নিজস্ব প্রতিবেদক : মানব পাচার থেকে ফিরে আসা নারীদের আত্মনির্ভরশীলতা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে যশোরে নারী উদ্যোক্তা নেটওয়ার্ক মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে জেলার বিভিন্ন এলাকার মানব পাচার থেকে ফিরে আসা ১৮ জন নারী অংশ নেন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে শহরের শহীদ স্বপন সড়কের ‘প্রশান্তি নিলয়’-এর কনফারেন্স রুমে মানবাধিকার সংগঠন রাইটস যশোরের আয়োজনে দিনব্যাপী এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের অর্থায়নে এবং উইনরক ইন্টারন্যাশনালের কারিগরি সহযোগিতায় ‘আশ্বাস’ প্রকল্পের চলমান কর্মসূচির আওতায় মিটিংটি আয়োজন করা হয়। দিনব্যাপী কর্মসূচিতে নারী উদ্যোক্তাদের পারস্পরিক সহযোগিতা, ব্যবসার সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরশীলতা এবং সম্মিলিতভাবে এগিয়ে যাওয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী নারীরা তাদের অভিজ্ঞতা, সমস্যা, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। সমাপনী পর্বে নারী উদ্যোক্তা নেটওয়ার্ক কমিটির সভাপতি শরিফা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, যশোরের উপপরিচালক অনিতা মল্লিক। বিশেষ অতিথি ছিলেন ‘আশ্বাস’ প্রকল্পের রিজিওনাল কো-অর্ডিনেটর সুপ্তি দিব্রা। প্রধান অতিথির বক্তব্যে অনিতা মল্লিক বলেন, নারীরা এখন আর সমাজে অবহেলিত নয়। আত্মবিশ্বাস, দৃঢ় মনোবল, পরিশ্রম ও ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে নারীরা জীবনে সফলতা অর্জন করতে পারেন। তিনি নারী উদ্যোক্তাদের সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। মিটিংয়ে মানব পাচার থেকে ফিরে আসা নারীরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্যে ‘নারী উদ্যোক্তা নেটওয়ার্ক’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলার উদ্যোগের কথা জানান। সংগঠনটি কার্যকরভাবে পরিচালনা ও এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করেন তারা। এ সময় বক্তব্য দেন নেটওয়ার্কের সদস্য স্বপ্না খাতুন, নার্গিস খাতুন ও রেখা খাতুন। কর্মসূচিতে ‘আশ্বাস’ প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক এস এম আজহারুল ইসলাম, কেস ম্যানেজার সোশ্যাল সার্ভিস কৃষ্ণা রানী সাহা, সাইকোসোশ্যাল কাউন্সেলর তন্দ্রা দাস ও তাহমিনা আক্তার, টেকনিক্যাল এক্সপার্ট বিপ্লব কুমার রাহা, মনিটরিং অফিসার প্রকাশ কুমার স্বর, রাইটস যশোরের তথ্য কর্মকর্তা ও প্রকল্পের সোশ্যাল মবিলাইজার বজলুর রহমান এবং প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট শ্যামল মল্লিকসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ‘আশ্বাস’ প্রকল্পের ম্যানেজার (ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট) ফাতিমা আফরোজ রুমকি।