মিরাজুল কবীর টিটো ; দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যশোরসহ চার জেলায় শিশুশ্রম নিরসনে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে মোট ৯৩ জন শিশুকে শিশুশ্রম থেকে মুক্ত করা হয়েছে এবং ২০০টি কারখানায় স্থাপন করা হয়েছে ‘শিশুশ্রম মুক্ত’ সাইনবোর্ড। মঙ্গলবার সকালে যশোর কালেক্টরেট ভবনের ‘সনেট’ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা শিশুশ্রম পরিবীক্ষণ কমিটির ২৪তম সভায় এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। জেলা প্রশাসন ও কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় মূল তথ্য উপস্থাপন করেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা ও নড়াইল)-এর উপমহাব্যবস্থাপক আরিফুল ইসলাম। তিনি জানান, উদ্ধারকৃত ৯৩ জন শিশুর মধ্যে সর্বোচ্চ ৬৪ জনকে ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু, শৈলকূপা মোড় বাসস্ট্যান্ড, নতুন বাজার ও হাটখোলা মোড় এলাকার বিভিন্ন কারখানা থেকে উদ্ধার করা হয়। এছাড়া যশোর জেলার বিভিন্ন কারখানা থেকে ২৫ জন এবং মাগুরা সদর এলাকা থেকে ৪ জন শিশুকে শ্রম থেকে মুক্ত করা হয়েছে। এই শিশুদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে ও শিক্ষার আলো দিতে ‘ঠাকুর ফাউন্ডেশন স্কুলে’ ভর্তি করানো হয়েছে। পাশাপাশি এ পর্যন্ত ২০০টি প্রতিষ্ঠানকে শিশুশ্রম মুক্ত ঘোষণা করে সাইনবোর্ড টাঙানো হলেও এখনো ৭টি কারখানাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সভাপতির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) খান মাসুম বিল্লাহ কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যেসব কারখানায় এখনো শিশুশ্রম মুক্ত সাইন বোর্ড স্থাপন করা হয়নি, দ্রুত সেগুলোতে নোটিশ জারি করতে হবে।” এছাড়া যেসব প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের সাপ্তাহিক ছুটি এবং পর্যাপ্ত শৌচাগার বা টয়লেটের ব্যবস্থা নেই, সেগুলোর তালিকা তৈরি করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তদারকি বৃদ্ধির নির্দেশ দেন তিনি। সভায় জেলা শিক্ষা অফিসার মাহফুজুল হোসেন, খুলনা শ্রম অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাহবুব আলম, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক ইকবাল কবীর, বিসিকের (নাসিব) সভাপতি সাকির আলী এবং জেলা পরিবহন সংস্থা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মামুনুর রশীদ বাচ্চুসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।