বিল্লাল হোসেন: যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল থেকে শিশু আয়াত খাতুনের (৭) মরদেহ নিজস্ব গাড়িতে নিয়ে যেতে স্বজনদের বাধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে অ্যাম্বুলেন্স চালকদের বিরুদ্ধে। ঘটনার প্রতিবাদ করায় এক ডিএসবি সদস্যের সাথে মারমুখি আচরণ করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে জরুরি বিভাগের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে কোতোয়ালি থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে আবু সায়েদ মিঠু ও কামাল হোসেন নামে দুই অ্যাম্বুলেন্স চালককে আটক করেছে। স্বজনরা জানান, শিশু আয়াত খাতুন ঢাকা শহরের বাসিন্দা রড মিস্ত্রি আলাউদ্দিনের মেয়ে। তার নানা বাড়ি চৌগাছা উপজেলার মির্জাপুর গ্রামে। সে দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে ভুগছিলো। বৃহস্পতিবার সকালে নানা বাড়ি আয়াতের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বেলা ১১ টার দিকে শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন মারা যায় আয়াত। পরিবারের লোকজন তার মরদেহ নানা বাড়ি নেওয়ার জন্য নিজস্ব গাড়িতে তোলে। এ সময় জরুরি বিভাগের সামনে থাকা কয়েকজন অ্যাম্বুলেন্স চালক নিজস্ব গাড়িতে লাশ নিতে বাধা দেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত ডিএসবি সদস্য সুজন হোসেন ঘটনার প্রতিবাদ জানালে অ্যাম্বুলেন্স চালকরা ক্ষুব্ধ হয়ে তার সাথে মারমুখি আচরণ করেন। পরে অ্যাম্বুলেন্স চালক ও লাশের স্বজনদের মধ্যে হট্টগোল হয়। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিজস্ব গাড়িতে লাশ নিতে স্বজনদের বাধা দেয়ার অভিযোগে আবু সায়েদ মিঠু ও কামাল হোসেন নামে দুই অ্যাম্বুলেন্স চালককে আটক করে। এদিকে,খোঁজ নিয়ে জানা গেছে- জেনারেল হাসপাতালকে ঘিরে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। তারা বাইরের অ্যাম্বুলেন্স অথবা ব্যক্তিগত গাড়িতে লাশ অথবা রেফার্ড করা কোন রোগী নিতে দেয়া হয়না। সিন্ডিকেটের অ্যাম্বুলেন্সে নিতে বাধ্য করা হয়। চক্রের সদস্যরা মানুষকে জিম্মি করে বাণিজ্যে লিপ্ত রয়েছে। যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন জানান, নিজেদের গাড়িতে এক শিশুর লাশ নিতে বাধা দেয়ার ঘটনায় ঘোপের বাসিন্দা আবু সায়েদ মিঠু ও কামাল হোসেন নামে দুই অ্যাম্বুলেন্স চালককে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।