সিরাজুল ইসলাম, কেশবপুর : কেশবপুরে তেল পাম্পে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়েছে। এসময়ে অবৈধভাবে মোটরসাইকেল থেকে তেল বের করে বোতলজাত করে মজুদ করার অপরাধে জরিমানা ও মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত উপজেলার তিনটি তেল পাম্পে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে রেজিস্ট্রেশনবিহীন ৮টি মোটরসাইকেল আটক করা হয় এবং সেগুলো কেশবপুর থানা পুলিশের হেফাজতে দেয়া হয়েছে। এ সময় অবৈধভাবে মোটরসাইকেল থেকে তেল বের করে বোতলজাত করে মজুদ করার অপরাধে উপজেলার সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের গোপসেনা গ্রামের বিশ্বজিৎ রায়ের ছেলে হৃদয় রায় (২৪) কে জরিমানা করা হয়। শনিবার রাতে শহরের ত্রিমোহিনী মোড় সংলগ্ন মেহের আলী সুপার মার্কেটের গলির ভেতরে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল থেকে জ্বালানি তেল নামিয়ে বোতলে মজুদ করছিলেন। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেকসোনা খাতুন তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। জ্বালানি তেল মজুদের উদ্দেশ্যে বোতলে রাখার অপরাধে তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালতে হৃদয় রায়কে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। পাশাপাশি জব্দকৃত ৪ লিটার পেট্রোল কেশবপুরের একটি তেল পাম্পে হস্তান্তর করা হয়।
এদিকে কেশবপুর পৌর শহরের মেসার্স এমভি ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল চালকদের উপচে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। থানা পুলিশ পরিবেশ পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করলেও পুলিশ নিরুপায় হয়ে পড়ে। শুধু তাই নয় নিয়োগকৃত ট্যাগ অফিসারকে মোটরসাইকেল চালকরা গালিগালাজ করাই তিনি নিরুপায় হয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। অনেকেই পেশিশক্তি দেখিয়ে পুলিশকে গালিগালাজ করে জোরপূর্বক তেল নিচ্ছে বলে জানাগেছে। পরিশেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেকসোনা খাতুন মহোদয় ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে পরিবেশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করায় মোটরসাইকেল চালকরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং সেনাবাহিনীর সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার পাশাপাশি সাধুবাদ জানিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেখসোনা খাতুন জানান, অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ ও বিক্রির বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।