ট্রান্সফরমারসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপনে প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয় হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পক্ষে এই মুহূর্তে এত বড় অঙ্কের অর্থ জোগাড় করা সম্ভব নয়। এলাকার চাষীরা জানান, ট্রান্সফরমার চুরির এটিই প্রথম ঘটনা নয়। এর আগেও একাধিকবার ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। তার কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা দ্রুত ট্রান্সফরমার সরবরাহ ও সেচ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের মতে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো এলাকার কৃষি অর্থনীতিই বড় ধাক্কায় পড়বে।