কেশবপুর প্রতিনিধি : কেশবপুর উপজেলার গোপালপুর তেল পাম্প এখন সিন্ডিকেটের দখলে। এর মূল হোতা মহীর মেম্বারসহ ৩ জন। বৃহস্পতিবার তারা তেল নিতে আসা একজন ছাত্রকে মারপিট করেছে । মারপিটের বিষয় জানতে গেলে সাংবাদিককে গালিগালাজ হুমকি ও লাঞ্ছিতোর ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে ওই সাংবাদিক বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। কেশবপুর থানার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে- ২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে কলারোয়া থানার গয়ড়া গ্রামের কামরুল ইসলামের ছেলে শোয়েব ১৪ ত্রিমোহিনী ইউনিয়নের গোপালপুর মোড়ে অবস্থিত কপোতাক্ষ ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল নেয়ার জন্য দীর্ঘ সময় সিরিয়াল অনুযায়ী পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতে অপেক্ষা করছিল। তখন সে দেখে সিরিয়াল ভেঙে বিভিন্ন লোকজন সামনের থেকে কয়েকজনের নেতৃত্বে তেল নিয়ে চলে যাচ্ছে, তখন শোয়েব তাদেরকে বলে আমরা দীর্ঘ সময়ে সিরিয়ালের জন্য দাঁড়িয়ে আছি আপনারা যদি এভাবে তেল নিয়ে যান তাহলে আমরা তেল কিভাবে পাব। এই কথা বলাতে সেখানে উপস্থিত বিএনপি নেতা ও ত্রিমোহিনী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোহির উদ্দিন, রুবেল ও মাস্টার আইয়ুব আলী তার উপরে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারপিট করে। বিষয়টা জানার জন্য সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত দৈনিক কালের চিত্রের কেশবপুর প্রতিনিধি মোঃ একরামুল কবির সেখানে পৌঁছে অনিয়ম এবং মারপিটের বিষয় জানতে চাইলে এই সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের একই ব্যক্তিরা তাকেও শার্টের কলার ধরে লাঞ্ছিত ও গালিগালাজ করে। এ সময় এলোপাতাড়ি মারপিট করে তার শরীরে ফোলা জখম করে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে তিনি বাদি হয়ে কেশবপুর থানায় মির্জানগর গ্রামের আনসার ঢালীর ছেলে মোঃ রুবেল হোসেন, মৃত জালাল উদ্দিন এর ছেলে মোহির মেম্বার ও আওয়ামী লীগ নেতা আলীবদ্দিন গাজী (সাবেক মেম্বার) এর ছেলে মাস্টার আইয়ুব আলীকে আসামি করে একটি অভিযোগ দায়ের করেছে। একাধিক গ্রাহক জানান, নিয়ম মেনে সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে থাকি, কিন্তু এই নেতাদের দাপটে তাদের লোকজন সামনের থেকে মহির মেম্বারকে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে তেল নিয়ে চলে যাচ্ছে। স্থানীয়রা আরও বলেন, প্রশাসনের উপস্থিতিতেই এমন ঘটনা ঘটলেও কোনো প্রতিকার মিলছে না। কারণ প্রশাসনও নিয়ন্ত্রণ করছে এই নেতারা। এ বিষয়ে বিবাদী মহির মেম্বারের মোবাইলে বারবার ফোন দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। পাম্প কর্তৃপক্ষের দায়িত্বরত মাসুদের ফোনে বারবার ফোন দিলেও তিনিও রিসিভ করিনি। এ বিষয়ে কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি তদন্ত) মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন লিখিত অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।