Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

❒মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে ৯-৪টা অফিস, দোকানপাট বন্ধ ৬টায়

এখন সময়: শুক্রবার, ৩ এপ্রিল , ২০২৬, ১০:৪৩:৪৫ পিএম

স্পন্দন ডেস্ক : বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে রোববার থেকে সরকারি অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকের পর ব্রিফিংয়ে এসে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি এসব তথ্য জানান। এদিন রাত পৌনে ৯টায় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে বৈঠকে বসেন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। বৈঠক চলে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত। নাসিমুল গণি সাংবাদিকদের বলেন, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে ব্যাংক লেনদেন চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত। দোকানপাট ও বিপণিবিতানহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা যাবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে রোববার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। বর্তমানে সরকারি অফিস চলে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। সে হিসাবে অফিস সময় এক ঘণ্টা কমে এল। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার কারণে জ্বালানি সংকটে পড়েছে প্রায় পুরো বিশ্ব। বাংলাদেশও জ্বালারি তেল পেতে দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এর মধ্যেই দেশের বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে তেল মজুদের খবর আসছে। সরকার মজুদদারি ঠেকাতে অভিযান চালাচ্ছে। যুদ্ধের অস্থিরতার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়াও অন্য উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টাও করছে সরকার। সঙ্গে চলছে জ্বালানি সাশ্রয়ের চেষ্টা। সরকারি ব্যয় কমানোর উদ্যোগও নিচ্ছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “আগামী তিন মাস সরকারি ব্যয় কমানো হবে। এ সময়ে কোনো নতুন যানবাহন, জলযান, আকাশযান ও কম্পিউটার সামগ্রী কেনা হবে না। “অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে। সরকারি অর্থায়নে সব বৈদেশিক প্রশিক্ষণ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। সভা-সেমিনারে ব্যয়ও ৫০ শতাংশ কমানো হবে। জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতে সরকারি ব্যয় ৩০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ ব্যয়ও ৩০ শতাংশ কমাতে বলা হয়েছে।” শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে আলাদা নির্দেশনা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় রোববার থেকে আলাদা নির্দেশনা দেওয়া শুরু করবে বলেও জানানো হয়েছে। সব শ্রেণি ও সব প্রতিষ্ঠানের জন্য এক ধরনের সিদ্ধান্ত না নিয়ে আলোচনা করে ধাপে ধাপে নির্দেশনা দেওয়া হবে বলে ব্রিফিংয়ে বলা হয়। এক প্রশ্নের জবাবে নাসিমুল গণি বলেন, “রোববার থেকেই কিছু নির্দেশনা দেওয়া শুরু হবে।” আরেক প্রশ্নে তিনি বলেন, “সব শ্রেণি ও সব প্রতিষ্ঠানের জন্য একই ধরনের ব্যবস্থা হবে না। এ কারণে আলোচনা করে ধাপে ধাপে নির্দেশনা দেওয়া হবে, যাতে শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত না হয়।” বিয়ে-উৎসবে আলোকসজ্জা নয় বিয়ে বা উৎসব উপলক্ষে আলোকসজ্জা নিয়েও কড়াকড়ি আরোপের কথা জানানো হয়েছে। নাসিমুল গণি বলেন, “বিয়ে বা উৎসব উপলক্ষে কোনো ধরনের আলোকসজ্জা করা যাবে না।” দোকানপাট সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত কীভাবে কার্যকর হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নজরদারির ব্যবস্থা থাকবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো এ বিষয়ে কাজ করবে। কতদিন থাকবে এই ব্যবস্থা জ্বালানি সাশ্রয়ের এই পদক্ষেপ কতদিন চলবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। পরিস্থিতি ও সরকারের সক্ষমতা বিবেচনায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে বলে জানানো হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “পরিস্থিতি কত দূর যায়, সেটি দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” খোঁজা হচ্ছে তেলের বিকল্প উৎস সরকারের হিসাব অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ তেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে। যুদ্ধের কারণে সেখানে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আনার উদ্যোগ চলছে। নাসিমুল গণি বলেন, “অন্য উৎস থেকেও আনার চেষ্টা চলছে। মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে সরবরাহ শুরু হয়েছে। কাজাখস্তান থেকেও জ্বালানি আনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।” স্কুল পরিবহনে ইলেকট্রিক বাসে উৎসাহ সরকারি স্কুলে শিক্ষার্থীদের পরিবহনে ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে বৈদ্যুতিক বাস ব্যবহারে উৎসাহ দিতে সুবিধা দিতে চায় সরকার। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “সরকারি স্কুলগুলোতে ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে ইলেকট্রিক বাস ব্যবহারে উৎসাহ দিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। “যেসব স্কুল এ কার্যক্রমে অংশ নেবে, তারা শুল্কমুক্তভাবে বাস আনতে পারবে। বাণিজ্যিক খাতে এ সুবিধা থাকলেও সেখানে ২০ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। তবে পুরনো বাস নয়, শুধু নতুন বাস আনা যাবে।” ‘সরকারের কাজের চাপ বেড়েছে’ সরকারের দপ্তরগুলোতেও কাজের চাপ বেড়েছে মন্তব্য করে নাসিমুল গণি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে কাজের সময় অনেক বেড়ে গেছে।” তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় সরকার সাধারণ মানুষের ওপর চাপ যতটা সম্ভব কমিয়ে আনতে চায়। একই সঙ্গে অবৈধ মজুদ ও কৃত্রিম সংকট তৈরির বিষয়টিও সরকারের নজরে রয়েছে।

Ad for sale 100 x 870 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 225 x 270 Position (4)
Position (4)