বসুন্দিয়া প্রতিনিধি : অবশেষে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে জন্মসনদ দিতে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করা বাসুয়াড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সেই সচিব আব্দুল আলিমকে। নীতিমালা বহির্ভূত কাজ করে দেয়ার বিনিময়ে মোবাইলফোনে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ এবং একটি ফৌজদারি মামলায় ১৫ দিন কারাভোগের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে । সোমবার (১৭ আগস্ট) যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান স্বাক্ষরিত এক পত্রে আলিমকে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে, নীতিমালাবহির্ভূত কাজ করার জন্য মোবাইল ফোনে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করার বিষয়টি প্রতীয়মান হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) কর্মচারী চাকরি বিধিমালা, ২০১১-এর সপ্তম অধ্যায়ের সাধারণ আচরণ ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত ৪৪ ধারা অনুযায়ী অসদাচরণ, দুর্নীতিপরায়ণতা ও প্রতারণার শামিল এবং দণ্ডনীয় অপরাধ। আরও উল্লেখ করা হয়, আলিম ধলগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদে দায়িত্ব পালনকালে বাঘারপাড়ার আমলী আদালতের সিআর মামলা নং-০৩৪/২৫, স্মারক নং-০৬৪/২৫, তারিখ ২/৭/২০২৫-এর নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে বাঘারপাড়া থানায় মামলা নং-০৫/৭/২০২৫ দায়ের করা হয়। মামলাটি দণ্ডবিধির ৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩০৭/৩০৬(খ)/৩৪ ধারায় করা হয়। ওই মামলায় আঃ আলিম ১৩ জুলাই ২০২৫ আদালতে হাজির হলে তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে তিনি ১৩-২৭ জুলাই পর্যন্ত মোট ১৪ দিন জেলহাজতে ছিলেন। এ কারণে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) কর্মচারী চাকরি বিধিমালা, ২০১১-এর সপ্তম অধ্যায়ের সাধারণ আচরণ ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত ৪০ ধারা অনুযায়ী তাকে প্রশাসনিকভাবে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। শুধু তাই না,বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভূপালী সরকার সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাসুয়াড়ী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আঃ আলিমকে জেলা প্রশাসক স্যার সাময়িক বরখাস্ত করেছেন।’ এদিকে, সাময়িক বরখাস্তের এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালন, আচরণ ও শৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।