কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ১১ বছরের নাবালিকা মেয়েকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে ফারুক হোসেন (৪২) কে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে দিয়েছে এলাকাবাসী। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল ৭ টার দিকে কালীগঞ্জ পৌরসভার আংশিক বলিদাপাড়ার শহরের আমজাদ আলী ফাইজুর রহমান মহিলা কলেজের পেছনে এক বাড়িতে। এ ঘটনায় ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অপরদিকে ফারুকের বিরুদ্ধে নিজ নাবালিকা কন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগেও আরো একটি মামলা করেছেন তারই বড় কন্যা। অভিযুক্ত ফারুক এখন পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। ধর্ষণ চেষ্টা নাবালিকা কন্যার বাবার লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ফারুক হোসেন একজন দুষ্টু প্রকৃতির চরিত্রহীন মানুষ। সে শনিবার সকালে তার ১১ বছরের কন্যাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় মেয়ের চিৎকারে তারাসহ আশপাশের লোকজন এসে ফারুককে ধরে ফেলে। ওই কিশোরীর মা জানান, ফারুকের পরিবারের সাথে আমরা একই বাসায় বসবাস করি। ওই বাসায় তিনটি কক্ষ রয়েছে। আমার মেয়ের বয়সী তারও একটি মেয়ে আছে তারা দু’জনই এক কক্ষে রাতে থাকে। লম্পট ফারুক প্রতিদিন কোল্ড ড্রিংস জাতীয় জিনিসের সাথে ঘুমের ঔষধ মিশিয়ে মেয়ে দুটিকে খেতে দেয়। আর রাতে অনৈতিক কাজ করে। এদিকে নিজের বাবার এমন কর্মকান্ডে তার কন্যাও বাবার দেয়া খাবার খেতে আমার মেয়েকে নিষেধ করে দেয়। এতে লম্পট ফারুকের অনৈতিক কাজ বাধাপ্রাপ্ত হলে ওই পাষণ্ড নিজের মেয়েকে হত্যার জন্য ভয়ভীতি দেখায়। এ অবস্থায় শনিবার রাতে জোরপূর্বক অনৈতিক কাজ করতে গেলে তার মেয়ে টের পেয়ে চিৎকার দিলে লোক জানাজানি হয়ে পড়ে। এরপর সকালে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী লম্পট ফারুককে ধরে গণধোলাই শেষে পুলিশে দেয়। অপরদিকে ফারুকের বিরুদ্ধে শনিবার বিকালে নিজের ছোট কন্যাকে ধর্ষণের দায়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ফারুকের বড় কন্যা মীম খাতুন। তিনি বলেন, তার বাবা একজন চরিত্রহীন অমানুষ। যে নিজের কন্যাকে খাবারের সাথে ঘুমের ঔষধ মিশিয়ে ধর্ষণ করতে পারে তাকে মানুষ বলা যায় না। সে যে কাজ করেছে পৃথিবীর কোন বাবার পক্ষেই তা সম্ভব নয়। কাজেই কারও বাবা নয়, পাষন্ড এক নরপিচাশ। তার বিচার হওয়া উচিত।